কুষ্টিয়ার কুমারখালীর ছেঁউড়িয়ায় লালন শাহের আখড়াবাড়ি পরিদর্শনে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম নিক্ষেপ ও তাঁর ব্যবহৃত গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। এ সময় হামলাকারীদের হাতে লাঠিসোঁটা ছিল বলে দাবি করেছেন তাঁর সঙ্গে থাকা নেতাকর্মীরা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়।
আজ রোববার সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
এনসিপি ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ব্যক্তিগত সফরে রোববার কুষ্টিয়ায় যান নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। প্রথমে কুমারখালীর শিলাইদহে রবীন্দ্র কুঠিবাড়ি পরিদর্শন করেন তিনি। পরে সন্ধ্যায় ছেঁউড়িয়ায় লালন শাহের আখড়াবাড়িতে যান। মাজার পরিদর্শন শেষে স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনায় গান শোনেন এবং ফেসবুকে লাইভ করেন।
অনুষ্ঠান শেষে বের হওয়ার সময় দুজন নারী তাঁর সঙ্গে ছবি তুলতে চান। এ সময় তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়া হয় বলে অভিযোগ। এরপর ২০ থেকে ২৫ জন যুবক সেখানে জড়ো হয়ে তাঁকে গালাগাল করতে থাকেন এবং মারধরের জন্য তেড়ে আসেন বলে দাবি করেন তাঁর সঙ্গে থাকা নেতাকর্মীরা।
নাসীরুদ্দীনকে রক্ষায় সঙ্গে থাকা নেতাকর্মীরা তাঁকে ঘিরে রাখেন। এ সময় কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন বলেও দাবি করা হয়েছে। একপর্যায়ে আখড়াবাড়ির প্রধান ফটকের সামনে রাখা তাঁর গাড়িতে ইট নিক্ষেপ করে গ্লাস ভাঙচুর করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, দুই থেকে তিন মিনিটের মধ্যে পুরো ঘটনা ঘটে।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সঙ্গে থাকা ভেড়ামারা উপজেলা এনসিপির সদস্যসচিব শোভন আহমেদ বলেন, ‘আমরা কয়েকজন মিলে ব্যক্তিগতভাবে কুষ্টিয়ার বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ঘুরতে এসেছিলাম। লালন আখড়াবাড়িতে গান শুনে বের হওয়ার সময় এ ঘটনা ঘটে। প্রথমে একজন ডিম ছোড়ে। এরপর ২০ থেকে ২৫ জন যুবক এসে গালাগাল শুরু করে। তারা বলতে থাকে, “তুই এখানে কেন এসেছিস”। একপর্যায়ে লাঠিসোঁটা নিয়ে তেড়ে আসে। আমরা তাঁকে ঘিরে রক্ষা করি। পরে গাড়িতে ইট মেরে গ্লাস ভেঙে দেয়।’
এনসিপি কুষ্টিয়া জেলা শাখার সদস্যসচিব সুলতান মারুফ তালহা এ হামলার জন্য ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, ‘ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা এ হামলা চালিয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা করা হবে।’
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোজাক্কির রহমান রাব্বী। তিনি বলেন, ‘নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলা হয়ে থাকলে তা অবশ্যই নিন্দনীয়। ছাত্রদল মব কালচারের রাজনীতি বিশ্বাস করে না। এ ঘটনার সঙ্গে ছাত্রদল কোনোভাবেই জড়িত নয়। তবে ছাত্রদলের কোনো নেতা বা কর্মী জড়িত থাকলে এর দায় তাঁকেই নিতে হবে।’
ঘটনার সময় এনসিপি কুষ্টিয়া জেলা শাখার আহ্বায়ক জান্নাতুল ফেরদৌস টনিসহ স্থানীয় নেতারা নাসীরুদ্দীনের সঙ্গে ছিলেন। হামলার পর কিছু সময় তিনি মাজার প্রাঙ্গণে অবরুদ্ধ অবস্থায় ছিলেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে। রাত ৮টার দিকে পুলিশ ও স্থানীয় নেতাকর্মীদের সহায়তায় তিনি মাজার প্রাঙ্গণ ত্যাগ করেন।
রাত ৮টার দিকে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার (এসপি) আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘হামলার ঘটনা ঘটেছে। তবে গাড়ি ভাঙচুরের বিষয়টি জানা নেই। তিনি কখন, কেন এসেছেন, সেটা জানতাম না। ঘটনার পর তাঁকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। সেখানে আরও পুলিশ যাচ্ছে।’

