
অ্যাডভোকেট আনসার খান : বাংলাদেশের তিন সীমান্ত জুড়ে অবস্থিত নিকট প্রতিবেশী ভারত। বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক এই রাষ্ট্রে শুরু হয়েছে ভোট উৎসব। প্রতি পাঁচ বছর অন্তর অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার বেছে নেয় দেশটির জনগণ। তাই ভারতের সাধারণ নির্বাচন নিয়ে একটা আগ্রহ পরিলক্ষিত হয়ে থাকে। চলতি নির্বাচন নিয়েও তেমন আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বাংলাদেশের সচেতন মানুষের দৃষ্টি এখন ভারতের সাধারণ নির্বাচনের দিকে।
ভারতের পার্লামেন্ট দু’টি কক্ষ নিয়ে গঠিত। এর মধ্যে সর্বোচ্চ শক্তিশালী কক্ষ হলো নি¤œকক্ষ হিসেবে পরিচিত-‘লোকসভা’। এ কক্ষের ৫৪৩টি আসনের জন্য ১১ এপ্রিল থেকে ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে এবং শেষ হবে কয়েকটি ধাপে ১৯ মে ২০১৯। অর্থাৎ প্রায় সাড়ে পাঁচ সপ্তাহের নির্বাচন উৎসবে ভারতে ৯০০শ মিলিয়ন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে ১৭তম লোকসভায় তাদের পছন্দের প্রার্থী নির্বাচন করবেন। উল্লেখ্য যে, ৯০০ মিলিয়ন ভোটারের মধ্যে পুরুষ ভোটার হলেন ৪৬৮ মিলিয়ন, মহিলা ভোটারের সংখ্যা ৪৩২ মিলিয়ন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার হলো ৩৮,৩২৫ মিলিয়ন।
চলমান এ নির্বাচনে জাতীয় এবং আঞ্চলিক মিলে কমপক্ষে ৫০টি রাজনৈতিক দল অংশ নিয়েছে এবং এগুলার মধ্যে প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দল হলো ঃ বর্তমানে ভারতের রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকা ভারতীয় জনতা পার্টি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্রমোদীর নেতৃত্বাধীন এ দলটির সুপরিচিত সংক্ষিপ্ত নাম হলো বিজেপি। আর বিজেপির জন্য প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী দল হলো ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস বা আইএনসি। এ দলের নেতৃত্বে আছেন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী নেহরু এবং ভারতের এক সময়ের সবচেয়ে প্রভাবশালী প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর বংশধর রাহুল গান্ধী। উল্লেখ্য যে, ইন্দিরা গান্ধীর ছেলে ভারতের তদানীন্তন প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর ছেলে হলেন কেমব্রিজ ও হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়–য়া রাহুল গান্ধী।
উপরোক্ত দুটি রাজনৈতিক দল ছাড়াও অন্যান্য শক্তিশালী জাতীয় দল ও আঞ্চলিক দলগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস (এআইটিসি), বহুজন সমাজ পার্টি (বিএসপি), দ্রাবিড় মুনেত্রা কাজাগম (ডিএমকে), ভারতীয় কম্যুনিস্ট পার্টি, ভারতীয় কম্যুনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী) এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দল।
বিধান অনুযায়ী ৫৪৩ আসনের মধ্যে যে দল বা জোট ২৭২ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে, সে দল বা জোটই ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার গঠন করবে। তাই নির্বাচনে জেতা ও সরকার গঠনের লক্ষ্য নিয়ে জোট করেই নির্বাচনে নেমেছে বিজেপি। এ জোটের নাম ন্যাশন্যাল ডেমোক্রটিক এলায়েন্স বা এনডিএ। অন্যদিকে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসও জোট করেছে। জোটের নাম হলো-ইউনাইটেড প্রোগ্রেসিভ এলায়েন্স বা ইউপিএ।
উল্লেখ্য যে, ২০১৪ সালের ১৬তম লোকসভা নির্বাচনেও বর্ণিত দুটি জোট নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলো এবং ঐ নির্বাচনে নরেন্দ্রমোদীর নেতৃত্বাধীন এন.ডি.এ জোট ২৮২ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিজয়ী হয়েছিলো এবং গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী থেকে ওঠে এসে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদী। এটা ছিলো মোদীর জন্য বিস্ময়কর উত্থান। তবে এটাও সত্য যে, গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালেই মোদী নিজেকে একজন হিন্দুত্ববাদী জাতীয় নেতা হিসেবে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছিলেন। তাঁর দ্বারাই ভারতের হিন্দুত্ববাদের পুনরুত্থান ঘটেছিলো। ফলে মোদী অসম্ভব জনপ্রিয় একজন নেতা হিসেবে ২০১৪ সালের নির্বাচনে জাতীয় কংগ্রেসের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন এবং এমনকি, সে নির্বাচনকে মোদী বনাম অবশিষ্টের মধ্যেকার নির্বাচন হিসেবে গণ্য করা হয়েছিলো।
