ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন করা গেলে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার টিকে থাকতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।
মঙ্গলবার যুবদলের রাজশাহী বিভাগের প্রতিনিধি সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন। প্রতিনিধি সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এর আগে যুবদল ও বিএনপি কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন। পরে ইফতার মাহফিলে অংশ নেন নেতারা।
যুবদল নেতাদের বক্তব্য প্রসঙ্গ টেনে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘আপনাদের কথা ও কাজে যদি মিল থাকে, তাহলে নিশ্চিত করে বলা যায় শেখ হাসিনার ক্ষমতার হায়াত আর বেশি সময় নেই। স্লোগান ও ভাষণের মধ্যদিয়ে কখনো সরকারের পরিবর্তন করা যায় না। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের মধ্যদিয়ে হয়েছে, ভাষণে হয়নি। সেই যুদ্ধের নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং আহ্বান করেছেন মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। সেই জিয়াউর রহমান এই দেশে বহু দলীয় গণতন্ত্র, মুক্তির চেতনা বোধ থেকে একটি রাষ্ট্র গঠনের ভাবনা এবং সংগ্রামের মধ্যদিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন করেছিলেন। যে চেতনাবোধ থেকে স্বাধীনতা, সেই ন্যায়বিচার, সাম্য, সেই গণতন্ত্র আমরা হারিয়ে ফেলেছি।’
বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘সেই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন চলমান এবং এই আন্দোলনের গতি আরো তীব্র থেকে তীব্র হবে-এই আশঙ্কা বোধ থেকে জাতীয় সংসদে অবৈধ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা তার ক্ষেত্রে দেওয়াই স্বাভাবিক। তার কাছ থেকে এর চেয়ে বেশি কিছু আশা করা ঠিক না। এ কথা বলা যায়, শেখ হাসিনার বক্তব্যের মধ্যদিয়ে তিনি আতঙ্কিত, কখন জানি তার পদত্যাগ করতে হয়। তিনি আতঙ্কিত কখন জানি তার ক্ষমতা যায়। অর্থাৎ সে একটা মরণ কামড় দেবে বাঁচার জন্য। সেই মরণ কামড়ের পূর্বাভাস ছিল সোমবারের ভাষণ।’
গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘আমাদেরকে মনে রাখতে হবে, আন্দোলনের পূর্ব শর্ত হচ্ছে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন করা। আপনারা যারা রাজশাহী বিভাগে আন্দোলন সংগ্রাম করছেন, বিশেষ করে রাজশাহী জেলা ও মহানগরে মঞ্চে উপস্থিত নেতৃবৃন্দকে বলব, এখনো সময় আছে, আপনারা ঐক্যবদ্ধ হন, নেতাকর্মীরা যাতে বিভ্রান্ত না হয়। নেতাকর্মীরা যেন ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন করে সফল হতে পারে।’
তিনি বলেন, ‘অস্বীকার করার কিছু নেই, রাজশাহী মহানগর ও জেলায় আপনাদের নেতৃবৃন্দের দ্বিধাদ্বন্দ্বের কারণে কর্মীরা কখনো হতাশ ও বিভ্রান্ত হয়। সেই কারণে আপনাদের বলব, আমাদের জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা করতে হবে, দলের অভ্যন্তরে আন্দোলনরত অন্যান্য দলের সাথে ঐক্যবদ্ধভাবে এই সরকারকে একটা ধাক্কা দিতে হবে; যাতে করে শেখ হাসিনা টিকে থাকতে না পারে।’
এতে যুবদলের রাজশাহী বিভাগের সহসভাপতি মাহফুজুর রহমান রিটনের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান মিনু, হারুনুর রশিদ হারুন, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, শফিকুল হক মিলন, শাহীন শওকত, ওবায়দুর রহমান চন্দন, যুবদলের সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, শফিকুল ইসলাম মিল্টন, নুরুল ইসলাম নয়ন প্রমুখ।

