করোনা নিয়ে চিন্তিত জার্মান অর্থমন্ত্রীর আত্মহত্যা

জার্মানির হেসি রাজ্যের অর্থমন্ত্রী টমাস শ্যাফার আত্মহত্যা করেছেন। করোনাভাইরাসের প্রভাবে ভেঙে পড়া অর্থনীতিকে কিভাবে মোকাবেলা করবেন সেই দুশ্চিন্তায় তিনি আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন বলে জানিয়েছেন রাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ভোলকার বাউফিয়ার। অর্থমন্ত্রীর আত্মহত্যা নিয়ে রবিবার তিনি সাংবাদিকদের বলেছেন, অর্থমন্ত্রী গভীর চিন্তিত’ হয়ে আত্মহত্যা করেছেন। করোনাভাইরাসের ধাক্কায় ভেঙে পড়া অর্থনীতিকে কিভাবে মোকাবেলা করবেন সেটা নিয়ে গভীর চিন্তিত ছিলেন তিনি। শ্যাফার (৫৫) শনিবার (২৮ মার্চ) রেললাইনের কাছে মৃত অবস্থায় পড়েছিলেন। উইসবাডেন প্রসিকিউশনের কার্যালয় বলেছে যে তারা বিশ্বাস করেন যে তিনি আত্মহত্যা করে মারা গেছে।

বাফিয়ার এক বিবৃতিতে বলেছেন,’আমরা হতবাক, আমরা অবিশ্বাসের মধ্যে রয়েছি এবং সর্বোপরি আমরা চরম দু:খিত।’ হেসির বাড়ি জার্মানির অর্থনৈতিক রাজধানী ফ্র্যাঙ্কফুর্টে। যেখানে ডয়চে ব্যাংক এবং কমার্স ব্যাংকের মতো প্রধান অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলির সদর দফতর রয়েছে। ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকও ফ্রাঙ্কফুর্টে অবস্থিত।

চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মেরকেলের ঘনিষ্ঠ সহযোগী বাউফিয়ার বলেছিলেন, ‘শ্যাফার ১০ বছর ধরে হেসি রাজ্যের অর্থমন্ত্রী ছিলেন। তিনি অত্যন্ত দক্ষতার সাথে কাজ করছিলেন। মহামারি করোনায় ভেঙে পড়া অর্থনীতিকে কিভাবে পুনরায় দাঁড় করানো যায় সেটা নিয়ে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছিলেন তিনি। আজ আমাদের ধরে নিতে হবে যে তিনি গভীর চিন্তিত ছিলেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই কঠিন সময়ে আমাদের অবশ্যই তাঁর মতো ব্যক্তির প্রয়োজন ছিল।’ জনপ্রিয় এবং সম্মানিত শ্যাফার দীর্ঘদিন ধরে বাউফিয়ারের সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসাবে যুক্ত ছিলেন। বাউফিয়ারের মতো, শ্যাফারও মেরকেলের মধ্য-ডানপন্থী সিডিইউ পার্টির সদস্য ছিলেন। তিনি স্ত্রী এবং দুই সন্তান রেখে গেছেন।

উল্লেখ্য, ইউরোপের দেশ জার্মানিতে করোনাভাইরাস বিধ্বংসী রূপে ছড়িয়ে পড়েছে। দেশটিতে এরই মধ্যে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ৫৮ হাজার ২৪৭ জনে গিয়ে ঠেকেছে। মৃত্যু হয়েছে ৪৫৫ জনের।

 

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.