হাইকমান্ড থেকে কড়া সতর্কবার্তা পাচ্ছেন মেয়র জাহাঙ্গীর

নিজস্ব প্রতিবেদক: আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে রাজধানীর পার্শ্ববর্তী গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট গাজীপুর মহানগরে বিভক্তি চায় না কেন্দ্র। তাই এ যাত্রায় রক্ষা পাচ্ছেন গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র জাহাঙ্গীর আলম। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া বক্তব্য নিয়ে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব ক্ষুব্দ হলেও কৌশলগত কারণে এখনই জাহাঙ্গীরকে শাস্তির আওতায় আনা হচ্ছে না।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্ব মনে করে সিটি মেয়র হিসেবে জাহাঙ্গীর আলমের গাজীপুরবাসীর কাছে একটি গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। তাই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দলের বিভক্তিকে আরও প্রকট আকার না দিয়ে সতর্কবার্তাতেই আপাতত সংকট মোকাবেলা করতে চায় কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ।

দলের একাধিক নীতিনির্ধারণী নেতা মনে করেন, ঘরোয়া পরিবেশে কথা বলার মধ্য থেকে খণ্ডিত অংশ নিয়ে কারো বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে সরাসরি দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ বা আদর্শ পরিপন্থী মন্তব্য বলা যাবে না। আনুষ্ঠানিকভাবে যদি কেউ কোন সভা সেমিনারে জাতির পিতাকে নিয়ে কোনো মন্তব্য করেন বা দলের শৃঙ্খলা বিরোধী কোনো কর্মকাণ্ড করেন তাহলে তাকে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের যে মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এসেছে তা একটি খন্ডিত অংশ। তাছাড়া দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের স্বার্থেও জাহাঙ্গীর আলমের বিরোধী শক্তি এটিকে ব্যবহার করেছে। পুরো ঘটনা পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, আওয়ামী লীগের বিরোধী শক্তি বিষয়টি নিয়ে যতটা না সুবিধা নিয়েছে তার চেয়ে বেশি সুবিধা নেয়ার চেষ্টা করেছে জাহাঙ্গীর বিরোধী ঘরোয়ানার আওয়ামী রাজনীতিবিদরা।

আগামী ১৯শে নভেম্বর আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠক ডাকা হয়েছে। দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের শনিবার সকালে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে জানিয়েছেন, দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী সারাদেশের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের অভিযোগের বিষয়ে ওই বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এবং মহানগর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলমের ভিডিও দলের নীতিনর্ধারণী সর্বোচ্চ ওই ফোরামে সিদ্ধান্ত হবে।
একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন, জাহাঙ্গীরকে সংগঠন থেকে বাদ দিয়ে এই মুহূর্তে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের এলাকায় দলের বিভক্তি চায় না কেন্দ্র। জাহাঙ্গীর আলম আমি লীগ নেতার পাশাপাশি গাজীপুরের নির্বাচিত সিটি মেয়র। তাই তাকে এই মুহূর্তে সংগঠন থেকে অব্যাহতি দেয়া হলে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা বঞ্চিত হবেন। জনসমাগমসহ যে কোন বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে জাহাঙ্গীর দলের শীর্ষ নেতাদের কাছে নির্ভরযোগ্য।আসন্ন জাতীয় ও সিটি নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি সফল করতে ঢাকার পড়ে গাজীপুর এবং নারায়ণগঞ্জ ইউনিটকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী রাখতে হবে।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.