আমাকে কবরে পাঠিয়ে তারপর স্থানীয় সরকার নির্বাচন : ইশরাক

জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে কয়েকটি রাজনৈতিক দল। একই দাবি করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। তবে বিএনপি চায়, আগে জাতীয় নির্বাচন। তারপরই দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন।

এদিকে স্থানীয় সরকার সংস্কার কমিশন সব স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন একসঙ্গে করার প্রস্তাব করেছে। এ ছাড়া আগামী জুনের মধ্যে দেশের সব স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করা সম্ভব বলেও জানিয়েছে তারা। গত শনিবার কমিশনের প্রকাশিত প্রাথমিক রিপোর্টে এসব সুপারিশ করা হয়।

এবার এ বিষয় নিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ মহানগর বিএনপির সদস্য ইশরাক হোসেন।

আজ রবিবার তিনি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবু অ্যাকাউন্টে ঘোষণা দেন যে, তিনি বেঁচে থাকতে ঢাকার প্রাণকেন্দ্র দক্ষিণ ঢাকায় জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় নির্বাচন করতে দেওয়া হবে না।

তার দৃষ্টিতে, মার্কাবিহীন এই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের মাধ্যমে খুনি হাসিনার অমানুষ জালেম বাহিনীর উত্থান ঘটবে।

ইশরাক লিখেছেন, ‘স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নিজস্ব পরিকল্পনা থাকতে পারে। হতে পারে এর মাধ্যমে ছোট দল, নতুন দল তাদের পাল্লা ভারী করার একটা সুপ্ত প্রয়াস চালাবে। অন্য কোনো পক্ষেরও এজেন্ডা থাকতে পারে। কিন্তু আমার দৃষ্টিতে মার্কাবিহীন এই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের মাধ্যমে খুনি হাসিনার অমানুষ জালেম বাহিনীর উত্থান ঘটবে। সেই সংক্রান্ত আলামত ও কিছু আনাগোনা শুনতে পাচ্ছি। আমাদের স্পষ্ট দলীয় সিদ্ধান্ত রয়েছে এই ব্যপারে। এর বাইরে ঢাকা দক্ষিণের সাবেক মেয়র প্রার্থী হিসাবে অথবা মহানগর বিএনপির সদস্য হিসাবে অথবা একজন সাধারণ রাজনৈতিক কর্মী হিসাবে, যেভাবেই বিবেচনা করা হোক আমাকে। বই পড়তে শেখার আগে ঢাকার রাজনীতি শিখতে শুরু করেছি। জন্ম থেকে এগুলো দেখছি, বিদেশে কেবল উচ্চশিক্ষার জন্যে কয়েক বছর কাটিয়েছি। ঢাকার অলি গলির রাজনীতি কিভাবে হয় এবং হয়েছে আওয়ামী ফ্যাসিবাদের সময় তা নতুন করে বয়ান দেওয়ার দরকার নাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘ঢাকা ও অন্যত্র স্থানীয় সরকার নির্বাচনের যে কোন উদ্যোগকে একটি চক্রান্ত হিসাবেই গণ্য করা হবে। হাসিনার কমিশনার/কাউন্সিলরা কেমনে হয় এবং তারা কিভাবে ফিরে আসতে পারে ওইটা আমাদের মুখস্ত। জীবন থাকতে কোনও স্থানীয় সরকার ফরকার হবে না। তার আগে অন্তত ঢাকার প্রাণকেন্দ্র দক্ষিণ ঢাকায় আমার সঙ্গে যুদ্ধ করে, আমাকে কবরে পাঠিয়ে তারপর করতে পারলে করবে। এই সরকারকে এর চাইতে স্পষ্ট ভাষায় আর কিছু বলার নাই।আর আমাদের দলীয় কেউ যদি ভুলেও স্বপ্ন দেখেন, যেই হন না কেন আপনাদের চিনবো না। অতএব এলাকায় ফ্যাসিবাদের স্থান দেওয়ার আগে ১০০ বার চিন্তা করে নিয়েন। আগে বরখাস্তকৃত কমিশনের/কাউন্সিলর পদধারী হাসিনার কিলার বাহিনীদের বিচার, শাস্তি ও নির্মূল করতে হবে।’

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.