মনোনয়ন নিশ্চিত হওয়ার পরই আব্দুল লতিফ খুন: নিহতের স্ত্রী

রাজবাড়ী সদরের বানীবহ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল লতিফ মিয়া রাজনৈতিক কোন্দলের কারণে নিহত হয়েছেন বলে ধারণা দলীয় নেতাদের।

আব্দুল লতিফের স্ত্রী শেফালী আক্তার বলেন, চতুর্থধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে গতকাল (বৃহস্পতিবার) তার নৌকা প্রতীকে দলীয় মনোনয়ন পাওয়া নিশ্চিত হয়েছিলো। মনোনয়ন বঞ্চিতরাই এঘটনা ঘটিয়েছে। এর আগেও তাকে অনেকবার হুমকি দেওয়া হয়েছিলো, তিনি তাতে কর্ণপাত করেননি।

স্ত্রী শেফালী আক্তার স্বামীর হত্যাকারীদের খুঁজে বের করে গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

রাজবাড়ী সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রমজান আলী খান বলেন, আব্দুল লতিফকে গতকাল দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিলো। এই হত্যাকাণ্ডের পিছনে তারা, যারা লতিফকে সরিয়ে চেয়ারম্যান হতে চায়। এরাই অতি উৎসাহিত হয়ে এই হত্যাকাণ্ড চালাতে পারে বলে আমার মনে হয়।

জেলা আওয়ামী লীগ এর দপ্তর সম্পাদক ও বর্তমান বানিবহ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা বাচ্চু বলেন, লতিফ আমার দীর্ঘদিনের সহকর্মী। লোক হিসেবে তিনি সবার কাছে অতি ভালো মানুষ। তার ব্যাক্তিগত কোন শত্রু ছিলোনা। এই হত্যাকাণ্ড সম্পূর্ণ রাজনৈতিক ও পরিকল্পিত।

তিনি বলেন গতকাল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ এর বর্ধিতসভা আহ্বান করা হয়।এতে ৫ জন প্রার্থী ছিলেন। এর মধ্য থেকে তাকে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্যদের কন্ঠভোটের মাধ্যমে প্রার্থী নির্বাচন করি। ৭০টি ভোটের মাধ্যমে ৬০টি ভোট পেয়ে প্রথম হন আব্দুল লতিফ মিয়া, দ্বিতীয় হন কাইয়ুম মিয়া, তৃতীয় হন মোহাম্মদ আলী চৌধুরী। আমরা এই তিনজনের নাম উপজেলা আওয়ামী লীগ এর কাছে পাঠাই। আর বাকি দুইজন হলো, স্বপন খান ও হাফিজ। তারা দুইজনই শূন্য ভোট পান।

নিহত লতিফ মিয়ার সঙ্গে বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে ছিলেন স্থানীয় মেহেদি হাসান।

তিনি বলেন, আমি বিকেল সাড়ে ৫ টা থেকে তার সাথে ছিলাম। সারাদিন শেষে রাতে উনি আমাকে বাড়ির সামনে নামিয়ে দিয়ে যান। আমি ঘরে ঢুকতেই কিছুক্ষণ পর গুলির আওয়াজ পাই। পরে চিল্লাচিল্লি করলে আশেপাশের সবাই এগিয়ে আসে। আমরা তাকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দেখে একটি নছিমন গাড়িতে করে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখান থেকে রেফার করে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে ঢাকায় রেফার করে। মানিকগঞ্জ মুন্নু মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিলে তাকে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.