স্বাধীনতা ঘোষণা ও এনিয়ে বিতর্ক

আমার কাছে বিশ্বাস যোগ্য নয় যে, ২৬শে মার্চ বা ২৭শে মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন বা পাঠ করেছিলেন । কারণ ২৫শে’র কালো রাতেই তিনি পাক হানাদার বাহিনী কর্তৃক গ্রেফতার হন । অপরদিকে হোক ২৬ বা ২৭ মার্চ মহান স্বাধীনতার ঘোষণাটি তদানীন্তন মেজর জিয়াউর রহমান প্রথমে নিজকে প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করে কালুরঘাট বেতার কেন্দ্রে প্রচার করেন এবং পরে বঙ্গবন্ধুর নামে ঘোষণাটি দিয়েছিলেন । আমি স্বাধীনতার অনেক অসত্য বয়ানের কারণে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ রাজনীতি ছাত্রাবস্থায়ই ছেড়েছি । আমার মরহুম মুক্তিযোদ্ধা পিতা অভিমানে এজন্য কোন রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা পর্যন্ত নেন নি । যুদ্ধের শুরুর সময় আমরা সৈয়দপুর ( বর্তমান নিলফামারী জেলার একটি পৌরসভা ও থানা ) শহরের কয়াগোলাহাট মহল্লার বিহারীদের একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলাম । বাবা বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের একজন কর্মচারী ছিলেন । সে সুবাদে আমাদেরও সেখানে থাকা হয়েছিল । আমি ‘৭১ মুক্তিযুদ্ধের সময় চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্র ছিলাম । ২৬ মার্চ সকাল ৭টা হবে আমাদের বাসার প্রধান দরজায় অনেক বিহারী অবস্হান নিয়েছে, বাবাকে দরজা ভেঙে হলেও ধরে নিয়ে যাবে । পরিবারের নিরাপত্তার কথা ভেবে তিনি দরজা খুলে বের হলেন । আর দেরি নেই, ভয়াবহ মারধর করতে করতে তারা নিয়ে গিয়েছিল । পরে রাস্তার মোড়ে পাকসেনাদের কাছে তারা হস্তান্তর করে । আল্লাহ সহায় ছিলেন, দ্বিতীয় দফায় সেনাদের মারধরে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন, কিন্তু তারা মৃত ভেবে রাস্তা সংলগ্ন বড় ড্রেনে পা দিয়ে ঠেলে ফেলে দেয় । বাবার কাছে শুনেছি, জ্ঞান ফিরলে হামাগুড়ি দিয়ে পিডিবি’র দিকে বাঙালি এলাকা হাজীপাড়া দিকে চলে যান । আবার জ্ঞান ফিরলে নিজকে নিলফামারী হাসপাতালে শায়িত দেখেন । পরিবারের কথা ভেবে ২ দিনের মধ্যেই হাসপাতাল থেকে তাঁর কর্মস্থল বাঙ্গালী পাড়া সংলগ্ন পিডিবিতে ফিরে আসেন । সেখানে থেকেই অফিসের বিহারী স্টাফদের মারফত আমরা বেঁচে আছি জেনে- আমাদেরকে পিডিবিতে ফেরত নেন । আমরা বিহারী বাড়িওয়ালার দয়া, অপার স্নেহে ও আল্লাহর ইচ্ছায় মা-সহ তিন ভাই-বোন ৪ দিনের বন্দি দশা থেকে মুক্তি পেয়ে পিডিবিতে । সে সময় রেডিও তে বারে বারে জিয়ার স্বাধীনতা ঘোষণা আমরা সকলেই হুমড়ি খেয়ে শুনতাম, জয় বাংলা বাংলার জয় ইত্যাদি মুক্তিযুদ্ধে উদ্বুদ্ধমূলক গান শুনতাম । তখন রেডিও সকলের কাছে ছিল না, তাই মুক্তিযুদ্ধের সময় দল বেঁধে যেখানে রেডিও সেখানে আকাশবাণী-কলকাতা, বিবিসি-বাঙলা ও স্বাধীন বাংলা বেতারের খবর সবাই শুনতাম । এ বেতার কেন্দ্র গুলোর প্রচারিত খবর ও অনুষ্ঠানমালা মুক্তিযুদ্ধের সময় খুব জনপ্রিয় ছিল । স্বাধীনতা’র ঘোষণা নিয়ে বঙ্গবন্ধু বা জিয়াউর রহমান বা তাদের জীবদ্দশায় বিতর্ক উঠে নি । আজ জাতি এ নিয়ে দূভাগ্যজনক ভাবে বিভক্ত । আইন করে, রাজনীতির মারপেচে, সত্যমিথ্যা’র ঘেরাটোপে বর্তমান প্রজন্ম দিশেহারা । অসাধু বুদ্ধিজীবী, অর্থলাভী সুশীল সমাজ ও কায়েমী শাসকগোষ্ঠীর কাছে এর ফয়সালা মিলবে কি ? আমরা কবে এ থেকে মুক্তি পাব ? –

20190225_211621

আলম শাহ্, বার্তা প্রধান, Dtv-Italy.

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.