সীমিত পরিসরে আদালত চলবে কি-না জানা যাবে আজ

করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাব রোধে সারাদশে যখন লকডাউন চলছে। সংক্রমণের হারও বাড়ছে। এমন প্রেক্ষাপটে চলমান ছুটি আগামী ৫ মে পর্যন্ত বর্ধিত করেছে সরকার। সরকারি ছুটির সঙ্গে দেশের সর্বোচ্চ সুপ্রিম কোর্টসহ সকল আদালতেও সাধারণ ছুটি চলছে। এখন জরুরি বিষয়াদি শুনানি ও নিষ্পত্তিতে স্বল্প পরিসরে দেশের উচ্চ থেকে নিম্ন আদালত চলবে কি-না, সে বিষয়ে আজ সিদ্ধান্ত হতে পারে। সীমিত পরিসরে আদালত চলছে কি-না, তা জানা যাবে আজ।

আজ রোববার থেকে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের একটি বিশেষ বেঞ্চ বসার কথা ছিল। হাইকোর্টের বিশেষ এই বেঞ্চের শুনানি ভার্চুয়াল এবং আইনজীবীর উপস্থিতিতে দুভাবেই শুনানির জন্য প্রস্তুতি ছিল। কিন্তু করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে ঘোষিত সাধারণ ছুটির মধ্যেই সীমিত পরিসরে আদালত চলার সিদ্ধান্ত সোমবার (২৭ এপ্রিল) পর্যন্ত স্থগিত করেছেন সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের আদেশক্রমে শনিবার (২৫ এপ্রিল) জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

তবে, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে আজ রোববার বেলা ১১টায় ফুল কোর্ট সভা অনুষ্ঠিত হবে। এরপরই জানা যাবে সীমিত আকারে আদালত চলবে কি-না। আর আদালত চললে কোন পদ্ধতিতে চলবে সেটাই এখন দেখার বিষয়। অপেক্ষা এখন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত ফুল কোর্ট সভার সিদ্ধান্ত পর্যন্ত।

এদিকে আদালতের কার্যক্রম সুষ্ঠু ও নিরাপদ করতে শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকালে আদালত কক্ষ পরিদর্শন করেছিলেন হাইকোর্টের বিচারপতি ওবায়দুল হাসান। সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের প্রশাসনের পক্ষ থেকে শনিবার তাৎক্ষণিক প্রজ্ঞাপনে আদালত খোলার সিদ্ধান্ত স্থগিত করা হয়।

জানা গেছে, অনলাইন ও সশরীরে আইনজীবীদের উপস্থিতি-এই দুই পদ্ধতিতেই শুনানির জন্য প্রস্তুতি নেয়া হয়েছিল। যেসব আইনজীবী উপস্থিত হয়ে শুনানি করতে চান তাদের জন্য সেরকম ব্যবস্থা নেয়া হয়। আর যারা অনলাইনের মাধ্যমে বা ভার্চুয়াল শুনানি করতে চান তাদের জন্যও সেরকম ব্যবস্থা রাখা হয়। বিচারক, আইনজীবী, বিচারপ্রার্থী জনগণ ও বিচারকার্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের স্বাস্থ্যঝুঁকির কথা মাথায় রেখেই এই ব্যবস্থা করেছিল সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃপক্ষ।

আইনজীবীদের অব্যাহত দাবির প্রেক্ষাপটে এবং বিচারপ্রার্থীদের কথা বিবেচনায় নিয়ে স্বল্প পরিসরে সাংবিধানিক আদালত খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আপিল বিভাগে বিচারপতি মো. নুরুজ্জামান এবং হাইকোর্ট বিভাগে বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে একটি বেঞ্চ পরিচালিত হবে। আদালত পরিচালনার ক্ষেত্রে কর্মপন্থা নির্ধারণ এবং সামাজিক দূরত্ব অনুসরণের নিয়ম-কানুন বিষয়ে বিচারপতিরা প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবেন।

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের সভাপতিত্বে গত বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতিদের ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এরপর সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মো. আলী আকবরের স্বাক্ষরে বিজ্ঞপ্তি জারি করে তা আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের জানিয়ে দেয়া হয়।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.