দূরবাসিনী

হেমন্তের এক মেঘলা দিনের বেলাশেষে প্রিয়তমার কাছে একটা চিঠি লেখবার হলো বড় সাধ। মৃদুমন্দ উত্তরের হাওয়া,মেঘলা আকাশ, মায়াবী শহর দেখতে দেখতে হৃদয়ের অলিন্দে কখন যে প্রেয়সীর স্মৃতিরা ভীড় করে বলা মুশকিল। জীবন বাবু মানে জীবনানন্দ দাশের যেমন লাশকাটা ঘর থেকে প্রিয়তমাকে দেখবার সাধ হয়েছিল আমারো তেমনি প্রায়শই তাকে দেখিবার সাধ জাগে। এক সাহারা তৃষ্ণা যেন এসে ভর করে দু’চোখে আমার। এক ছুটে মন হারিয়ে যায় ব্লু পর্বতমালার সেই পাদদেশে। যেখানে আমার প্রেয়সী আছে। ওশেনিয়ার বরফ আচ্ছাদিত পর্বত শৃঙ্গ গুলোর মতো উচু যার ব্যক্তিত্ব,আবলুস কাঠের মতো কালো যার চুল আর চোখের মনি,তুষারের মতো শুভ্র যার কপোল,জাপানের নিক্কন শহরে উদিত সকালের প্রথম সূর্যের মতো লাল যার ঠোঁট, সেই প্রিয়তমা আমার। আটলান্টিকের মতো বৃহৎ যার হৃদয়। সেই প্রিয়তমা আমার। যার শরীর থেকে বেলী হাস্নাহেনার ঘ্রাণ বের হতো,যার চুমুতে খুঁজে পাওয়া যেতো হাউজে কাউসারের তৃপ্তি,হাজরে আসওয়াদের স্পর্শ,সেই প্রিয়তমা আমার। কিন্তু কি আজব! শব্দরা ধর্মঘট করলো!অসার হয়ে আসলো মস্তিষ্কের কোষগুলো। অন্তরাত্মায় কারা যেন আওয়াজ তুলল,ভাল থাকিতে দাও তারে.. ভালই থাকুক দূরবাসিনী প্রিয়তমা.. ( অনুগল্প )

55526869_2241795666093647_6169833379559636992_n

জাকওয়ান হুসাইন।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.