সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) এই প্রসিকিউটর সাংবাদিকদের জানান, সাক্ষী যখন বললেন যে আওয়ামী লীগের নেতারা কারফিউ জারির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন, তখন প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ তাকে (সাক্ষী) জিজ্ঞাসা করলেন, এই নেতারা কারা? এই প্রশ্নটা অবৈধ দাবি করে একজন আসামি কামরুল ইসলাম চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করেন এবং আপত্তি উত্থাপন করেন।
কামরুল ইসলাম বাগ্বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ার চেষ্টা করেন উল্লেখ করে প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম বলেন, আদালত অত্যন্ত সন্তুষ্টচিত্তে শান্ত-শিষ্টভাবে বিষয়টি মোকাবিলা করেছেন। প্রসিকিউশনের উদ্দেশ্য একটাই-আসামির বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, সেটা প্রমাণ করা।
প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম বলেন, পরবর্তীকালেও শুনলাম, তিনি রক্ষীদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেছেন এবং এটা আমরা মাঝেমধ্যেই দেখতে পাই। তিনি কেন করেন, এটা আল্লাহই ভালো জানেন।
প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামীম বলেন, এর আগেও আমরা তার বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ পেয়েছি। এখানে যারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে তাকে ওপরে নিয়ে আসা-যাওয়া করেন, প্রায়ই তিনি তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন।
রাশেদ খান মেনন ও কামরুল ইসলামের এ মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রসিকিউশনের দাবি, শেখ হাসিনার সরকারকে টিকিয়ে রাখার উদ্দেশ্যে মেনন ও কামরুল নানা উসকানি দেন। তারা আওয়ামী লীগ সরকার ও ১৪ দলীয় জোটের শীর্ষ পদে থেকে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর মারণাস্ত্র ব্যবহার এবং কারফিউ জারির প্ররোচনা দেন। তাদের ধারাবাহিক ষড়যন্ত্রে রাজধানীর বাড্ডাসহ বিভিন্ন এলাকায় আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালানো হয়।
মেনন ও কামরুলের বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর বাড্ডাসহ আশপাশের এলাকায় ২৩ জনকে হত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের দুটি ঘটনায় সম্পৃক্ততার অভিযোগ আনা হয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তারা দুজনেই গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন।

