ফার্স্ট লেডি কি চুমু খেলেন কমলার স্বামীকে ?’আমেরিকার সংসদে হইচই

এক জন নিজের আসনের দিকে হেঁটে আসছিলেন। তিনি আমেরিকার ফার্স্ট লেডি। প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের স্ত্রী। জিল বাইডেন। অন্য জন তাঁকে সম্মান জানাতেই উঠে দাঁড়িয়ছিলেন আসন ছেড়ে। তিনি আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসের স্বামী। ডগ এমহোফ। মুহূর্ত পরে ডগ আর জিল মুখোমুখি আসতেই আচম্বিতে বিদ্যুৎ ঝলকানির মতো ঝলসে উঠল চারপাশ। দেখা গেল আমেরিকার ফার্স্ট লেডির ঠোঁট ছুঁয়ে রয়েছে ভাইস প্রেসিডেন্টের স্বামীর ঠোঁট। বিদ্যুতের মতো ঝলক আসলে সেই মুহূর্তকে বন্দি করতে চাওয়া সংবাদমাধ্যমের শ’খানেক ক্যামেরার।

ছবিটি ইতিমধ্যেই ভাইরাল। ভাইরাল হয়েছেন চুম্বনের মুহূর্তের ৮ সেকেন্ডের একটি ভিডিয়োও। তাls দেখা যাচ্ছে ডগের ঠোঁটে ঠোঁট ছুঁইয়ে স্বাভাবিক ছন্দেই তাঁর ঠিক পাশের আসনে এসে বসছেন প্রেসিডেন্ট জো-পত্নী জিল। বাকিরা হাততালি দিচ্ছে। অথচ ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলার পতিদেব ডগ তখনও কিছুটা বিভ্রান্ত। সামান্য থমকে ঘুরে দাঁড়িয়ে তার পর তিনিও হাততালি দিতে শুরু করেন।

ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার ওয়াশিংটনে প্রেসিডেন্ট বাইডেনের স্টেট অফ ইউনিয়ন শীর্ষক বক্তৃতার সময়ে। বক্তৃতা শুরু হওয়ার সময়েই দর্শকাসনে আসনে বসতে আসছিলেন জিল। ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলার স্বামী ডগ যেখানে বসেছিলেন সেই সারিতেই প্রবেশ করেন। ফার্স্ট লেডিকে স্বাগত জানাতে আসন ছেড়ে উঠে দাঁড়িয়ে হাততালি দিচ্ছিলেন দর্শকাসনে থাকা ডেমোক্র্যাটিক সদস্যরা। ডগও উঠে দাঁড়ান। জিল তাঁকে পাল্টা সৌজন্য দেখিয়ে মুখ বাড়িয়ে দিতেই ওই কাণ্ড।

মুহূর্তটির একটি ভিডিয়ো আগুনের গতিতে ছড়িয়ে পড়ে সমাজমাধ্যমে। আমেরিকার শীর্ষ স্তরের রাজনীতিজ্ঞরাও ভিডিয়োটি নিজেদের টুইটারে শেয়ার করেছেন। কেউ লিখেছেন, ‘‘আরে জিল বিডেন কমলার স্বামীকে ঠোঁটে চুমু খেলেন নাকি?’’ কেউ ভিডিয়োটি পোস্ট করে লিখেছেন, ‘‘আরে হচ্ছেটা কী, ‘ফার্স্ট লেডি’ কি ‘সেকেন্ড জেন্টলম্যানকে’ জাতীয় টেলিভিশনের ক্যামেরার সামনে চুমু খেলেন!’’ আমেরিকার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রাক্তন উপদেষ্টা কিলিয়ান কনওয়ে আবার ওই চুম্বনের ছবি পোস্ট করে লিখেছেন, আরে দারুণ ব্যাপার তো! কোভিড সত্যিই শেষ হয়ে গিয়েছে দেখছি।

তথাকথিত উদারনীতির দেশ আমেরিকায় গালে গাল ঠেকিয়ে স্বাগত জানানো প্রচলিত সৌজন্য বিনিময়ের প্রথা। সেই পাশ্চাত্য রীতি অবশ্য এখন অন্যান্য দেশেও উচ্চমহলে চালু রয়েছে। ডেমোক্র্যাটদের একাংশ বলছেন, ব্যাপারটা মনে হয় সেই রকমই সৌজন্য বিনিময়ের মুহূর্তে হঠাৎ ভুলে ঘটে গিয়েছে। যদিও এই ঘটনার পর প্রেসিডেন্ট বাইডেন বা আমেরিকার ভারতীয় বংশোদ্ভূত ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসের তরফে কিছু জানানো হয়নি। হোয়াইট হাউসও বিষয়টি নিয়ে কোনও মন্তব্য করেনি।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.