যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পোশাক রফতানিতে দ্বিতীয় অবস্থানে বাংলাদেশ

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তৈরি পোশাক রফতানিতে দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে বাংলাদেশ। চীনের রফতানি কমে যাওয়ায় দ্বিতীয় অবস্থানে উন্নতি হয়েছে বাংলাদেশের। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পাল্টা শুল্ক নীতির চাপ এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য পরিস্থিতির পরিবর্তনে এই নতুন ভারসাম্য তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগের অধীন সংস্থা অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেলের (অটেক্সা) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ সময়ে যুক্তরাষ্ট্র মোট এক হাজার ৭৭৩ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক আমদানি করেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১১ দশমিক ৬০ শতাংশ কম। এই সময়ের মধ্যে বৈশ্বিক রফতানি প্রবাহে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা গেছে।
অটেক্সার তথ্যে দেখা যায়, একই সময়ে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রে ২০৪ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রফতানি করেছে। যদিও এটি আগের বছরের তুলনায় ৮ দশমিক ৩৮ শতাংশ কম, তবে চীনের রফতানি আরও বড় পতনের মুখে পড়ে বাংলাদেশকে এগিয়ে দিয়েছে। চীন এই সময়ে মাত্র ১৭০ কোটি ডলারের পোশাক রফতানি করে, যা আগের বছরের ৩৬১ কোটি ডলারের তুলনায় ৫৩ শতাংশ কম। ফলে বাংলাদেশ দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে আসে।
শীর্ষ অবস্থানে থাকা ভিয়েতনাম জানুয়ারি-মার্চ সময়ে ৩৯৮ কোটি ডলারের পোশাক রফতানি করেছে এবং তাদের রফতানি ২ দশমিক ৭৩ শতাংশ বেড়েছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের মোট পোশাক আমদানির ২২ শতাংশ ভিয়েতনামের দখলে। বাংলাদেশের অংশ সাড়ে ১১ শতাংশ।
একই সময়ে ইন্দোনেশিয়ার রফতানি ১২২ কোটি ডলার এবং ভারতের রফতানি ১১০ কোটি ডলার হয়েছে, যেখানে ভারতের রফতানি ২৭ শতাংশ কমেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, পাল্টা শুল্কনীতি বৈশ্বিক পোশাক বাজারে নতুন প্রতিযোগিতামূলক কাঠামো তৈরি করেছে। বাংলাদেশ শুরুতে তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থানে থাকলেও সেই প্রভাব স্থায়ী হয়নি। শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কহার পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর চাপ কিছুটা কমে ক্রয়াদেশ বেড়েছিল।
তবে পরে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং ইরান যুদ্ধের কারণে সরবরাহব্যবস্থার চাপে যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা চাহিদা কমে যায়। এতে নতুন ক্রয়াদেশে ধীরগতি দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন শিল্প সংশ্লিষ্টরা । সুত্র : সময়ের আলো ।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.