আমরা তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের কতটা কাছাকাছি 

পলিটিকোর ন্যাশনাল সিকিউরিটির প্রকাশনায় সতর্ক করে বলেছে-বিশ্বের সংঘাতগুলোর মধ্যে যোগসূত্র বহুগুণ বেড়েছে। ফলে সচেতন মহলের অনেকেই ক্রমবর্ধমানভাবে প্রশ্ন তুলেছেন যে, মানবজাতি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে কি-না? এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজা-ই আজকের নিবন্ধের লক্ষ্য।
       বিশ্ববাসী ইতিমধ্যেই দেখছেন, বিশ্বব্যবস্হায় ক্ষমতার ভারসাম্য বদলাতে শুরু করেছে। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরান ক’দিন টিকে থাকতে পারবে, তা নিয়ে অস্পষ্টতা এবং সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছিলো। কিন্তু ইরান টিকে আছে বিশ্বের বৃহত্তম শক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। এর থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট দেখতে পাওয়া যায়, কোনো রাষ্ট্র সবচেয়ে বেশি শক্তিশালী, তা কেউ-ই জানেনা। অর্থাৎ এই প্রশ্নের নির্ভরযোগ্য কোনো উত্তর নেই কারণে অনেক রাষ্ট্র নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে। যেমন, যুক্তরাষ্ট্র অর্থ, অস্ত্র, বানিজ্য ইত্যাদি সবদিক থেকে বিশ্বের এক নাম্বার পরাশক্তি এবং তাই ইরান পরাশক্তির সঙ্গে টিকে থাকা অসম্ভব বলেই মনে করা হতো। কিন্তু এখন কী মনে হয়? ক্ষমতার ভারসাম্য পরিবর্তিত হচ্ছে -এই সাধারণ সত্যিটি মেনে নেওয়ার মানসিকতা থাকলে কোনো রাষ্ট্র তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের শুরু করার ঝুঁকি নিবে বলে মনে হয় না। কিন্তু সংঘাত ও যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে, চলছে দেশে-দেশে।
       গোটা বিশ্বের বিশাল মানবসমাজ ও জনপদই এখন যুদ্ধ বিধ্বস্ত এবং যুদ্ধাক্রান্ত। বর্তমানে কোটি-কোটি মানুষ যুদ্ধের মধ্যেই জীবনযাপন করছেন। প্রতিনিয়তই বিমান হামলায় বা স্থলযুদ্ধে বা অতর্কিত সামরিক অভিযানের মূখে আগ্নেয়াস্ত্রের গোলার আঘাতে মুৃত্যুবরণ করছেন বা আহত হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়তে লড়তে মৃত্যুকে সঙ্গী করে দিনযাপন করছেন বিশ্বের নানা অঞ্চলের অগণন মানুষজন।
          যুদ্ধের সঙ্গে বসবাসকারী জনগোষ্ঠী এবং জনপদগুলোর দিকে একটু ফিরে তাকালে দেখা যায়, গোটা মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংঘটিত যুদ্ধে আক্রান্ত। এছাড়াও ইসরায়েলের দ্বারা লেবানন, সিরিয়া, ইয়েমেন, সুদান, ফিলিস্তিন, গাজা যুদ্ধাক্রান্ত। সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত দ্বন্দ্ব ও সংঘাতে কুয়েত, মিশর ও জর্ডান জড়িত। রাশিয়া এবং ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধ চলছে যেটি ক’বছর পেরিয়ে গেছে। চীন,- উত্তর কোরিয়া-, রাশিয়াকে গোপনে সাহায্য করে চলেছে। পক্ষান্তরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ন্যাটো এবং যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে সর্বপ্রকার সাহায্য করছে।
      এদিকে, রাশিয়ার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র পোল্যান্ড, রোমানিয়া এবং বাল্টিক অঞ্চলের আকাশ সীমা লঙ্ঘন করেছে এবং যুদ্ধ পরিস্থিতি সৃষ্টি করে ওই অঞ্চলে তথা গোটা ইউরোপে যুদ্ধ ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে রাশিয়া।
