যুদ্ধ আর মানব সেনার লড়াই নয়! লড়াই এখন যন্ত্রে। রণক্ষেত্রের সংজ্ঞা বদলে রাশিয়ার বিরুদ্ধে রোবট সেনা নামিয়ে বিরাট সাফল্য পেল ইউক্রেন।
যুদ্ধ আর মানব সেনার লড়াই নয়! লড়াই এখন যন্ত্রে। রণক্ষেত্রের সংজ্ঞা বদলে রাশিয়ার (Russia) বিরুদ্ধে রোবট সেনা নামিয়ে বিরাট সাফল্য পেল ইউক্রেন (Ukraine)। দাবি করা হয়েছে, প্রথমবার বিরাট পরিসরে রুশ সেনার বিরুদ্ধে আত্মঘাতী রোবট সেনা নামিয়ে বিপুল সাফল্য পেয়েছে কিয়েভ। চারমাসের অভিযানে ৫টি গ্রাম ও ৩টি বসতি পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি খতম করা হয়েছে ৩০০০ রুশ জওয়ানকে।
ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর তরফে জানানো হয়েছে, ‘অপারেশন ভিভালদি’-র অধীনে গত মে মাস থেকে শুরু হয়েছিল অভিযানটি। সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে যা সমাপ্ত হয়। এই অপারেশনের বিস্তারিত সাফল্য প্রকাশ করা হয়েছে ইউক্রেন সেনার তরফে। যেখানে বলা হয়েছে, এই সময়কালে ১৫,৭০০টিরও বেশি অভিযান চালানো হয়। বিস্ফোরক বোঝাই রোবট ও ড্রোনের এই অভিযানে ইউক্রেনের দোনেৎস্ক অঞ্চলের পাঁচটি গ্রাম ও তিনটি বসতি পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। ৩ হাজারের বেশি রুশ সেনা নিহত হয়েছেন।
রোবট সেনা ১৫,৭০০টিরও বেশি অভিযান চালায়। বিস্ফোরক বোঝাই রোবট ও ড্রোনের এই অভিযানে ইউক্রেনের দোনেৎস্ক অঞ্চলের পাঁচটি গ্রাম ও তিনটি বসতি পুনরুদ্ধার করা হয়েছে।
ইউক্রেন সেনা জানিয়েছে, অভিযানে বিস্ফোরক বোঝাই চার চাকার রোবট ব্যবহার করা হয়েছিল। বড় ড্রোনগুলো সেগুলোকে রাশিয়ার ভূখণ্ডের ১৪.৫ কিলোমিটার ভেতরে নিয়ে গিয়ে ছেড়ে দেয়। এরপর এই রোবটগুলো স্থলপথে অনেকটা পথ পাড়ি দিয়ে রুশ সেনাঘাঁটিগুলিতে ঢুকে হামলা চালায়। রোবটগুলিতে লাগানো ক্যামেরায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে চারপাশের এলাকা পর্যবেক্ষণ করে নির্ধারিত লক্ষ্যে চলত হামলা। রুশ সামরিক কমান্ড সেন্টার, সামরিক ঘাঁটি, অস্ত্র ও রসদের গুদাম এবং নদী পারাপারের স্থানগুলোকে নিশানা করা হয়েছে। অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল, ইউক্রেনীয় সেনার জীবন বিপন্ন না করে রাশিয়ার দখল করা অঞ্চলগুলি পুনরুদ্ধার।
থার্ড আর্মি কোরের কমান্ডার জেনারেল আন্দ্রি বিলেৎস্কি বলেন, ‘বিশ্বে প্রথমবার শত্রু ভূখণ্ডে ড্রোন নামিয়ে হামলা চালাচ্ছে ইউক্রেন।’ তিনি বলেন, অত্যাধুনিক এই রোবটগুলি আসলে ছোট চার চাকার যান। যা দূর থেকে রিমোর্টের মাধ্যমে পরিচালনা করা যায়। এর অন্দরে বোঝাই করা থাকে বিস্ফোরক। শত্রু সেনা বা লক্ষ্য বস্তুর কাছে পৌছলেই তা বিস্ফোরিত হয়। অত্যাধুনিক এই রোবটের ব্যবহারের ফলে মানব সেনার জীবনের ঝুঁকি অনেকখানি কমে যায়। ল্যান্ডমাইন, গোলাগুলি এবং শত্রুপক্ষের গুলির মুখে পড়ার ঝুঁকি থাকে না মানব সেনার। ড্রোনের মাধ্যমে এগুলিকে শুধুমাত্র নির্দিষ্ট এলাকায় পৌঁছে দিতে হয়ে। রোবটে থাকা ক্যামেরায় অপারেটর ৩৬০ ডিগ্রি ভিউ পান। এবং নির্দিষ্ট লক্ষ্যে বিস্ফোরণ ঘটান।

