রুশ কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, হামলার বড় অংশের লক্ষ্য ছিল রাজধানী মস্কো ও এর আশপাশের এলাকা। মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন জানান, রাজধানীর দিকে প্রায় ৬০০টি ড্রোন পাঠানো হয়েছিল। এর মধ্যে অন্তত ২০১টি ড্রোন মস্কো অঞ্চলে ভূপাতিত করা হয়।
হামলায় মস্কোর কাছে কোলেদিনো এলাকায় রাশিয়ার অনলাইন খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ওয়াইল্ডবেরিজের একটি বড় গুদামে আগুন ধরে যায়। ঘটনাস্থল থেকে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা যায়। সেখানে কয়েকজন আহত হওয়ার খবরও পাওয়া গেছে।
মস্কো অঞ্চলের গভর্নর আন্দ্রেই ভোরোবিয়ভ জানান, ড্রোন হামলায় ৮৩ বছর বয়সী এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। রাশিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় রোস্তভ অঞ্চলেও হামলায় পাঁচজন নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছেন স্থানীয় গভর্নর। বেলগোরোদ অঞ্চলে একটি যাত্রীবাহী বাসে ড্রোন হামলায় আরও একজন নিহত হয়েছেন।
ওয়াইল্ডবেরিজের গুদামটি মস্কোর কেন্দ্র থেকে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। ইউক্রেন এর আগে অভিযোগ করেছে, প্রতিষ্ঠানটির কিছু সরবরাহ ও পরিবহনকেন্দ্র রুশ সামরিক বাহিনীর প্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহে ব্যবহৃত হচ্ছে। সর্বশেষ হামলায় প্রতিষ্ঠানটির একাধিক লজিস্টিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে ইউক্রেনীয় পক্ষ দাবি করেছে।
এদিকে ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরেও রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা হয়েছে। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, এসব হামলায় বেশ কয়েকজন নিহত ও আহত হয়েছেন। কিয়েভসহ বিভিন্ন এলাকায় আবাসিক ও বেসামরিক স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে দুই দেশই একে অপরের ভূখণ্ডে দূরপাল্লার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে আসছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেন রাশিয়ার ভূখণ্ডের আরও গভীরে ড্রোন হামলা জোরদার করেছে।

