ওমরাহ পালনে গিয়ে হুতিদের হামলায় নিহত কুমিল্লার নাসরুল্লাহ

ওমরাহ পালনের উদ্দেশে সৌদি আরব গিয়ে হুতিদের হামলায় নিহত হয়েছেন মুফতি নাসরুল্লাহ (৩৫)। তিনি কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার ঢালুয়া ইউনিয়নের বদরপুর ওলামা বাড়ির মাওলানা মোহাম্মদ উল্লাহর ছেলে।

নাসরুল্লাহ ঢাকার কামরাঙ্গীরচরের জামিয়া আরাবিয়া রবিউল উলূম মাদরাসার শিক্ষাসচিব ছিলেন। 

নাসরুল্লাহর বড় ভাই মাওলানা আহসান উল্লাহ বদর জানান, তারা চার ভাই ও তিন বোন।

ভাইদের মধ্যে নাসরুল্লাহ ছিলেন তৃতীয়। শনিবার (১০ অক্টোবর) মাদ্রাসার ৪৫ জন শিক্ষক-কর্মচারীকে নিয়ে তার নেতৃত্বে ওমরাহ পালনের উদ্দেশে সৌদি আরবের পথে যাত্রা করেন তিনি।
 

আহসান উল্লাহ বলেন, রিয়াদে পৌঁছে নাসরুল্লাহ জেদ্দাগামী ফ্লাইটের বোর্ডিং পাস সম্পন্ন করেন। দলের সবার দায়িত্বে থাকায় তিনি সামনে অবস্থান করছিলেন।

তার ১০ থেকে ১৫ হাত সামনে একটি ক্ষেপণাস্ত্র এসে পড়ে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। 

তিনি আরও বলেন, ঘটনার পর থেকে নাসরুল্লাহর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে ধর্ম মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ দূতাবাসের পক্ষ থেকে তার খোঁজ নেওয়া হয়। রোববার বিকেল ৪টার দিকে তার মৃত্যুর খবর জানতে পারেন পরিবারের সদস্যরা। যে ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে তিনি সৌদি আরব গিয়েছিলেন, সেই প্রতিষ্ঠানের মালিক তাদের কাছে নাসরুল্লাহর মৃত্যুসনদ পাঠান।

নাসরুল্লাহর মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন তাঁর বড় ভাই। একই সঙ্গে নাসরুল্লাহর তিন সন্তানের জন্য যথাযথ ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

আহসান উল্লাহ বলেন, শিশুসহ তার তিনটি সন্তান রয়েছে। আমরা সবাই তার জন্য দোয়া চাই।

নাসরুল্লাহর বাবা মোহাম্মদ উল্লাহ বলেন, গতকাল বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর সে যোগাযোগ করেছিল। এরপর থেকে আর কোনো যোগাযোগ ছিল না। পরে আজ (রোববার) বিকেলে তার মৃত্যুর খবর পাই। আমরা তার লাশ দেশে আনার অপেক্ষায় আছি।

নাঙ্গলকোট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু রায়হান বলেন, খবর পাওয়ার পর নিহতের পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দিয়েছেন তিনি। নাসরুল্লাহর লাশ দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.