সাকিবকেই বিশ্বকাপের টুর্নামেন্ট সেরা ঘোষণা করলো ক্রিকইনফো

আশা নয়, বলা চলে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের প্রাথমিক লক্ষ্যই ছিলো বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল খেলা। কিন্তু ভারতের কাছে হেরে শেষ হয়ে যায় সে সম্ভাবনা। সেমির স্বপ্ন ভঙ্গ হওয়ার পর আশা ছিলো পাকিস্তানের বিপক্ষে জিতে অন্তত বিশ্বকাপের সমাপ্তিটা ইতিবাচকভাবে করা।

কিন্তু কিসের কি! ক্রিকেটের মক্কাখ্যাত ঐতিহাসিক লর্ডসে পাকিস্তানের কাছে যেন পাত্তাই পেল না মাশরাফি বিন মর্তুজার দল। পারলো না বিশ্বকাপের শেষটা মনের মতো করতে। হতাশাজনক বোলিং-ফিল্ডিংয়ের পর ব্যাটিংটাও আশানুরূপ না হওয়ায়, শেষ ম্যাচের ফলটাও এসেছে নেতিবাচক।

বিশ্বকাপের প্রায় সকল ম্যাচেই নিসঙ্গ নাবিক ছিলেন সাকিব আল হাসান। একা হাল ধরে এগিয়েছেন। কিন্তু কাউকে সঙ্গী হিসেবে পাননি।

এবারের বিশ্বকাপে সাকিব মাঠে নামা মানেই রেকর্ড বইয়ে আমূল পরিবর্তন। ব্যক্তিগতভাবে কতগুলো রেকর্ড হচ্ছে, সে হিসাব প্রতি ম্যাচেই রাখতে হচ্ছে। পাকিস্তানের বিপক্ষে ফিফটি করে বিশ্ব ক্রিকেটের কিংবদন্তি শচীন টেন্ডুলকারের অনন্য এক রেকর্ডও ছুঁয়েছেন।

এদিকে বিশ্বকাপের সেরা একাদশ বাছাই করেছে আইসিসি। তাদের এই একাদশে একমাত্র বাংলাদেশি হিসেবে জায়গা পেয়েছেন সেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান।

বিশ্বকাপে ব্যাট-বলে হাতে দারুণ ছন্দে ছিলেন সাকিব। ৮ ম্যাচে ৮৬.৫৭ গড়ে ব্যাট হাতে ৬০৬ রান করেছেন তিনি। পাশাপাশি বল হাতে ১১ উইকেট শিকার করেছেন বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডার। অলরাউন্ডার হিসেবে বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়া সাকিবকে তাই দলে রেখেছে আইসিসি।

সকল বাংলাদেশী ও অনেক ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরাই ভেবেছিলেন এবারের বিশ্বকাপে টুর্নামেন্ট সেরার ট্রফিটা উঠবে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের হাতে। কিন্তু সেই স্বপ্ন ভঙ করে দিয়ে দৃঢ় নেতৃত্ব আর দারুন ব্যাটিংয়ে টুর্নামেন্ট সেরার পুরুষ্কার জিতেছেন কিউই অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন। তবে সাকিবকেই বিশ্বকাপের প্লেয়ার অব দ্য সিরিজ ঘোষণা করেছে জনপ্রিয় ক্রিকেট পোর্টাল ইউএসপিএন ক্রিকইনফো।

গতকাল তাদের অফিসিয়াল ইউটিউব ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজেদের পেজে বিশ্বকাপের প্লেয়ার অব দ্য সিরিজ নির্বাচনের একটি ভিডিও প্রকাশ করে ক্রিকইনফো। যেখানে ক্রীড়া বিশ্লেষক হিসেবে উপস্হিত ছিলেন কিউই সাবেক অধিনায়ক অলরাউন্ডার ডেনিয়েল ভেট্টরি। তিনি বিশ্বকাপে সাকিবের অলরাউন্ডার পারফরম্যান্সের কারনে তাকে প্লেয়ার অব দ্য সিরিজ নির্বাচন করেন।

সাকিবকে প্লেয়ার অব দ্য সিরিজ নির্বাচনের পেছনে ব্যাট হাতে সাকিবের দারুস পারফরম্যান্স। ৭ টি ফিফটি প্লাস স্কোর যেখানে ২ টি শতক ও ৫ টি অর্ধশতকের কথা তুলে ধরা হয়। সব মিলিয়ে ৬০৬ রান নিয়ে সর্বোচ্চ ৮৬.৫৭ গড়ে রানের দিক থেকে সেরা তিনে ছিলেন সাকিব।

অন্যদিকে বল হাতেও দুর্দান্ত ছিলেন এই অলরাউন্ডার। তার ৮ ম্যাচ বোলিংয়ে ১১ উইকেটের কথাও তুলে ধরা হয়। সেই সাথে ইতিহাসে প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে এক বিশ্বকাপ ১০ উইকেট ও ৬০০+ রানের রেকর্ড গড়া সাকিবের সেই কীর্তি ও তুলে ধরেন তারা। এসবের ভিত্তিতে সাকিবকেই টুর্নামেন্ট সেরা ঘোষণা করে ক্রিকইনফো।

শুদ্ধস্বর/এন

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.