        তাহলে দেখা যায়, সারা বিশ্বের অধিকাংশ দেশ ও তার জনগণ এখন যুদ্ধের মধ্যেই আছে। বারুদের প্রাচ্যুর্যতার ব্যবহার পরিলক্ষিত হচ্ছে এবং সেগুলো ব্যবহার হচ্ছে গণমানুষের ওপর। কিয়েভের তারাস শেভচেনকো জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক নিকোলাই কাপিটানেনকো পরিসংখ্যান দিয়ে দেখিয়েছেন, ২০২৪ সালে ৩৬ টি দেশে ৬১ টি সশস্ত্র যুদ্ধ- সামরিক সংঘাত সংঘটিত হয়েছে যেটি আগের বছরগুলোর তুলনায় রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। এগুলো বিশ্বজুড়ে যুদ্ধের প্রভাব ও যুদ্ধের বিস্তৃতি ছড়িয়ে দিচ্ছে। বিশেষ করে, মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক চলমান যুদ্ধ “তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের শুরুর বিতর্ককে” পূনরায় উস্কে দিয়েছে, -এমনটাই বলেছেন অধ্যাপক কাপিটানেনকো।(ইন্টারন্যাশনাল পলিটিক্স অ্যান্ড সোসাইটি জার্নালে প্রকাশিত)। ৩.৮.২৪ দ্য উইক ম্যাগাজিন।
         সশস্ত্র ও গোলাবারুদের যুদ্ধ ও নাশকতামূলক  সংঘাতের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ কিছু অ-সশস্ত্র যুদ্ধ অর্থাৎ বানিজ্য, অর্থনৈতিক পুঁজি, প্রযুক্তি এবং ভূ-রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারের যুদ্ধও চলছে রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে এবং এগুলোতে বিশ্বের অধিকাংশ দেশই জড়িত রয়েছে। সম্মিলিতভাবে এই সংঘাতগুলো একটি চিরায়ত বিশ্বযুদ্ধের দিকে ধাবিত করছে বিশ্ববাসীকে, যা অতীতের বিশ্বযুদ্ধগুলোর অনুরূপ বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
          অতীতে ফিরে তাকালে দেখা যায়,  অতীতের বিশ্বযুদ্ধ দুটি সংঘটিত হওয়ার পূর্বাহ্ণে রাষ্ট্রগুলো বর্তমানের ন্যায় নানাবিধ দ্বন্দ্ব, সংঘাত ও রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতায় লিপ্ত ছিলো এবং সেইসঙ্গে রাষ্ট্রগুলো নিজ নিজ অনুকূলের দেশগুলোর সাথে  জোটবদ্ধ হয়েছিলো এবং নিজেদের পক্ষ বেছে নিয়েছিলো এবং বর্তমানের বিশ্বব্যবস্হার দিকে তাকালেও একই চিত্র ভেসে ওঠে। আমরা এখন দেখছি কীভাবে রাষ্ট্রগুলো সংঘাত-সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ছে এবং একমতাবলম্বী দেশগুলো ভবিষ্যতের শত্রুর মোকাবিলায় জোটবদ্ধ হচ্ছে। এ যেন এক চুড়ান্ত রণপ্রস্তুতির মহা-আয়োজনে ব্যস্ত হয়ে ওঠেছে দুনিয়ার তাব্বৎ দেশগুলো। প্রায় প্রতিটি রাষ্ট্র নিজেদের সার্বভৌমত্বের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সাধ্য অনুযায়ী অস্ত্র-মারণাস্হ উৎপাদন বা সংগ্রহে তৎপর রয়েছে আগের বছরগুলোর চেয়ে অনেক বেশি।
        মহাযুদ্ধের দামামা বুঝি প্রত্যেকের দরোজায় এবং  মনোজগতে কড়া নাড়তে শুরু করেছে। বিশ্বের নানা প্রান্তের সংবাদ মাধ্যমগুলো মহাযুদ্ধের আগমনী বার্তা দিয়ে চলেছে। বিজ্ঞ পন্ডিতগণ কলাম লিখেছেন মহাযুদ্ধ শুরু নিয়ে। প্রায় সবার অভিমত হলো, -আঞ্চলিক অসংখ্য যুদ্ধ ও তীব্র সংঘাতগুলোই মহারণে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা এবং ঝুঁকি তৈরি করছে। জাপান টাইমস (১২.৮.২৬) এর নিবন্ধে ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক অড আর্ন রেস্টোড তাঁর বই, দ্য কামিং স্টার্ম: পাওয়ার কনফ্লিক্ট, অ্যান্ড ওয়ার্নিংস ফ্রম হিস্ট্রিতে বিশ্বযুদ্ধ নিয়ে উদ্বেগজনক বিশদ বিবরণ তুলে ধরেছেন। তিনি প্রশ্ন রেখেছেন, আমরা কী বিশ্বযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছি? আলামত যুদ্ধের দিকেই নির্দেশ করছে।
         বহুল পরিচিত আমেরিকান পত্রিকা পলিটিকো ১২. ৩. ২০২৬  এক জরিপের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে লিখিত এক শিরোনামে তথ্য প্রকাশ করে জানিয়েছে, পশ্চিমা দেশগুলোর মানুষেরা মনে করছে – “তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ আসছে।” উল্লেখ্য যে, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স এবং জার্মানী,-এই পাঁচটি পশ্চিমা দেশগুলোতে এই জরিপ চালানো হয়েছিলো। জরিপে অংশ গ্রহণকারীদের ক্রমবর্ধমান সংখ্যক মানুষ মনে করেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ সংঘটিত হওয়ার সম্ভাবনা ও আশঙ্কা রয়েছে।
