কাজিপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ- যমুনার পানি কমে যাওয়ার সাথে সাথেই চরের কৃষকরা বিনা হালে গাইনঞ্জা ধান রোপনে ব্যাস্ত সময় পার করছেন। নাবি জাতের এই ধান চাষে কোন লক্ষমাত্রা ধরা হয় না। কেননা এই ধানের চাষাবাদ সম্পন্নই প্রকৃতির উপর নির্ভরশীল বলে চাষের জমির পরিমান প্রতিবছরই কমবেশী হয়ে থাকে। চলতি মৌসুমে চরের উপসহকারী কৃষিকর্মকর্তা ও স্থানীয় কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, অসময়ের বৃষ্টিতে রোপা আমনের ক্ষতি পুষিয়ে নিতেই এবার কৃষকরা গাইনঞ্জা ধান রোপনে ঝুঁকে পড়েছে। স্থানীয় কৃষক ও মাঠ কর্মকর্তারা এবার গাইনঞ্জা আবাদ বেশী হবে বলেজানান।
এমনিতেই কাজিপুরের কৃষকদের বিশেষ করে চরের কৃষকদের আগে থেকেই গাইনঞ্জা চাষের প্রতি আগ্রহ রয়েছে। এবার দির্ঘ খরায় রোপা আমনের ক্ষতি হওয়ায় অনেকটা বাধ্য হয়েই গাইনঞ্জা ধান চাষে কৃষকরা ঝুঁকে পড়েছে। গাইনঞ্জা ধান আশ্বিন মাসের শুরু থেকে শেষপর্যন্ত নদীর পানি কমে গেলে ডুবো চরে, নদীর খাড়ি, ও তীঁরে পলিপড়া স্থানে এই ধানের চারা রোপন করা হয়। চরগিরিশের কৃষি কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান জানান, স্থানীয় ভাবে এই ধানের কদর বেশী কেননা পলিমাটিতে চাষের কারণে সামান্য ইউরিয়া সার ছাড়া আর কোন সার বা কিটনাষক প্রয়োগ করতে হয় না। এছাড়া এ ধান খেতেও খুব সুস্বাদু। এবং অসময়ে পৌস মাসের শুরুতে ধান পাকে। বিঘাপ্রতি ১০/১২ মন ধান উৎপাদন হয়। ফলন কম হলেও চাষে খরচ কম বলে কৃষকের বেশ পুষিয়ে যায়। চরগিরিশের কৃষক আব্দুল খালেক জানান, খরার কারণে রোপা আমন কম হওয়ায় গাইনঞ্জা ধান এবার বেশী লাগিয়েছি । কাজিপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম জানান, চলতি মৌসুসে কৃষকরা গাইনঞ্জা ও স্থানীয় করঙ্গা ধান চাষাবাদ করছে পাশাপাশী আমরা সরকারিভাবে ৪’শ জন কৃষককে কালাই বোনার জন্য বীজ সরবরাহ করেছি।
নাবিউর রহমান (চয়ন) কাজিপুর, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি।

