এত টকশো হয় সব চ্যানেলে, তাতে কি মানুষের উপকার হয় ?

টিভিতে এত টকশো এত কথা। সাধারণভাবে যারা গণমাধ্যম বা টকশোর বিশ্লেষক তাদের কে অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ পেয়ে থাকেন। টকশো অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে যেসব অতিথি অংশগ্রহণ করেন, অনেক টিভি চ্যানেল তাদের সম্মানী হিসেবে কিছু অর্থ প্রদান করে থাকে। আবার এমন অনেক টিভি চ্যানেল রয়েছে যেগুলোর মালিকপক্ষ মনে করে, টকশোতে আলোচক হিসেবে অংশগ্রহণের সুযোগ দিয়ে তারা যে আলোচকদের প্রচারের ব্যবস্থা ও সমাজে ব্যক্তিত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতা করছেন সে কারণে সম্মানী দেয়া দূরের কথা, আলোচকদের উল্টো তাদের আর্থিক বা অন্য যে কোনোভাবে সন্তুষ্ট করা উচিত। আবার এমন অনেক আলোচক রয়েছেন, যারা তাদের সম্মানী হিসেবে প্রদত্ত যৎসামান্য অর্থ গ্রহণ থেকে বিরত থাকেন। এ অর্থ টকশো অনুষ্ঠান সংশ্লিষ্টরা নিয়ে থাকেন এবং পরবর্তীকালে দেখা যায়, এ ধরনের আলোচক অন্যদের তুলনায় বেশি আমন্ত্রিত হচ্ছেন। কোন এক টিভিতে (নাম নাই বললাম) করোনাভাইরাস নিয়ে একটা টকশো চলতেছে। আমি টকশোটিতে দেখলাম যে, টকশোতে আমন্ত্রিত অতিথিদের কে উপস্থাপক একটা প্রশ্ন করলো যে, আপনি বা আপনারা এই ক্লান্তি লগ্নে মানুষের পাশে কিভাবে দাঁড়াবেন। আর এতে পন্ডিতেরা বলে যাচ্ছে, এই, সেই….. বলেছেন কিন্তু কেউ বললনা যে, আমি ১০ হাজার মাস্ক বা স্যানিটাইজার বরাদ্দ করেছি। উনারাই আবার আলোচনা শেষে প্রাইভেট কারের গ্লাস বন্ধ করে, নাকে মাস্ক লাগিয়ে স্থান ত্যাগ করছেন। করোনার সমাধান কি এটাই? কিভাবে এই ভাইরাস মোকাবেলা করবে সেটা নিয়ে মানুষের মধ্যে আছে দুশ্চিন্তা। আর উনারা আছে টকশোতে শুধু কথার ফুলঝুড়ি। তারা রাতজেগে টকশোর নামে জাতিকে কি দিচ্ছেন?? অন্য আরেক টিভিতে দেখলাম কিছু পন্ডিত আবাল টকশো। দৃষ্টিভঙ্গি এবং বিশ্লেষণের ধরন ব্যক্তিভেদে ভিন্নতর। এখানেই নিহিত স্রষ্টার সৃষ্টির বিশেষত্ব। করোনাভাইরাস নিয়ে যখন পুরো পৃথিবী জুড়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা, আতঙ্ক বিরাজ করছে তখনও আমাদের পন্ডিত আবাল গংদের( নাম নাই বললাম) দৃষ্টিভঙ্গি, বিশ্লেষণ একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে টার্গেট করে চলছে। লক্ষ্মীপুরে দোয়ার অনুষ্ঠান, মসজিদে জামায়াত নিয়ে তাদের উৎকণ্ঠার শেষ নেই (আমি গণজামায়েতের পক্ষে বলছি না, তাদের মোটিভের কথা বলছি)। পক্ষান্তরে আরেক রাজনৈতিক ব্যক্তি হাত ধোয়ার অনুষ্ঠান, সিনেমা হলে, উপনির্বাচনে, গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে, মাক্স দেয়ার নামে হাজার মানুষের জমায়েত নিয়ে তাদের উৎকণ্ঠা দেখা যায় না। আবার করোনাভাইরাসে মৃত মুসলমানদের কবর না দিয়ে পুড়িয়ে ফেলা যায় কিনা তা নিয়েও তারা টকশো করেন, আর এর পক্ষ সমর্থন করেন পন্ডিত আবাল গংদের (নাম নাই বললাম) চিন্তার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এমন অনেক পন্ডিত আবাল গং (নামনাই বললাম) আমাদের চারপাশে বিচরণ করছে যারা অতি সুকৌশলে প্রতিনিয়ত নির্দিষ্ট একটি সম্প্রদায়কেই টার্গেট করে যাচ্ছে। তাদের কূটকৌশলের লক্ষ্যবস্তু থেকে আল্লাহ আমাদের হেফাজত করুন। এরকম সমাজে বহু লোক আছে যারা শুধু সমালোচনা করতে ব্যস্ত। অথচ নিজে কিচ্ছু ছিড়তে পারিনি। বর্তমানে কাঁদা ছুরাছুরি বন্ধ করুন। মানুষের পাশে দাঁড়ান।মারা গেলে আপনার এই সাহায্যের কথা সবাই সারাজীবন মনে রাখবে। তাই আসুন সবাই সবার পাশে দাঁড়াই। করোনা নিয়ে বাড়াবাড়ি না করে প্রত্যেকে যার যার দায়িত্বটুকু পালন করি। কোনো বিষয় নিয়ে-ই বাড়াবাড়ি ভালো না। বিষয়টি যদি করোনারভাইরাস মোকাবিলার মতো হয়, তাহলে তো আরও আগে না। কিন্তু আমাদের মধ্যে করোনা নিয়ে বাড়াবাড়ি চলছেই। কিন্তু এ অবস্থায় এমন বাড়াবাড়ি এটি শুধু আত্মঘাতীই হবে না বরং জাতির জন্যও দুর্দশার কারণ হিসেবেও আবির্ভূত হতে পারে। পরিশেষে বলি, হে আল্লাহ! করোনাভাইরাস এর মহামারী থেকে আমাদেরকে হেফাজত করুন। হে আল্লাহ! আমাদের পাপের কারণে মসজিদের নামাজের জামাত থেকে বঞ্চিত করো না। হে আল্লাহ! আমাদের সবাই কে সব ধরনের মহামারী ও দুরারোগ্য ব্যাধি থেকে হেফাজত করুন। হে আল্লাহ! আমাদের তাওবা কবুল করুন। আমিন।

20181210_131841

 আবু জাফর শিহাব(এল এল বি)

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.