”
ফেডারেল অর্থনীতি বিষয়ক মন্ত্রী পিটার আল্টমায়ার (সিডিইউ) বলেছেন “আংশিক লক -ডাউন আগামী বসন্তকাল পর্যন্ত বলবত থাকতে পারে ” জার্মানির একটি সংবাদপত্র “Die welt” দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা জানান । তিনি বলেন “আমাদের সামনে তিন থেকে চারটি দীর্ঘ শীতের মাস রয়েছে, দুর্ভাগ্যক্রমে, আপনি পুরোপুরি পরিষ্কার করে কিছু বলতেন পারবেন না: এমনটাও হতে পারে যে ২০২১ সালের প্রথম কয়েক মাসে এই বিধিনিষেধগুলি কার্যকর থাকবে।” ইউনিয়ন সংসদীয় দলের নেতা রাল্ফ ব্রিনকাউসও নতুন বছরের প্রাক্কালে করোনার প্রয়োজনীয়তা শিথিল করার বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।
সংক্রমণে রাশ টানতে জার্মানিতে আগামী বসন্ত পর্যন্ত আংশিক লকডাউন চালিয়ে যেতে হতে পারে, জানালেনর অর্থমন্ত্রী পিটার আল্টমায়ার। তিনি বলেছেন, ” “সম্পূর্ণ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে যাওয়ার কথা এখনই নির্ণয় করা সম্ভব হচ্ছে না। কারণ এখনও জার্মানির বড় বড় রাজ্যগুলিতে প্রতি ১ লক্ষ মানুষের মধ্যে কোভিড-১৯ এ সংক্রমিত হচ্ছেন ৫০ জনেরও বেশি।’’
রবার্ট কখ ইনস্টিটিউটের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এই মহামারী শুরু থেকে এখন পর্যন্ত জার্মানিতে সংক্রমিত হয়েছেন ১ ০ লক্ষ ২৮ হাজার ৮৯ জন। শনিবারই খবর মিলেছে নতুন সংক্রমণের। সেই সংখ্যাটা খুব কম নয়। শীতে সংক্রমনের সংখ্যা বাড়তে পারে এমন আশঙ্কা অনেক দিন থেকেই প্রকাশ করে চলেছেন বিশেষজ্ঞরা। গত ডিসেম্বর মাসেই চিনের উহান প্রদেশ উহান থেকে প্রথম সংক্রমিত হওয়ার খবর প্রকাশ পায়।
জার্মানি কার্যত শীতের দেশ। তাই এখনই আংশিক লকডাউন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত যে সঠিক হতে পারে না, সে কথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন জার্মানির অর্থমন্ত্রী। কেন এত দিন পর্যন্ত দেশে আংশিক লকডাউন চালিয়ে যাওয়ার ভাবনাচিন্তা হচ্ছে জার্মানিতে, তার কারণও জানিয়েছেন অল্টমেয়ার। তিনি বলেন ‘‘আমাদের সামনে এখন ৩/৪ মাসের টানা শীতকাল। তাই আগামী বছরের প্রথম ক’টা মাসে দেশে করোনাবিধির কড়াকড়ি থাকবে বলেই মনে হচ্ছে। কারণ, আংশিক লকডাউনের নিয়মকানুন শিথিল হলেই বিপদ বাড়বে।’’
জার্মানির সংবাদপত্রে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী এই কড়াকড়ি আগামী ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়িয়েছেন জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেল। দেশের ১৬টি প্রদেশের প্রধানদের সঙ্গে বুধবার একটি জরুরি বৈঠক করেছেন তিনি। সেই বৈঠকে প্রায় সব প্রদেশের প্রধানরাই কড়াকড়ির মেয়াদ বাড়ানোর পক্ষে রায় দিয়েছেন।
এই নভেম্বরেই লকডাউন কিছুটা শিথিল করা হয়েছিল জার্মানিতে। তার নাম দেওয়া হয়েছে ‘লকডাউন লাইট’। যাতে রেস্তরাঁ ও বার বন্ধ রাখতে বলা হলেও স্কুল, কলেজ ও দোকানগুলি খোলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
মাহবুবুল হক/শুদ্ধস্বর ডটকমের বিশেষ প্রতিনিধি ।

