ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে কফিন মিছিল করেছে গণঅধিকার পরিষদ। শুক্রবার গণঅধিকার পরিষদের পল্টনস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে কফিন মিছিলটি শুরু হয়ে পল্টন মোড় ও নাইটিঙ্গেল মোড় হয়ে বিজয়নগর পানির ট্যাঙ্কির মোড়ে এসে এক সংক্ষিপ্ত বিক্ষোভ সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
বিক্ষোভ সমাবেশে গণঅধিকার পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক মুহাম্মদ রাশেদ খান বলেন, ’১৪ সালে কোনো ভোট হয়নি, ’১৮ তেও হয়নি। ’১৪ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ১৫৩ জন এমপি হয়েছেন। ’১৮ সালে ভোটকেন্দ্র দখল হয়েছে। ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেয়ায় গৃহবধূ ধর্ষণের ঘটনা পর্যন্ত ঘটেছে। তারা আবার ২৪ সালে একইভাবে ভোটাধিকার হরণ করতে চায়। ওবায়দুল কাদের বলছেন, খেলা হবে। রাশেদ প্রশ্ন রেখে বলেন, কিন্তু দলীয় সরকারের অধীনে কিসের খেলা? আর খেলার জন্য তো নিজেরা নামছেন না। পুলিশকে জনগণের বিরুদ্ধে নামিয়ে দিচ্ছেন।
রাশেদ বলেন, আজকে ঢাকা মিছিলের নগরীতে পরিণত হয়েছে। কয়েকদিন আগেই এক এমপিপুত্র রাজধানীতে পুলিশকে পেটালো, এরপর পুলিশ বললো ভুল বোঝাবুঝি।
তাকে ছেড়ে দিলো। এসময় তিনি দেশকে পুলিশি রাষ্ট্র না বানানোর আহ্বান জানান।
ছাত্রলীগকে উদ্ধেশ্য করে তিনি বলেন, ছাত্রলীগের ভাইয়েরা আপনারা আবরার, আবু বক্করদের খুন করে আওয়ামী লীগকে টিকিয়ে রেখেছেন, নমিনেশন কিন্তু আপনারা পাচ্ছেন না। নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে সব কেন্দ্রে জামানত হারাবে আওয়ামীলীগ মন্তব্য করে রাশেদ খান বলেন, অনতিবিলম্বে পদত্যাগ করে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিয়ে বিদায় নিন।
গণঅধিকার পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক হাসান বলেন, আজকে ভোট ডাকাতির ৪ বছর। বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি কলঙ্কিত দিন। আজকে ভোট ডাকাতির বিরুদ্ধে মানুষ জেগে উঠেছে, মানুষের এই জাগরণ খুব শিগগিরই গণঅভ্যুত্থানে রুপ নিবে। মানুষের এই জাগরণে অবৈধ সরকার ভয় পেয়ে দমানোর চেষ্টা যদি করে, তাহলে সরকার নিজের পায়ে নিজেই কুড়াল মারবে।
গণঅধিকার পরিষদের যুগ্ম আহবায়ক হাসান আল মামুন বলেন, ২০১৪ এবং ২০১৮ সালের ভোট চুরির মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষের ভোটের অধিকার হরণ করে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে। এদেশের মানুষের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনতে এবং ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠায় গণঅধিকার পরিষদ বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর মতো রাজপথে থাকবে। যে কোনো মূল্যে নিরপেক্ষ সরকার এবং জনগণের ভোটাধিকার আদায়ই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।
দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক আবু হানিফ বলেন, সরকার জনগণের ভোট ডাকাতি করে ক্ষমতায় আছে, গত ১৪ বছর ধরে বিরোধী মতের ওপর দমন-পীড়ন চালাচ্ছে। আমরা বেঁচে থাকলে প্রতিটা হত্যাকান্ডের বিচার করা হবে। এই সরকারের পতন না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এই আন্দোলন চলবে। এসময় তিনি প্রসাশনকে জনগণের বিরুদ্ধে কাজ না করার আহবান জানান।
দলটির যুগ্ম সদস্য সচিব আতাউল্লাহ বলেন, ’৯০ দশকে আমরা যারা জন্মগ্রহণ করেছি, বর্তমানে তারা তরুণ, আমরা কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন হতে দেখি নাই। ’৭২ এর সংবিধানে সুষ্ঠু নির্বাচন ব্যবস্থা রাখা হয়নি। এ সংবিধান সংস্কার করে স্থায়ী নির্বাচনী ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংস্কার করে সংসদ সদস্যদের স্বাধীন মতপ্রকাশ করার সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।
গণঅধিকার পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক মাহফুজুর রহমান খানের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন, গণঅধিকার পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সোহরাব হোসেন, শাকিলউজ্জামান, সাদ্দাম হোসেন, ড. মালেক ফরাজী, যুগ্ম সদস্য সচিব আব্দুজ জাহের, সদস্য তোফাজ্জল হোসেন, ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লা, যুব অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নাদিম হাসান, শ্রমিক অধিকার পরিষদের সভাপতি আব্দুর রহমান প্রমুখ।

