বিজয়ের মন্ত্রীসভার সদস্য একমাত্র তরুণী

বাংলার পাশাপাশি তামিলনাড়ুতেও পালাবদলের সূচনা। রবিবার সকালে ছিল রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রশেখর জোসেফ বিজয়ের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান। এ দিন তাঁর পাশাপাশি মন্ত্রীসভার আরও ন’জন মন্ত্রী শপথগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি সকলের নজর কেড়েছেন শিবকাশী থেকে নবনির্বাচিত তরুণ নেত্রী এস কীর্তনা।

চেন্নাইয়ের জওহরলাল নেহরু ইনডোর স্টেডিয়ামে রবিবার শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানেই বাকিদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন এস কীর্তনা। শিবকাশী বিধানসভা কেন্দ্রের মহিলা বিধায়ক। বছর ২৯-এর এই তরুণী এ বার ‘আতশবাজির রাজধানী’ হিসেবে পরিচিত এই কেন্দ্রে ইতিহাস রচনা করেছেন। গত সাত দশক ধরে কেন্দ্রটি পুরুষ প্রার্থীদেরই দখলে ছিল, এ বার সেখানেই ঐতিহাসিক জয় তাঁর। ১১,৬৯৭ ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন কীর্তনা।

এদিনের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান থেকে উচ্ছ্বসিত কীর্তনা সংবাদসংস্থাকে সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, ” এ এক অবিস্মরণীয় অনুভূতি! অন্য কোনও রাজ্য সরকার সম্ভবত আমাদের মতো তরুণদের মন্ত্রিসভায় জায়গা করে দেওয়ার সাহস করত না। তাই এই দায়িত্ব পেয়ে ভীষণ খুশি। গোটা বিশ্বকে দেখিয়ে দিতে চাই, আমরাও দক্ষতার সঙ্গে সরকার পরিচালনা করতে পারি।”

সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী কীর্তনা নতুন মন্ত্রীসভার কনিষ্ঠতম সদস্য। দক্ষিণী রাজনীতিতে বরাবরই ভাষার গুরুত্ব অপরিসীম।সেখানে কীর্তনা প্রথাগত গণ্ডি ভেঙে তামিল ছাড়াও আরও বেশ কয়েকটি ভাষায় পারদর্শী। বিশেষত, হিন্দি ভাষায় তাঁর পারদর্শিতা রাজনৈতিক মহলে নতুন চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে। বিশ্লেষকদের মতে, টিভিকে-র বিজয়ের ‘ধর্মনিরপেক্ষ ও সামাজিক ন্যায়বিচারের’ রাজনীতিতে কীর্তনার মতো শিক্ষিত এবং নানা ভাষায় পারদর্শী এই তরুণী আগামী দিনে বড় ভূমিকা পালন করতে চলেছে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি বাংলার মতোই তামিলনাড়ুতেও পালাবদলের সাক্ষী থাকেছে দেশ। জনপ্রিয় অভিনেতা থেকে রাজনীতিতে প্রবেশ করা বিজয়ের নেতৃত্বে টিভিকে বিধানসভা নির্বাচনে ২৩৪টির মধ্যে ১০৮টি আসন জিতে চমকপ্রদ ফল করেছে। রবিবার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার অনুষ্ঠানে জমকালো সাজে হাজির ছিলেন বিজয়। পরনে ছিল কাল ট্রাউজ়ার, শাদা শার্ট, কালো ব্লেজ়ার। চেন্নাইয়ের জওহরলাল নেহরু ইনডোর স্টেডিয়ামে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সকাল ১০টায় শুরু হয়েছে শপথগ্রহণ। চেন্নাইয়ে মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অভিনেত্রী তৃষা ও কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী।

এদিন বিজয়ের পাশাপাশি তামিলনাড়ুর মন্ত্রিসভার আরও ৯ জন মন্ত্রী শপথগ্রহণ করেছেন। এই তালিকায় রয়েছেন কেএ সেনগোট্টাইয়ান, নির্মল কুমার, আধব অর্জুন, টিভিকে জেনারেল সেক্রেটারি আনন্দ, রাজ মোহন, ড. টিকে প্রভু, অরুন রাজ, কীর্তনা, পি ভেঙ্কটারামন।

২০২৬-এর এই বিধানসভা নির্বাচন ছিল আক্ষরিক অর্থেই এক থ্রিলার। নির্বাচনে বিজয়ের দল ১০৮টি আসন জিতে একক বৃহত্তম দল হিসেবে উঠে এলেও, সরকার গড়ার জন্য প্রয়োজনীয় ১১৮-এর ম্যাজিক ফিগার থেকে কিছুটা দূরে ছিল। গত পাঁচ দিন ধরে চলে দফায় দফায় বৈঠক ও রাজনৈতিক চাপানউতোর। রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করার পরেও জট কাটছিল না।

অবশেষে ভিসিকে, আইইউএমএল, কংগ্রেস এবং বাম দলগুলোর নিঃশর্ত সমর্থনে বিজয়ের জোট ১২০-এর গণ্ডি স্পর্শ করে। এর পরেই শনিবার সন্ধ্যায় রাজভবনে গিয়ে রাজ্যপাল রাজেন্দ্র আরলেকারের কাছে সরকার গড়ার দাবি জানান বিজয়।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Discover more from শুদ্ধস্বর ডটকম

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading