হল ছয় ছাড়াই নতুন সাজে ফ্রাঙ্কফুর্ট বইমেলা

আইরিন পারভিন খান:একটি আন্তর্জাতিক বইমেলায় পরিচিত ভাষার বই কিংবা নিজের অঞ্চলের কোনো প্রকাশকের স্টল খুঁজে পাওয়ার আনন্দ আলাদা। চারপাশের অসংখ্য অপরিচিত নামের মধ্যে সেখানে একটু থামা যায়, প্রশ্ন করা যায়, বই নিয়ে কথা বলা যায়। ফ্রাঙ্কফুর্ট বইমেলায় দক্ষিণ এশিয়ার প্রকাশনা ও ইংরেজি বইয়ের সন্ধানে যাওয়া বাংলাভাষী পাঠকের কাছে ছয় নম্বর হলের গুরুত্ব বোঝার জন্য এই অনুভূতিটিই যথেষ্ট। এবারের মেলায় সেই হল ব্যবহার করা হচ্ছে না। পরিচিত প্রকাশক ও আয়োজনগুলোকে তাই খুঁজে নিতে হচ্ছে নতুন ঠিকানায়।

৭ থেকে ১১ অক্টোবর আয়োজিত ২০২৬ সালের ফ্রাঙ্কফুর্ট আন্তর্জাতিক বইমেলায় এই পরিবর্তন বিশেষভাবে চোখে পড়ার মতো। ভবনের কাঠামোগত পরীক্ষা ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত পরিস্থিতি বিবেচনায় আয়োজকেরা এ বছর হল ৬ ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত নেন। তবে মেলাকে নতুনভাবে সাজানোর পরিকল্পনা আগে থেকেই চলছিল। হলটি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তের পর সেই পরিকল্পনায় আরও কিছু পরিবর্তন আনতে হয়েছে।

হল ছয়ের সঙ্গে এই পরিচয়ের কারণ বুঝতে গত বছরের মানচিত্রে একবার চোখ রাখা যায়। ২০২৫ সালের অফিসিয়াল মানচিত্র অনুযায়ী, হল ৬.০-তে আন্তর্জাতিক প্রদর্শকদের মধ্যে ইংরেজিভাষী দেশ ও দক্ষিণ এশিয়ার প্রকাশকদের একটি অংশ ছিল। ৬.১-এ আন্তর্জাতিক প্রকাশকদের পাশাপাশি ছিল কমিকস ও গেমসের ব্যবসায়িক কেন্দ্র এবং পেশাগত কাজের টেবিল। ওপরের স্তর ৬.২-এ ছিল Literary Agents & Scouts Centre এবং Publishers Rights Centre। সাহিত্য এজেন্ট, স্কাউট ও প্রকাশকদের স্বত্ববিষয়ক বৈঠকের জন্য এই দুটি কেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ।

অর্থাৎ একই ভবনে বিভিন্ন দেশের বই দেখা, প্রকাশকের সঙ্গে পরিচিত হওয়া এবং একটি বই অন্য ভাষা বা বাজারে পৌঁছানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনার পরিসর ছিল। হল ছয়ের গুরুত্ব তাই তার আয়তনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না।

বাংলাভাষী পাঠকের দৃষ্টিতে দক্ষিণ এশিয়ার প্রকাশনার উপস্থিতি বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। এই অঞ্চলের নানা ভাষার সাহিত্যে পাওয়া যায় কাছের মানুষের জীবন, ইতিহাস, সমাজ ও সংস্কৃতির প্রসঙ্গ। পার্থক্যের মধ্যেও অনেক পরিচিত অভিজ্ঞতা চোখে পড়ে। দূরের একটি আন্তর্জাতিক মেলায় সেই বইগুলোর সামনে দাঁড়ানো নিজের সাংস্কৃতিক পরিসরের সঙ্গে নতুন করে পরিচিত হওয়ার সুযোগ এনে দিতে পারে।

ইংরেজিভাষী প্রকাশকদের উপস্থিতিও যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। ইংরেজিতে স্বচ্ছন্দ বাংলাভাষী পাঠকের পক্ষে কোনো বইয়ের বিষয় জানতে চাওয়া, লেখক সম্পর্কে আলোচনা করা কিংবা অনুবাদের সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলা তুলনামূলক সহজ হয়। বহু ভাষার সমাবেশে পরিচিত একটি ভাষা কথোপকথনের পথ খুলে দেয়। দক্ষিণ এশিয়ার বইয়ের নৈকট্য এবং ইংরেজির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক যোগাযোগের সুযোগ, এই দুই দিক থেকে হল ছয়কে আমাদের পাঠ-আগ্রহের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা যায়।

এই সংযোগের কথা মনে রাখলে এবারের পরিবর্তনের তাৎপর্যও বোঝা যায়। পরিচিত স্টল বা প্রকাশককে খুঁজতে যাঁরা অভ্যাসবশত হল ছয়ের দিকে যেতেন, তাঁদের এবার নতুন মানচিত্র দেখতে হবে।

সেই নতুন মানচিত্রে পরিচিত আয়োজনগুলোর ঠিকানা এখন কিছুটা বদলে গেছে। এবারের পরিকল্পনায় হল ৬.০-তে যাঁদের থাকার কথা ছিল, তাঁদের Festhalle-তে সরানো হয়েছে। ৬.১ ও ৬.২-এর নির্ধারিত আন্তর্জাতিক প্রদর্শকদের নতুন অবস্থান হল ৪.২। ফলে আন্তর্জাতিক প্রকাশকদের খোঁজে ৪.২ এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ ঠিকানা।

তবে গত বছরের ঠিকানা থেকে এবারের ঠিকানায় পৌঁছানোর মাঝেও পরিকল্পনা বদলেছে। ২০২৫ সালে সাহিত্য এজেন্ট ও প্রকাশকদের স্বত্ববিষয়ক কেন্দ্র দুটি ছিল ৬.২-এ। ২০২৬ সালের প্রাথমিক পরিকল্পনায় তাদের জন্য ৪.২ নির্ধারিত হয়েছিল। পরে হল ছয়ের আন্তর্জাতিক প্রদর্শকদের ৪.২-এ স্থান দেওয়ায় কেন্দ্র দুটি সরানো হয়েছে ১.২-এ। একই পুনর্বিন্যাসে হল ৬.২-এর জন্য নির্ধারিত Comics Business Centre ও কাজের টেবিলগুলো সরেছে ৩.১-এ।

সামগ্রিকভাবে এবারের আন্তর্জাতিক প্রদর্শকেরা রয়েছেন ৩.১, ৪.২ ও ৫.১-এ। এশিয়া ও ইংরেজিভাষী দেশের প্রকাশকদের অংশ রয়েছে ৪.২ এবং ৫.১-এ; আরব বিশ্বের প্রকাশকদের অংশ ৫.১-এ। ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চল, লাতিন আমেরিকা ও আফ্রিকার দেশগুলোর প্রকাশকদের অবস্থান ৩.১-এ। দক্ষিণ এশিয়ার কোনো নির্দিষ্ট প্রকাশককে খুঁজতে হলে প্রদর্শকতালিকায় তাঁর নাম দেখে বর্তমান হল ও স্টল নম্বর মিলিয়ে নেওয়াই সবচেয়ে কার্যকর।

এতগুলো বদলে যাওয়া ঠিকানার কথা শুনে যাঁরা কখনো ফ্রাঙ্কফুর্ট বইমেলায় যাননি, তাঁদের একটু দ্বিধা হতেই পারে। কোন হলের পরে কোন হল, সংখ্যার পাশে আরেকটি সংখ্যা কেন, কোথায় গিয়ে কার সঙ্গে দেখা হবে? জায়গাটিকে একটি বড় স্কুল বা পরিচিত প্রতিষ্ঠানের মতো কল্পনা করলে এই প্রশ্নগুলোর উত্তর সহজ হয়ে আসে। সেখানে আলাদা কাজের ঘর আছে, মিলনায়তন আছে, আর মাঝখানে আছে সবার দেখা হওয়ার উঠান।