       বিশেষকরে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে বড় ধরনের যুদ্ধের ঝুঁকি তৈরি করেছে। বিশ্ব আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠেছে,-ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার কারণে। ইরানের নিকট পারমাণবিক অস্ত্র আছে-কী নেই সেটি নিয়ে বিতর্ক এবং সন্দেহ আছে। কিন্তু ইরানের বিরুদ্ধে  যুদ্ধরত ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রাগারে পারমাণবিক অস্ত্র মজুত রয়েছে যথেষ্ট পরিমাণে। ইরানের প্রতিপক্ষ শেষ চেষ্টা হিসেবে ইরানের পরাজয় নিশ্চিত করার পদক্ষেপ নিতে পারে মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালীতে যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানার দাবি প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে ইরানের বিরুদ্ধ একতরফা ভাবে পারমাণবিক অস্ত্র প্রয়োগ করতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন সচেতন মহলের অনেকে।  পারমাণবিক অস্ত্রের ব্যবহারই তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধকে চুড়ান্তের দিকে নিয়ে যাবে বলে মনে করা হয়।
        আমরা দেখতে পাই, তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ সংঘটিত  হওয়ার আরও ক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে। ব্রিটেনের ডেইলি মেইলকে দেওয়া (৩ মার্চ ২০২৬) এক সাক্ষাৎকারে ইউরোপে ন্যাটোর সাবেক ডেপুটি সুপ্রীম অ্যালাইড কমান্ডার রিচার্ড শিরফ মন্তব্য করেছেন পশ্চিমা সামরিক মহলে এমন একটি ধারণা রয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তার লক্ষ্য অর্জনে মধ্যপ্রাচ্যে একটি স্হল যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে এবং ফলস্বরূপ চীন ও রাশিয়া এই স্হল যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতির সূ্যোগ নিতে “বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট করবে না।”
         এই সূযোগে বেইজিং তার বহু আকাঙ্ক্ষিত তাইওয়ান দখল করে নিতে এবং রাশিয়া তার বহু আকাঙ্ক্ষিত ভূখণ্ডগত দাবি পূরণ করতে সামরিক শক্তি প্রয়োগ করার আশঙ্কা রয়েছে। উল্লেখ যে, চীন এবং রাশিয়া পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী। পশ্চিমা নেতারা পুতিনের ভূখণ্ডগত দাবির কারণে সৃষ্ট হুমকি সম্পর্কে বারবার সতর্ক করে চলেছেন।
         যুক্তরাষ্ট্রের ডিফেন্স নিউজের(মে ২০,- ২০২৬) এক প্রতিবেদন থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারীতে অনুষ্ঠিত মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে বক্তব্যে সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী  কিয়ার স্টারমার এই বলে  মন্তব্য করেছিলেন, “যেহেতু বিপদ ক্রমাগত বেড়ে চলেছে,  সেহেতু ইউরোপকে ‘প্রয়োজনে’ রাশিয়ার বিরুদ্ধে, “লড়াই করার জন্য প্রস্তুত থাকতে” হবে। এই মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় পরবর্তীতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনও বলেছিলেন, প্রয়োজনে তিনি ইউরোপের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হতে প্রস্তুত। মে মাসে রাশিয়া এযাবৎকালের বৃহত্তম সামরিক মহড়ার আয়োজন করেছিলো,-যেটিকে দেশটির প্রতিরক্ষার এবং যেকোনো আগ্রাসনের হুমকির ক্ষেত্রে পারমাণবিক অস্ত্রের শক্তি প্রদর্শনের ও ব্যবহারের প্রস্তুতির একটি গুরুত্বপূর্ণ মহড়া বলে অভিহিত করা হয়েছে। ২০ মে ২০২৬ এর ডিফেন্স নিউজ এর এক নিবন্ধে বলা হয়েছে, রাশিয়ার কৌশলগত অস্ত্রশস্ত্র পরাশক্তিদের মধ্যে তার স্হান নিশ্চিত করেছে। এর পারমাণবিক অস্ত্রাগার বিশ্বের বৃহত্তম। ফেডারেশন অব আমেরিকান সায়েন্টিস্ট এর ধারণা রাশিয়ার নিকট বর্তমানে ৪৪০০টি সক্রিয় পারমাণবিক অস্ত্রের মজুত রয়েছে।
