মোহাম্মদ শাহিন আহমেদ রিয়াদ : তাবলীগ জামায়াত পৃথিবীতে এমন একটি সংগঠন হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছিল,যা তৈরি করার কল্পনা অনেক রাজনৈতিক দলও করতে পারে না।তারা তাদের মহৎ কাজ,অমায়িক ব্যবহার এবং অসাধারণ পরিশ্রমের দ্বারা পৃথিবীর বেশীরভাগ দেশেই ইসলাম প্রচারের দ্বীনি কাজে লেগে ছিল।লেগে ছিল বললে ভুল হবে,এখনও লেগে আছে।তবে সেই লাগা আগের মতো নেই।সারা পৃথিবীতে ইসলাম যেখানে বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত,সেখানে তাবলীগ এক বিরাট ঐক্যের নাম,তবে তাদের ভিতরে যে ভুল একেবারেই নেই এমন না,তবে ভুলের সংখ্যা তাদের ভেতর কম।
তাবলীগের প্রতিষ্ঠা হয় ১৯২৭ সালে,মাওলানা ইলিয়াস নামের এক লোক যখন দেখলেন তার এলাকার বেশীরভাগ মুসলিম লোকের বিচ্যুতি ঘটছে,তখন থেকেই তার মনের মধ্যে ধারণা জন্ম নেয় কিভাবে মানুষকে আবার ইসলামের সঠিক পথে ফিরিয়ে আনা যায়।মাওলানা ইলিয়াস(রঃ) কিন্তু ব্যর্থ হোন নাই,তিনি এমন সফল হয়েছিলেন যে পৃথিবীর সেরা সেরা অনেক আলেম তার কাজ স্বচক্ষে দেখতে যান এবং গিয়ে মেহনতের তুমুল প্রশংসা করেন।ইলিয়াস সাহেবের মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি নিজেই তাবলীগের আমীর ছিলেন,এর পরে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন যোগ্য ব্যক্তিরা এই পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।কিন্তু সমস্যা শুরু হয় ১৯৯৫ সাল থেকে,যখন মাওলানা ইনআমুল হাসান সাহেব আমীর অবস্থায় মারা যান।তার মারা যাওয়ার পরে আমীর পদের জন্য যোগ্য ব্যক্তি হিসেবে তিনজন লোক ছিলেন।একজন মাওলানা ইযহারুল হাসান,আরেকজন মাওলানা যুবাইরুল হাসান এবং তৃতীয়জন মাওলানা সা’দ সাহেব।কিন্তু তিনজনই মনে করতে লাগলেন এই পদে যদি তারা অধিষ্ঠিত হোন,তাহলে বিভিন্ন অঞ্চলের সাথী মনে কষ্ট পাবেন এবং অনেকেই হয়ত তাদের যোগ্য নাও মনে করতে পারেন।
সেই থেকে আজ পর্যন্ত তাবলীগের আমীর পদে কেউ বসেন নি।নেতৃত্ব ছাড়াই একটি সংগঠন চলে এসেছে ১৫ বছর ধরে এবং আজকের এই ফাটল শুধুমাত্র সামান্য কিছু মনোমালিন্যের কারণে।এখানে এক পক্ষ হলেন শুরাভিত্তিক তাবলীগী মারকায এবং আরেকপক্ষ হলেন মাওলানা সা’দ সাহেবের অনুসারীবৃন্দ।তাদের মধ্যে সামান্য কিছু সমস্যা রয়েছে।তবে প্রধান সমস্যা দুটি হলঃ
১)মাওলানা সা’দ সাহেব মনে করেন শুরা কাউন্সিলের ভূমিকা শুধুমাত্র যেন পরামর্শক হিসেবে থাকে,কারণ সাধারণ সাথীরা তাকে আমির হিসাবে বাইয়াত করেছেন।
আর শুরাভিত্তিক তাবলীগী মারকায মনে করেন সা’দ সাহেব যেন তাদের তাদের সাথে আলাপ আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেন,ওনার একার ঠিক করা সিদ্ধান্তে যেন শুরা কাউন্সিলের একমত না হতে হয়।
২) মাওলানা সা’দ সাহেব মনে করেন ইমামতি করে টাকা নেয়া,ইমাম-মুয়াজ্জিনদের চুক্তিভিত্তিক কাজ করা ঠিক নয়।
আর শুরাভিত্তিক তাবলীগী মারকায মনে করেন যেহেতু বড় বড় আলেম একমত হয়েছে যে টাকা নেয়া দোষের কিছু না,এরপর এটাকে “নিষেধ” মনে করা সঠিক নয়।
বাস্তবে এমন বিষয় নিয়ে আজকে তাবলীগ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ লিপ্ত হচ্ছে,যার কোনো ভ্যালুই নেই এবং ব্যাপারগুলো আলোচনার ভিত্তিতে সংশোধন করাও সহজ।
এ বিভক্তি একদিনে হয় নি,এ বিভক্তির পিছনে শয়তানদের দীর্ঘ পরিশ্রম ও মারাত্মক ষড়যন্ত্র রয়েছে।
দেওবন্দের বড় বড় উলামাগণ,শায়খ সালমান,ইমাম তাকী উসমানী,মুরুব্বী মুহাম্মেদ রাবে আরও বড় বড় যারা দ্বীনি আলেম আছেন,তারা একসাথে বসলেই আমি মনে করি খুব সহজে সমাধান চলে আসবে।সবাই আবার এক হতে সময় লাগবে না ইনশাআল্লাহ্।আল্লাহ্ সবাইকে সঠিক বুঝ দান করুক।আমিন।

