জীবিত এরশাদ-মৃত এরশাদ

মোহাম্মদ শাহিন আহমেদ রিয়াদ: আজকে বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটা দিন।বাংলাদেশের সাবেক সফল প্রেসিডেন্ট,সাবেক সফল সেনাপ্রধান এবং জাতীয় পার্টির সাবেক সফল সভাপতি হোসেন মোঃ এরশাদ মারা গেছেন।এরশাদ তার জীবনে ভালো কাজের চেয়ে খারাপ কাজেই বেশী মনোযোগী ছিলেন।অদম্য মেধাবী এবং সাহসী একজন মানুষ কেন এইভাবে নিজের সুনাম এবং সম্মানে বারে বারে আঘাত হানলো তা আমার জানা নেই।

আজ থেকে আর কেউ জানতে চাইবে না এরশাদ সাহেবের খবর।কারণ তিনি আর এই পৃথিবীতে “নেই”।এই “নেই” শব্দটি কিন্তু অনেক কিছু বদলে দেয়।”নেই” শব্দটি চিরচারিত ঘৃণিত মানুষের প্রতিও মুহুর্তের মধ্যে মায়া জাগিয়ে তুলে।এর খুবই ছোট দুটি উদাহরণ আমি দিচ্ছি।

মুহিব সাহেব নামের একজন লোক রাজনৈতিকভাবে এরশাদ সাহবের বিরুদ্ধে ছিলেন।তার ছাত্রজীবন শেষে তিনি বিসিএসের প্রিলি,রিটেনে টিকে ভাইবা দেন।ভাইবা অনেক ভালো হওয়ার পরও তার চাকরি কিন্তু হয় নি।কারণটা মুহিব সাহেবের অতীতের রাজনৈতিক পরিচয়,পরেরবার এই পরিচয়ের কারণেই এরশাদ সাহেবের বাহিনী ওনাকে বিসিএসের প্রিলি দেবার আগেই বেদম প্রহার করে।মুহিব সাহেব জীবনের গতি পাল্টে যায়।তিনি যা হতে চেয়েছিলেন তা হতে পারেন নি।ফেইসবুকে এক লেখাতে দেখলাম তিনি এরশাদ সাহেবকে মাফ করে দিয়ে অন্যদেরকেও ক্ষমা করার আহবান জানিয়েছেন।

ঠিক একইভাবে মিনহাজ সাহেব নামের একজনের যৌবনের স্বর্ণযুগ কেটেছে জেলে এরশাদ সাহেবের বিরোধিতা করার কারণে।তার হওয়ার কথা ছিলো অনেক বড় একজন রাজনৈতিক নেতা,এরশাদ সাহেবের কারণেই আজকে তিনি তার লক্ষ্যের কাছাকাছি যাওয়ারও চিন্তা করতে পারেন নি।সেই সাহেবও কদিন আগে এরশাদ সাহেবের অসুস্থতার ফটো দেখে নিজ থেকে এরশাদকে ক্ষমা করে দেন,অন্যদেরকেও ক্ষমা করার আহবান জানান।

ভুলক্রুটি মিলেই মানুষ।প্রেসিডেন্ট এরশাদের অনেক ভুল থাকা সত্ত্বেও দেশের জন্য তার অবদানও কিন্তু কম নয়।মৃত ব্যক্তিকে নিয়ে উপহাস না করতে ইসলামে অনেকবার নিষেধ করা হয়েছে।তার কর্মের ফল তিনি পাবেন।আমরাও তার কর্মের সমালচনা বা আলোচনা করতে পারি।কিন্তু এমন কোনো কাজ না করি যেন আমাদের মৃত্যুর পরও সেই কাজ মানুষ আমাদের নিয়ে করে।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.