১৫ আগস্ট এবং সাবেক বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ

গতকালই প্রতিবছরের মতন এবারের জন্যেও ১৫ আগস্ট পাড় হয়ে গেলো। এই প্রতিবছরে একবার করে ফিরে আসা ১৫ আগস্ট, আর বাংলার জনমানুষের মনস্তাত্ত্বিকতায় ১৫ আগস্টের মাঝে অনেক তফাৎ নিশ্চয়ই।  সহজভাবে বললে বলা যায়, এই দেশটির গঠনের পিছনে যে মানুষটিই মূলে, তিনিই বঙ্গবন্ধু।  এই বাংলার বন্ধুর এমন হত্যাদিবসে যে জন হৃদয়ে ব্যথিত হয় না, তাদের জন্য শুধু করুনাই করা যায়, ভিন্ন কিছু নয়।

উপরের কথাগুলো শুধু বলার জন্য বলা নয়, বঙ্গবন্ধুর বিশালতা এবং এই ভূখণ্ডকে অনুধাবনের জন্য বলা । আজকে সে বিষয়ে বলছি না । যা বলবো, তা কেবলি একটি মহৎ উপদেশ বা পরামর্শকে স্মরণ করিয়ে দেবার জন্য বলছি।

সাবেক বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ সাহেব কে? সেটা সবার নিশ্চয়ই আমার চেয়েও ভালো জানা থাকার কথা । সবার স্মরণে আছে নিশ্চয়ই এই সাবেক মাননীয় বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ সাহেব ৯৬ এ যখন আওয়ামী লীগ প্রথম সরকার গঠন করলো ( বলছি ৯০  আন্দোলনের পরের কথা ) সেবার স্বয়ং বর্তমানের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সাবেক বিচারপতি শাহাবুদ্দিন সাহেবকে অনুরোধ করেই ( সত্য হলো অনুনয়/ বিনিনয় করে ) আওয়ামী সরকারের ( হবে দেশের ) রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দিয়েছিলেন । সত্যি বলতে শেখ হাসিনার এমন চমক আর রাজনৈতিক ক্যারিশমা ছিলো শতভাগ প্রশংসনীয়। এই বিচারপতি সাহেবও পুরো সময়কাল ধৈর্য্য সহকারেই রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন । সেই সময়ের রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিন সাহেবের একটি বাণী  নিশ্চয়ই সবার মনে আছে? দেশের রাষ্ট্রপতি মানে কবরে মোমবাতি জ্বালিয়ে কবর জিয়ারত করা আর মিলাদে অংশগ্রহণ করাই মূল কাজ ( এটাও ভিন্ন আলোচনা, কথা প্রসঙ্গে বলা)।

সাবেক বিচারপতি সাহেবের কথা বলছি ভিন্ন একটি বিষয়ের কারণে। সেই সময়ের ( দিন/কাল মনে নেই ) পত্র পত্রিকায় পড়েছিলাম, একবার মাননীয় শেখ হাসিনা নিজে রাষ্ট্রপতির সাথে সাক্ষাৎ করে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের প্রসঙ্গে আলাপচারিতা করেন । এটাও ছিলো শেখ হাসিনার বুদ্ধিমত্তার একটি ভালো প্রশংসনীয় দিক। কেননা, দেশের রাষ্ট্রপতি, দেশের সর্বোচ্চ প্রথম মুরুব্বি এবং আইনের পুরোধা ব্যক্তিত্বের সাথে আলোচনা করাটি ছিলো শতভাগ সঠিক ( দশের সাথে করার পূর্বে ) এবং শেখ হাসিনা এমন একজন মুরুব্বির নিকট হতে শতভাগ সঠিক সিদ্ধান্ত বা পরামর্শটিই পেয়েছিলেন । রাষ্ট্রপতির পরামর্শটি ছিলো, বঙ্গবন্ধুর হত্যার বিচার সাধারণ বিচারকি আদালতেই করা হবে শতভাগ সঠিক, কোনো প্রকার বিশেষ আদালতে নয় । লক্ষণীয় যে, সেই পরামর্শের কল্যাণেই বঙ্গবন্ধু হত্যা বিচারে আজ অব্দি কোনো প্রশ্ন দেশে উঠেনি । আরো লক্ষণীয় যে, সেই বিচার ৯৬ এ ক্ষমতায় থাকা কালিন শেষ হয়নি, অতঃপর শেষ হয়েছে এবারের ক্ষমতায়নে ( ২০০৮ এর ক্ষমতায় আসার পরে )।

লক্ষ্য করুন, যদি বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারটি কোনো বিশেষ আদালতে হতো, তাহলে শতভাগ সঠিক বিচার হলেও হয়তো বা নানান প্রশ্ন উত্থাপিত হতে পারতো । সাবেক বিচারপতির জ্ঞানসম্পূর্ণ একটি উপদেশের কল্যাণে আজকে সেই প্রশ্ন তোলবার কোনো পক্ষেরই কোনো সুযোগ সৃষ্টি হয়নি । পরামর্শ হলে এমন সঠিক পরামর্শই কাম্য। যা সাবেক বিচারপতি শাহাবুদ্দিন সাহেবের কাছ থেকে বঙ্গবন্ধু কন্যা পেয়েছিলেন এবং দেশও একটি সুষ্ঠু বিচার পেয়েছে ।

এমন একজন মানুষের জন্য আওয়ামী লীগের ভিতরে কতটুকু সম্মান পরবর্তীতে নিহিত ছিলো, সেটা ভিন্ন প্রশ্ন এবং বড় আলোচনা।  এখানে বলা প্রয়োজন, সাবেক বিচারপতি শাহাবুদ্দিন সাহেব দায়িত্ব পালন কালিন এবং শেষে ভিন্ন কোনো কিছুতেই লোভ লালসার চিহ্ন রাখেন নি । আজকের দিনে জানিনা বা বুঝা মুশকিল যে, সত্যিকারেই স্বাধীনতা যুদ্ধের নেতৃত্বদানকারি দলটির উপদেষ্টা বা পরামর্শক কারা ? এই প্রশ্নের উত্তরটি সত্যি জানতে ইচ্ছে করে ।

১৫ আগস্ট শোক দিবসে প্রয়াত সকলের আত্মার শান্তি কামনা করি। 

20190210_195317

বুলবুল তালুকদার 

যুগ্ম সম্পাদক শুদ্ধস্বর ডটকম ।

 

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.