মেলাপ্রাঙ্গণের সেই কেন্দ্রীয় খোলা চত্বরটির নাম Agora। মানচিত্রে প্রথমে এটি খুঁজে নিয়ে চারপাশের ভবনগুলো দেখলে মেলার সামগ্রিক বিন্যাস বোঝা সহজ হয়। হলের সংখ্যাগুলোও ঘরের ঠিকানার মতো। যেমন ৩.০ হলো ৩ নম্বর হলের নিচের স্তর, ৩.১ তার ওপরের স্তর। একইভাবে ৪.০, ৪.১ ও ৪.২ একই ভবনের ভিন্ন স্তর নির্দেশ করে।

এই ঘরগুলোর মধ্যে কাজের ভাগও রয়েছে। এবারের বিন্যাসে সাধারণ পাঠকের জন্য প্রধান প্রকাশনা ও আয়োজনগুলো নিচের স্তরে, আর আন্তর্জাতিক ব্যবসা ও পেশাগত কাজের বড় অংশ ওপরের স্তরগুলোতে। বই দেখতে আসা একটি পরিবার এবং স্বত্ব নিয়ে বৈঠকে বসতে আসা একজন প্রকাশকের প্রয়োজন আলাদা। পরিকল্পনায় দুজনের জন্যই উপযুক্ত পরিবেশ রাখার চেষ্টা করা হয়েছে।

মানচিত্রের এই পরিচয়টুকু নিয়ে এবার বই দেখতে বেরোনো যাক। সাধারণ পাঠকের সামনে প্রধান চারটি ঠিকানা: হল ৩.০, ৪.০, ৫.০ এবং Festhalle। এগুলোকে একটি বড় বইপাড়ার চারটি ঘর হিসেবে ভাবা যায়। প্রতিটির বিশেষ পরিচয় রয়েছে, আবার কথাসাহিত্য, নন-ফিকশন ও তরুণ প্রাপ্তবয়স্ক পাঠকদের New Adult ধারার বই একাধিক অংশে ছড়িয়ে আছে।

৩.০-তে রয়েছে শিল্প, স্থাপত্য, ডিজাইন, শিক্ষা ও স্বাধীন প্রকাশনার মতো ক্ষেত্র। ৪.০ শিশু-কিশোরের বই, কমিকস-মাঙ্গা, ফ্যান্টাসি ও অডিওবুকের গুরুত্বপূর্ণ ঠিকানা। এই হলের Imagination Stage-এ পাঠ, গল্প শোনা ও অংশগ্রহণমূলক আয়োজনের সুযোগ রাখা হয়েছে।

৫.০-তে রয়েছে অপরাধ ও রহস্যকাহিনির Crime World, আত্মোন্নয়ন এবং ভ্রমণবিষয়ক অংশ। এখানকার Discovery Stage-এ বই পরিচিতি, পাঠ ও আলোচনা রয়েছে। ফলে শিশুদের বই দেখতে আগ্রহী কেউ ৪.০ থেকে শুরু করতে পারেন; রহস্যকাহিনি বা ভ্রমণের বই খুঁজতে আসা পাঠকের প্রথম গন্তব্য হতে পারে ৫.০। শুরুতেই পুরো মেলা চিনে নেওয়ার প্রয়োজন নেই। নিজের আগ্রহের একটি জায়গা থেকেই পরিচয় শুরু হতে পারে।

এই বইপাড়ার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ঠিকানা Festhalle। হল ৬.০-এর জন্য নির্ধারিত প্রদর্শকদের স্থান দেওয়ার পাশাপাশি এখানে রয়েছে Community Stage। তরুণ পাঠকদের আগ্রহকে সামনে রেখে এখানে New Adult, ফ্যান্টাসি, গেমিং ও সমকালীন জনপ্রিয় সংস্কৃতির বিষয়ে আলোচনা ও অংশগ্রহণমূলক আয়োজন রাখা হয়েছে। বইয়ের গল্প কীভাবে অন্য মাধ্যমেও বিস্তৃত হয়, সেই যোগাযোগের জায়গাও তৈরি করে এই মঞ্চ।

