অপর্ণা রায় দাসকে ঘিরে ভণ্ড চক্রের নগ্ন ষড়যন্ত্রের খণ্ডন বাংলাদেশের রাজনৈতিক মাঠ যখন জনগণের অধিকার ও স্বাধীনতার জন্য আন্দোলিত, তখনই কিছু চিহ্নিত অশিক্ষিত, অজ্ঞ এবং জামাতপন্থী চক্র নিজেদের দেউলিয়া রাজনীতির পরিচয় দিতে শুরু করেছে। সম্প্রতি তারা বিএনপি নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের কন্যা অপর্ণা রায় দাসকে টার্গেট করে একটি নোংরা অপপ্রচারে মেতে উঠেছে।
মূর্খতার চূড়ান্ত পরিচয় দিয়ে তারা দাবি করছে, অপর্ণা রায় দাস নাকি ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর (RAW) স্টেশন ম্যানেজার রাজেশ অগ্নিহোত্রীর সাথে কোনো “চুক্তিতে” আবদ্ধ! এমন হাস্যকর ও বেহুদা প্রচারণা শুনলেই বোঝা যায়—এরা ইতিহাস বোঝে না, রাজনীতি বোঝে না, এমনকি ধর্মীয় ও কূটনৈতিক সৌজন্যের ন্যূনতম ধারণাটুকুও রাখে না।
বাস্তবতা হলো, রাজেশ অগ্নিহোত্রী বাংলাদেশে ভারতীয় হাই কমিশনের মিনিস্টার পদমর্যাদার কূটনীতিক। প্রতি বছর দুর্গাপূজার সময় ঢাকেশ্বরী, রমনা কালী মন্দিরসহ দেশের শীর্ষ মন্দিরগুলোতে বিদেশি অতিথিরা কূটনৈতিক রীতির অংশ হিসেবে উপস্থিত থাকেন। এবছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি। কোনো ব্যক্তিগত বা গোপনীয় সম্পর্কের বিষয় ছিল না — ছিল রাষ্ট্রীয় সৌজন্য রীতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ।
অপর্ণা রায় দাস, একজন স্বনামধন্য নারী, যিনি রমনা কালী মন্দিরের পূজা উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক এবং পূজা নিরাপত্তা কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সরাসরি সহযোগিতায় পূজার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। কোনো “চুক্তি” নয়, এটি ছিল মাটির দেশের মাটির সন্তানদের দায়িত্ব পালন। এ সময় অপর্ণা রায় দাস এর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয় তবে যোগাযোগ হয়নি আবার রমনা কালী মন্দিরের এক প্রত্যক্ষদর্শী, পূজা উদযাপন কমিটির একজন সদস্য জানান, “সেদিন রাজেশ অগ্নিহোত্রী মন্দিরে এসেছিলেন শুভেচ্ছা বিনিময় করতে, মন্দির পরিদর্শন করতে এবং পূজা উদযাপনের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য ধন্যবাদ জানাতে। পুরো সময় মন্দির কমিটির নেতৃবৃন্দের সাথে ছিলেন, কোনো একান্ত বা গোপন বৈঠক তো দূরের কথা, ব্যক্তিগত কোনো কথাবার্তাও হয়নি।
কিন্তু কিছু হতাশাগ্রস্ত, রাজনৈতিকভাবে নিরুপায়, ইতিহাস বিকৃতিকারী গোষ্ঠী — যারা দেশের স্বাধীনতার শত্রু ছিল এবং আজও রয়ে গেছে — তারা নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে অপর্ণা রায় দাসের মতো সম্মানিত ব্যক্তিদের উপর হামলা করছে। এদের ভাষা মিথ্যার, এদের অস্ত্র গুজবের। এরা নিজেরাই নিজেদের রাজনৈতিক দেউলিয়াপনার সাক্ষর দিচ্ছে। সচেতন বাংলাদেশিরা জানেন: যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধ্বংস করতে চেয়েছিল, যারা ধর্মের নামে মানুষ হত্যা করেছিল, তারাই আজ সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভ্রান্তি ছড়িয়ে নতুন প্রজন্মকে ধোঁকায় ফেলতে চাইছে। এদের অপপ্রচারের দাঁতভাঙা জবাব দিতে হবে। বিভ্রান্তি ছড়ালে তাদের চিহ্নিত করে সামাজিকভাবে প্রত্যাখ্যান করতে হবে। মিথ্যাকে ধ্বংস করে সত্যের বিজয় আনতে হলে আমাদের সবাইকে সোচ্চার হতে হবে।
অপর্ণা রায় দাস শুধু একজন রাজনৈতিক নেতার কন্যা নন, তিনি বাংলাদেশের অসাম্প্রদায়িক চেতনার এক উজ্জ্বল প্রতিনিধি। তাকে ছোট করতে গিয়ে যারা বাংলাদেশের ধর্মীয় সম্প্রীতির মেরুদণ্ডে আঘাত করছে, তারা আসলে নিজেদের অস্তিত্বই ধ্বংস করছে। মিথ্যার বেলুন যতই ফোলানো হোক, একটুখানি সত্যের সূচেই তা চিরকাল ফেটে যাবে। এখন সময় এসেছে সেই সূচ চালানোর। সুত্র : প্রেস বিজ্ঞপ্তি ।

