কথার চর্চা

বাংলাদেশের রাজনীতি কোন পথে ? এটা বলতে হলে , বিস্তারিত বলতে হবে, নিজের মতামত বা ভাবনা পরিষ্কার করে সময়েই লিখবো। রাজনীতির কথা আসলেই, আমাদের কথার চর্চা নিয়ে কথা চলে আসে । আমরা দোষারোপের রাজা, বলা যায় সবাই। সেটা সাধারণ জনতা বা রাজনীতিবিদ , এ টু জেড। দেশে কত অস্বাভাবিক বিষয়  ঘটে যাচ্ছে, যা নিয়ে আমরা শুধু কথার চর্চায় মগ্ন! রাজনীতিবিদগণ একে অপরকে কথার বানে জর্জরিত করে ফেলেন। পাশাপাশি আমরা সাধারণ জনতাও কম যাই না। শুধু বকবক করেই যাই। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এখন সেই সুযোগটা ভালোই করে দিয়েছে এবং ব্যবহারও বেশ। তবে এখানেও কেবল দোষারোপের বার্তা,দলীয়  চর্চা , সুযোগ বুঝে বলা , লাইন বুঝে বলা , সর্বোপরি নিজের সুবিধে মত বলা ! অবশ্য এর পিছনেও কারণ আছে, কে জেনে বুঝে নিজের বিপদ ডেকে আনবে।

কথাগুলো কেন বললাম? কথার চর্চার উদাহরণ না দিলেও চলবে। সকলেরই শত উদাহরণ জানা আছে। আমি দেশ পরিচালনাকারী  কথা বাদ দিয়েই বলছি, সাধারণ জনতা কি কথার চর্চা ছাড়া খুব বেশি কিছু করি ? এইতো গত কয়েকদিন আগেই দেশে গ্যাসের দাম বাড়ানো নিয়ে কত হইচই । ধানের দাম কমে যাওয়ায় কত আক্ষেপ । ডেঙ্গু তো চলছেই আর মানুষ ঝড়ছেই । এখন তো আবার নতুন করে এলো চামড়া কাহিনী! এই গ্যাস বা ধান নিয়ে  দেশের বড় বা রাজপথের বিরোধী দল (!) বিএনপি কি এমন পদক্ষেপ নিয়েছে ? উত্তর হলো শূন্য । এখন হয়তো বিরোধী বা বিএনপি ঘরনার লোকেরা বলবেন, আরে ভাই  কোর্ট কা চারি করতেই তো দিন যায়! তাছাড়া  বুকে গুলি করে ! ভাই-বোন / ভাবা-মা সহ তুলে নিয়ে  যায়! অত্যাচার কি পরিমাণ করে , ধারণা নাই , তাই বলে যাচ্ছেন, আচ্ছা মানলাম। ওরা ( বিএনপি) না হয় এই গ্যাস/ধান নিয়ে কিছুই করে নি, শুধু কথার চর্চা ছাড়া । বলতেই হয়, জনগণের দাবী বা জনবিষয় নিয়ে  রাজনীতি না করতে পারলে, এর ফলাফলও ওদের ভুগতে হবে, রাজনৈতিক দল হিসেবে। মাননীয় খালেদা জিয়াকে অন্যায় বা ন্যায়সঙ্গত যেভাবেই হোক জেলে রেখেছে। বিএনপির মত এত্তবড় দল কেবলি খালেদার আন্দলোন (!) করে কি রাজনৈতিক দল হিসেবে পাড় পাবে ? জনগণের বিষয় যদি সামনে না আসে, ধীরে ধীরে জনগণও একদিন তাদের নিরব সমর্থনের মুখ ফিরিয়ে নেবে। শুধু নীরব সমর্থন বলে যা ভেবে রেখেছেন, সেটাও একদিন বাঁক নিতে বাধ্য হবে। তখন পুরোপুরিই কুলহারা কলঙ্কীনি হবেন ।