একই ভবনের Steinerner Saal-এ রয়েছে নতুন Creator Lounge। Frankfurter Buchmesse ও প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান Bastei Lübbe-এর যৌথ আয়োজনে এই জায়গায় প্রেস-পাসধারীরা তুলনামূলক শান্ত পরিবেশে কনটেন্ট তৈরি, কাজ এবং ফোন চার্জ দেওয়ার সুযোগ পাবেন। ঘোষিত সময় অনুযায়ী এটি শুক্রবার বেলা দুইটা থেকে রবিবার বিকেল চারটার মধ্যে তাঁদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। এটি সাধারণ দর্শকের বিশ্রামাগার নয়; সংবাদমাধ্যম ও কনটেন্ট নির্মাতাদের কাজের প্রয়োজন বিবেচনায় রাখা একটি নির্ধারিত পরিসর।

পাঠকের বই দেখার এই পরিসর থেকে ওপরের স্তরগুলোর দিকে তাকালে মেলার আরেক ধরনের ব্যস্ততার পরিচয় পাওয়া যায়। সেখানে পেশাগত আলোচনা, বৈঠক ও যোগাযোগের জন্য বিভিন্ন ক্ষেত্র একত্র করা হয়েছে। হল ১.২-এ রয়েছে সাহিত্য এজেন্ট ও স্কাউটদের কেন্দ্র এবং Publishers Rights Centre। হল ৪.১-এ রয়েছে একাডেমিক প্রকাশনা, আন্তর্জাতিক শিক্ষা, প্রকাশনা পরিষেবা, Audio Business Centre ও Knowledge Hub।

এখানে যাঁরা বৈঠকে বসেন, তাঁদের কথাবার্তার সঙ্গে জড়িয়ে থাকে একটি বইয়ের পরবর্তী যাত্রা। একটি দেশে লেখা বই অন্য ভাষায় প্রকাশিত হতে পারে, নতুন বাজারে পৌঁছাতে পারে কিংবা চলচ্চিত্র বা অন্য মাধ্যমে রূপান্তরিত হতে পারে। এসব সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করা মানুষের প্রয়োজন নির্দিষ্ট বৈঠকের জায়গা ও মনোযোগী আলোচনার পরিবেশ। মেলার পেশাগত পরিসর সেই প্রয়োজনের সঙ্গে সম্পর্কিত।

বই দেখা আর প্রকাশনার কাজের এই নানা ঠিকানা ঘুরে আবার কেন্দ্রের খোলা চত্বর Agora-র দিকে ফেরা যাক। শুক্রবার থেকে রবিবার এখানে রয়েছে Meet the Author আয়োজন। আগে Festhalle-তে থাকা এই অংশ এবার আবার কেন্দ্রীয় চত্বরে ফিরেছে। পাশাপাশি নতুন Buchmesse-Areal-এ বসা, বিশ্রাম নেওয়া ও গল্প ভাগ করে নেওয়ার জায়গা রাখা হয়েছে। বসার আসনগুলোতে ১৪টি ভাষায় সেই আমন্ত্রণ রয়েছে।

নানা দেশের মানুষের সমাবেশে এমন একটি জায়গার গুরুত্ব সহজেই বোঝা যায়। কোনো আলোচনা শেষে সেখানে বসে কথা বলা যায়, পরিচিত কারও জন্য অপেক্ষা করা যায় কিংবা একই বইয়ে আগ্রহী আরেকজনের সঙ্গে আলাপ শুরু হতে পারে। বড় মেলায় একটি কেন্দ্রীয় মিলনস্থল মনে রাখতে পারলে চারপাশের বিস্তৃত পরিসরও কিছুটা পরিচিত লাগে।

কাছের Forum ভবনের ওপরের স্তর Forum 1-এ রয়েছে এবারের সম্মানিত অতিথি দেশ চেকিয়ার উপস্থাপনা। নিচের Forum 0-তে ARD, ZDF ও 3sat-এর আয়োজন। ফলে Agora ও Forum-কে মনে রাখলে মেলার কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক পরিসরের দুটি গুরুত্বপূর্ণ ঠিকানা চেনা হয়ে যায়।