       ইন্সটিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ার- থিঙ্ক ট্যাঙ্ক এক প্রতিবেদনে বলেছে যে, মস্কো ভবিষ্যতে “একটি সম্ভাব্য ন্যাটো-রাশিয়া যুদ্ধের” প্রস্তুতি হিসেবে ইউরোপের বিরুদ্ধে তার গোপন ও প্রকাশ্যে আক্রমণ আরও তীব্র করেছে।
        যুদ্ধ ও ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকগণের অনেকেই মনে করেন,  ভূ-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হচ্ছে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এবং যেকোনো ভবিষ্যতের সামরিক সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে তাইওয়ান। কেননা, বেইজিং তাইওয়ানকে চীনের ভূখণ্ডের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে দাবি করে থাকে। যুক্তরাষ্ট্র বরাবরই চীনের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে আসছে এবং ওয়াশিংটন তাইওয়ানের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য সর্বদাই প্রস্তুত এবং এটি বলে আসছে, ওয়াশিংটন যদি কোনো মিত্রকে রক্ষা করতে চায়, তবে সেটি হলো চীনের বিরুদ্ধে তাইওয়ান। বেইজিং জানে তাইওয়ান নিয়ে যেকোনো আগ্রাসন “যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধের ঝুঁকি তৈরি করবে।”
        এছাড়াও আরও বড় উদ্বেগের বিষয় হলো, দক্ষিণ কোরিয়া ও উত্তর কোরিয়া। এই দেশদুটির সীমান্ত হলো বিশ্বের অন্যতম সর্বোচ্চ সামরিকায়িত অঞ্চল। চীনের দ্বারা সমর্থিত উত্তর কোরিয়া আবার পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী। পক্ষান্তরে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থিত দক্ষিণ কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র নেই। দেশটির মূল শক্তি  যুক্তরাষ্ট্র এবং পশ্চিমা দেশগুলো।
           ইন্ডিপেন্ডেন্ট পত্রিকার ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ সংখ্যায় লন্ডনের দ্য স্ট্যান্ডার্ড এর রবার্ট ফক্স লিখেছেন, শুধু তাইওয়ানই নয়, রয়েছে ৫টি সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দু যা ২০২৭ সালে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের শুরু করে দিতে পারে। তিনি লিখেছেন, বিশ্বের ৫টি বারুদখানা বিস্ফোরণের অপেক্ষায় আছে যা ভয়াবহ অবস্থার ঈঙ্গিত।
      ওয়্যার্ডের এক প্রশ্নে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক জাতীয় উপ নিরাপত্তা উপদেষ্টা বেন রোডস বলেন, আমি মনে করি, আমরা তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের খুব কাছাকাছি আছি। (২৪. ০৩. ২০২৬।
          এই নিবন্ধের আলোচনা থেকে আমরা একটি বিষয় স্পষ্ট দেখতে পাই, বিগত দুটি বিশ্বযুদ্ধের অনেকগুলো বৈশিষ্ট্য বর্তমানেও বিদ্যমান রয়েছে। এটিও দেখা যায় যে, বৃহৎ পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশগুলো নিজেদের পক্ষে জোটবদ্ধ হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্য, ইউক্রেন, ইউরোপ, তাইওয়ান, দক্ষিণ চীন সাগর সম্ভাব্য আগামী বিশ্বযুদ্ধ তৈরির কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে। এর এক পক্ষে যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, ইউরোপ, ন্যাটো, ইসরায়েল অন্যান্য।অন্যদিক,চীন, রাশিয়া, উত্তর কোরিয়া অন্যান্য।       শেষের কথা, আমরা বিশ্ববাসী তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের  শুরুর এক আশঙ্কার মধ্যে রয়েছি, যেটি সংঘটিত হলে এই পৃথিবী অস্তিত্ব সংকটে পড়বে।
অ্যাডভোকেট আনসার খান
আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক ।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.