পিকনিক স্পটে তৃতীয়লিঙ্গদের উৎপাত:

আমাদের সিলেটের অনেক প্রাকৃতিক পিকনিক স্পট আছে(যেমন: জাফলং,লালাখাল, বিছনাকান্দি, পান্তমাই, ভোলাগঞ্জ) যেখানে বাংলাদেশের মানুষ কম বেশি চলে আসে, সিলেটের এই প্রাকৃতিক পিকনিক স্পট দেখার জন্য। আমি নিজেও প্রায় ঘুরতে যাই। গত কাল বন্ধুরা মিলে ঘুরতেগিয়ে ছিলাম পান্তমাই, লালা খাল। ওই যায়গায় গিয়ে তৃতীয়লিঙ্গদের ( হিজড়া )  চাঁদাবাজির হাতে পরলাম। এর কিছু দিন আগে জাফলং গিয়েও  তৃতীয়লিঙ্গদের চাঁদাবাজর হাতে পরি। যাক মূল বিষয়ে আসি, আজ যে বিষয়টা নিয়ে লিখতে চাচ্ছি তা এই তৃতীয়লিঙ্গ সম্প্রদায়ের চাঁদা নিয়ে । “অ্যাই! ট্যাকা দে”, “টাকা না দিলে যাব না” এমন জোর আবদারের সঙ্গে সবাই কম-বেশি পরিচিত। এখন পিকনিক গুলোতে তৃতীয়লিঙ্গদের দলবেদে থাকে। পিকনিক স্পট গুলোতে  তৃতীয়লিঙ্গদের বেপরোয়া চাঁদাবাজীতে অতিষ্ঠ হয়ে পরছে ঘুরতে আসা মানুষ। বিশেষ করে ঈদে  তৃতীয়লিঙ্গদের চাঁদাবাজির মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এরা ভিক্ষার নামে জোরপূর্বক টাকা আদায় করলেও প্রশাসনের যেন কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। জোরপূর্বক টাকা আদায় করছে। অশোভন কাপড় চোপড় পরে এবং বিভিন্ন সাজে সজ্জিত হয়ে কুরুচীপূর্ণ অঙ্গভঙ্গি প্রদর্শন করে চালাচ্ছে চাঁদাবাজী। তৃতীয়লিঙ্গদের  টাকা তোলা নতুন কিছু নয়। আগে মানুষ যা দিত, তা নিয়েই খুশি থাকত হিজড়ারা। কেউ ভয়ে কেউ আবার স্বেচ্ছায় তাদের টাকা দিয়ে সহযোগিতা করে । অথচ এখন  তৃতীয়লিঙ্গদের উৎপাত অনেকাংশে বেড়ে গেছে। তৃতীয়লিঙ্গদের উৎপাতে অনেকে অতিষ্ঠ এবং বিব্রত। টাকা তাদের দিতেই হবে। টাকা না দিলে আপনার মান সম্মান ইজ্জত নিয়ে তারা টানাটানি করবে। কিন্তু ইদানীং তাদের আচরণ বদলে গেছে। রাস্তাঘাট, বাসাবাড়ি, দোকানপাট, পিকনিক স্পট গুলোতে যেখানে-সেখানে টাকার জন্য মানুষকে নাজেহাল করছে তারা। তাদের দাবিকৃত অর্থ না পাওয়া পর্যন্ত এমন সব আচরণ ও উৎপাত করে যা পিকনিক স্পট এর স্বাভাবিক পরিবেশ দারুণভাবে বিনষ্ট করে তোলে। তাদের প্রত্যাশিত অর্থ না পেলে তারা অত্যন্ত বিশ্রী, অশোভনীয় ও লজ্জাজনক আচরণ করে। বেশি জোরাজুরি করলে আরও বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। কাপর খুলে দেখায়। কারণ ওদের তো লজ্জা শরম নেই। এতে পিকনিক স্পটে আগত লোকজনদের অত্যন্ত বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয়। পিকনিক স্পট গুলোতে আসা পরিবার গুলোর সঙ্গে বাবা-মা বা মেয়ে মানুষ থাকলে তাদের অত্যাচারের মাত্রা বাড়ীয়ে যায়। কুরুচিপূর্ণ কথা আর অঙ্গভঙ্গির পরিমাণ বেড়ে যায় মাত্রাতিরিক্ত।