এই চত্বর, মঞ্চ আর বসার জায়গাগুলোকে পাশাপাশি ভাবলে বোঝা যায়, এত বড় মেলায় মানুষ কীভাবে একে অন্যের কাছাকাছি আসতে পারেন। একই প্রাঙ্গণে উপস্থিত থাকার সঙ্গে পরিচয় হওয়ার একটি পার্থক্য আছে। আলাপ শুরু করার উপলক্ষ চাই, কিছু সময় থামার জায়গাও চাই। চারটি প্রধান পাঠককেন্দ্রিক হলে নিজস্ব মঞ্চ রাখার ভাবনায় সেই প্রয়োজন জায়গা পেয়েছে।

একই লেখকের কথা শুনতে এসে পাশাপাশি বসা দুই পাঠকের আলোচনা শুরু হতে পারে একটি বই থেকে। পেশাগত কোনো অনুষ্ঠানের পরে একজন প্রকাশক আরেকজনের সঙ্গে পরিচিত হতে পারেন। কমিকস, অডিওবুক বা ফ্যান্টাসির প্রতি একই আগ্রহও আলাপের সূত্র হতে পারে। মেলার বিন্যাস এই সাক্ষাৎগুলো নিশ্চিত করে না, তবে তার জন্য উপযুক্ত জায়গা তৈরি করতে পারে।

আবার কারও সঙ্গে আগে থেকেই দেখা করার ইচ্ছা থাকলে সেই পরিকল্পনায় সাহায্য করে মেলার অ্যাপ, অনলাইন অনুষ্ঠানসূচি ও প্রদর্শকতালিকা। পছন্দের অনুষ্ঠান, বক্তা ও প্রকাশক সংরক্ষণ করা যায়। ইন্টারঅ্যাকটিভ মানচিত্র গন্তব্যে যাওয়ার পথ দেখায়। ফলে পরিচিত কাউকে শুধু মেলায় আসতে বলার বদলে একটি নির্দিষ্ট হল, স্টল বা মঞ্চে দেখা করার কথা বলা সম্ভব।

অবশ্য নতুন বিন্যাস মানেই ভিড় ও অপেক্ষা পুরোপুরি দূর হবে, এমন নয়। জনপ্রিয় আয়োজনের জন্য আলাদা অপেক্ষার জায়গাও রাখা হয়েছে। দর্শকদের চলাচল সুসংগঠিত করা এবং বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা বাস্তবে কতটা কার্যকর হচ্ছে, তা বোঝা যাবে অংশগ্রহণকারীদের অভিজ্ঞতায়।

বাংলাভাষী পাঠকের কাছে এবারের মানচিত্র তাই বিশেষভাবে কাজে লাগতে পারে। হল ছয়ের সঙ্গে যুক্ত দক্ষিণ এশিয়ার প্রকাশনা ও ইংরেজিভাষী বইয়ের জগৎ খুঁজে পাওয়ার জন্য এখন নতুন ঠিকানাগুলো জানা প্রয়োজন। পরিচিত হলটি ব্যবহার হচ্ছে না, কিন্তু বইকে ঘিরে পরিচয় ও কথোপকথনের সুযোগ মেলার অন্য অংশে রয়েছে। মানচিত্রের একটি সংখ্যা, প্রকাশকের একটি নাম কিংবা নির্দিষ্ট মঞ্চের ঠিকানা ধরে সেই সংযোগ আবার খুঁজে নেওয়া যায়।

তথ্যসূত্র: ফ্রাঙ্কফুর্ট বইমেলার অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ও ২০২৫–২০২৬ সালের হল-মানচিত্র (buchmesse.de); মেলার পরিচালক ইয়ুর্গেন বোসের সাক্ষাৎকার, Publishing Perspectives, ৮ জুলাই ২০২৬।

আইরিন পারভিন খান

সহযোগী সম্পাদক, শুদ্ধস্বর ডটকম

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.