এই সবের ভুক্তভোগী জনগণ কোথায় যাবে? বা কার পিছনে সামিল হবে ? এখানেও আমরা জনগণ সেই মত বা দর্শনের বাহিরে যেতে পারি না ! লক্ষ্য করুন, এই সব ন্যায্য দাবী দাওয়া নিয়ে ছোটো দল হলেও, বামেরা রাজপথে ছিলো এবং বেশ শক্তভাবেই ছিলো । কিন্তু সমস্যা হচ্ছে অল্পকিছু তাদের জনবল নিয়ে ছিলো। লক্ষ্যকরে থাকবেন একমাত্র তারাই ছিলো, পুলিশের মার খেয়েছে ন্যায়ের কথা বলতে গিয়ে, সেই অল্পকিছু মানুষ!!! কই সেদিনতো সকল মত বা আদর্শ বাদ দিয়ে  সত্য ও ন্যায়ের দাবী নিয়ে তাদের সাথে কেউ সামিল হয় নাই। সেই দাবী তো ছিলো সকলের মনের দাবী। মানলাম বামেরা নিজেদের আদর্শের কারণে মাঠে নেমেছিলো। তারপরেও তো তাদের সারিতে  ন্যায়ের জন্য দাঁড়ানো যেতো। দাবী আদায়ের পরে , না হয় ফিরে আবার নিজেদের আদর্শে ভীরা যেত , অসুবিধে কি ছিলো ? কেউ মাঠে নাই, অন্তত যারা ছীলো তাদের পাশে দাঁড়ানো কি উচিত ছিলো না ? শুধু কথার চর্চায় চিরে ভিজবে কি ? যার যার অবস্থান থেকে যদি সত্য ও ন্যায়ের কথা যারাই বলুক, তাদের হাতকে শক্তিশালী না করা যায়, তবে আগামীতে সকলকেই আরো বেশি ভুগতে হবে। এটা বলতে কোনো গণক হওয়ার প্রয়োজন নিশ্চয়ই নাই।

উপরের এত কথা বলার কারণ, ইতিমধ্যেই দেশের  সবাই জেনে গেছে,  আমাদের আখাউড়ার সাথেই ভারত বর্ডারে এসে এয়ারপোর্ট বানাতে চাচ্ছে ! ভারত তো পরাশক্তি,  তা হঠাত্ করে এই গরীব দেশের জমি লাগবে কেনো ? তাদের অন্য কোথাও বিশাল এয়ারপোর্ট বানাক, কেউ তো মানা করছে না !  আসলে এয়ারপোর্টের নাম করে আখাউড়া পোর্টটা দখল করার ধান্দা করছে কিনা ? তাহলে ঐ এলাকার জন্য একটা নৌপোর্টও কব্জা হয়। দেশের জনগণ হিসেবে তো সেটা ভাবতেই পারি । সেটাই বা কে বলতে পারবে ? কেননা ওরা আমাদের বন্ধুপ্রতিম (!) দেশ, তবে কার্যকলাপে কতটুকু বন্ধুত্ব বজায় রেখেছে ? সেই প্রশ্ন  করা নিশ্চয়ই অন্যায় হবে না । বাংলাদেশের বিরুদ্ধে এটা আবার আগ্রাসনের ষড়যন্ত্র কিনা ? এটা এখন ভাববার বিষয় বটে। এদিকে আবার পররাষ্ট্র মন্ত্রী ও সচিবের কথা , সাথে প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য বা কথার চর্চা খুব বেশি ভালো ঠেকছে না !

এই সব কথা বলতে গেলেই বাংলাদেশের রাজনীতি কোন পথে সেটাই বিস্তারিত বলতে হবে। তবে লেখার শেষে শুধু বলবো, কেবল কথার চর্চা  না করে , ছোট বা বড় দল যারাই সঠিক, ন্যায়ের পথে, দেশের জন্য কথা বলে, অন্তত তাদেরকে যেন অবহেলা না করি। অন্তত  তাদের পাশে দাঁড়াই। তাদের শক্তির যোগান দেই , সময়ে না হয় আবার ফিরে আসলাম, কিন্তু সত্যের হাতকে হেলায় যেন না হারাই। কেননা বড় দলগুলো তো অনেক দেখিয়েছে , ওরা বিদেশী শক্তির সাথে কি সমঝোতা করে? আমরা জনগণ অনুমান করি মাত্র, সত্যি কখনোই জানতে পারি না। আমার এই কথাটিও আবার হেলায় ফেলায় ফেলনা ভেবে ফেলে দিবেন না। সুতরাং দ্বিতীয়বার ভাবুন। শুধুই কথার চর্চায় না আবার সব হাত ফোঁসকিয়ে বেড় হয়ে যায় ।

20190210_195317

বুলবুল তালুকদার 

সহকারী সম্পাদক, শুদ্ধস্বর ডটকম 

 

 

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.