images.jpg

এই সব করার একটায় কারন সম্মানিত ব্যক্তিদের সম্মানে হানি করে বা ভয় দেখিয়ে ফায়দা হাসিল করা। পিকনিক স্পট গুলোতে তৃতীয়লিঙ্গ ( হিজড়া ) হাত তালি দিয়ে নানা অঙ্গভঙ্গি করে নাছোড়বান্দার মতো দাঁড়িয়ে থাকে। টাকা না দেয়া পর্যন্ত তারা যায় না। তাদের এই আচরণে অনেকের কাছেই বিব্রতকর। পিকনিক স্পট গুলোতে পুলিশ থাকার পর ও পুলিশ প্রশাসন চুপ কেন এই বিষয়ে? এমন প্রশ্ন তুলেছেন অনেক মানুষ।তৃতীয়লিঙ্গদের এই বেপরোয়া চাঁদাবাজি যেন দিনকে দিন বেড়েই চলেছে। তাদের সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজির কাছে জনগণ জিম্মি হয়ে পড়েছে। সমাজে অসহায় হিসেবে সাহায্যের জন্য মানুষের কাছে হাত পাতে  তৃতীয়লিঙ্গের মানুষ । মানুষও স্বেচ্ছায় সাহায্য করত তাদের। কিন্তু এখন আর সে দৃশ্য নেই। এখন যেন পেশাদার চাঁদাবাজের ভূমিকায় পিকনিক স্পট গুলোতে চষে বেড়াচ্ছে তৃতীয়লিঙ্গ বাহিনী! টাকা দিতে যারা অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন তাদের নানাভাবে লাঞ্ছিত করা হচ্ছে। এমনি অবস্থায় মান সম্মান রক্ষায় তাদের দাবি পূরণ করতে বাধ্য হয়। তৃতীয়লিঙ্গদেরকে সবাই সম্মান দিত কিন্তু এদের বেশি বাড়াবাড়ির কারণে অনেকেই মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। তারা নিজের পায়ে দাড়ানোর থেকে ভিক্ষাবৃত্তিটাকেই নিয়েছে সফল ব্যবসা হিসেবে আপন করে, তখন কে বা কষ্ট করে নিজের পায়ে দাড়ায়! বর্তমানে এদের উৎপাত বেড়েছে বহুগুন, অতিষ্ঠ সাধারণ জনগন।  তৃতীয়লিঙ্গগোষ্ঠিকে ঘৃনা করার দুঃসাহসিকতা এবং অধিকার কোনোটাই আমার নাই। আর আমি তাদেরকে ঘৃনা করি না। পৃথিবীতে কাজের অভাব নেই, ওরাও তো মানুষ। ওরা তো অন্য প্রাণী নয় যে কাজ পারবে না। আমরা যেমনটা কাজ করতে পারি। আর বড় কথা হচ্ছে সরকার ওদেরকে পূর্ণবাসন, বয়স্কভাতা সহ বিভিন্ন অনুদান দিচ্ছে। এবং বিভিন্ন সংগঠন তাদের ক্যারিয়ার গড়ার জন্য কাজ কর যাচ্ছে। এখন আমার প্রশ্ন হচ্ছে এই তৃতীয়লিঙ্গের পেছন কারা ? কারা তাদের পেছন থেকে  মানুষকে হয়রানি করার সাহস যোগাচ্ছে? সরকার দেশকে ভিক্ষুক ও দারিদ্রমু্ক্ত করার এবং মানুষকে একটু শান্তিতে বসবাস করার চিন্তা করছে সেখানে এই  তৃতীয়লিঙ্গদের ত্যাচার কি সহ্য করা যায় আপনারাই বলেন? সরকারের প্রতি আমার আবেদন- প্রয়োজনে বাংলাদেশের জনগণের কাছ থেকে টাকা নিয়ে তৃতীয়লিঙ্গদের পুনর্বাসন করে জনগণকে তাদের হয়রানির হাত থেকে মুক্তি দিন। সেটা করতে না পারলে অত্যাচারিত জনগণ একদিন তাদেরকে উচিৎ শিক্ষা দেবে। আর এর জন্য দায়ী থাকবে সরকার । জনসাধারণের দুর্ভোগ লাঘবে তৃতীয়লিঙ্গদের চাঁদাবাজি বন্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদয় দৃষ্টি কামনা করছি। 

20181210_131841

আবু জাফর শিহাব

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.