তবে চলতি জাতীয় নির্বাচন মোদী ও তাঁর দল বিজেপি এবং এনডিএ জোটের জন্য ২০১৪ সালের ন্যায় সহজ হবে না। শুধু মোদী ইমেজ কাজে লাগিয়ে নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়া অনেকটাই কষ্টকর হবে বলে মনে করছেন নির্বাচন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। ইতোমধ্যেই রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে জাতীয় কংগ্রেস ও ইউপিএ জোট মোদী ও তাঁর জোটের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এক চ্যালেঞ্জার হিসেবে আবির্ভুত হয়েছে এবং অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গের মমতা ব্যানার্জীও মোদীকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন। মোট কথা-নির্বাচন পর্যালোচনা করে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলেছেন, এবারের নির্বাচনে জিতে আসা মোদীর জন্য বিরাট চ্যালেঞ্জ।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০১৪ সালের নির্বাচনে হিন্দুত্ববাদী জাতীয়তাবাদ প্রচারের পাশাপাশি মোদী ভারতীয় জনগণকে নতুন দিনের স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন। মানুষের জীবনমানের উন্নতি, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে চাকুরী প্রার্থীদের জন্য চাকুরীর ব্যবস্থা করা, দুর্নীতি নির্মূল করা ইত্যাদি কর্মসূচিগুলো তুলে ধরে ভোটারদের মন জয় করে নিয়েছিলেন। মানুষ মোদীর কথায় এক নতুন ভারতের স্বপ্ন দেখেছিলো এবং ব্যাপক হারে তাঁকে ভোট দিয়েছিলেন এবং বিশেষ করে ভারতের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে মোদীর পক্ষে ভোট বিপ্লব হয়েছিলো বলা যায়।
২০১৪ সালের ৫৪৩ আসনের মধ্যে মোদীর দল পেয়েছিলো ২৮২ আসন। ভোট পড়েছিলো ৩১% শতাংশ। দেখার বিষয় যে, ২৮২ আসনের মধ্যে কেবল বিহার, গুজরাট, রাজস্থান, উত্তর প্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ ও মহারাষ্ট্র-এই ছয়টি রাজ্যে মোদীর দল পেয়েছিলো ১৯৪ আসন। অর্থাৎ মোট আসনের ৬৯% শতাংশ আসনই পেয়েছিলো বিজেপি বা মোদীর দল। এই ছয়টি রাজ্যই মোদী ও তাঁর দলকে বিজয়ী করে তুলতে সহায়ক হয়েছিলো বা বলা যায় এই ছয়টি রাজ্যের জনগণই মোদীকে ভারতের রাষ্ট্র ক্ষমতায় নিয়ে এসেছিলো। কেননা, ছয় রাজ্য ব্যতীত সারা ভারতে তাঁর দল আসন পেয়েছিলো মাত্র ৮৭ আসন।
চলতি নির্বাচন ২০১৪ সালের নির্বাচন থেকে অনেকটাই ব্যতিক্রম বলছেন বিশ্লেষকরা। হিন্দুত্ববাদী জাতীয়তাবাদ খুব একটা প্রভাব রাখতে পারবে না বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ২০১৪ সালে দেওয়া প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নে খুব একটা সফল হতে পারেননি মোদী। কিছু কিছু ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক অগ্রগতি হলেও মানুষের জীবনমান উন্নয়নে এবং দারিদ্র্যতা দূর করতে ব্যর্থ হয়েছে বিজেপি সরকার। কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে বেকারত্ব দূর করতে পারেননি মোদী। বরং বেকারত্বের মাত্রা আরো বেড়ে গেছে বলে বিভিন্ন তথ্যে দাবি করা হচ্ছে।
হরিয়ানা স্টেটস অশোকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ও রাষ্ট্র বিজ্ঞানী গিলস ভারনিয়ার বলেন, ‘মোদীর শাসনে ভারতের জনগণের জীবনমানের কোনো উন্নতি হয়েছে বা রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন হয়েছে-তেমন বলা যাবে না।” দেশের জনগণের জন্য যথাযথ সেবা প্রদানে সক্ষমতা সম্পন্ন রাষ্ট্র ব্যবস্থার বিকল্প কোনো পথ তৈরী হয়েছে-এমনটা বলা যায় না-বলেন মিঃ ভারনিয়ার।
পিউরিসার্চ সেন্টার পরিসংখ্যান দিয়ে বলেছে, বিগত বছরে ভারতের অর্থনীতিতে ২৭% শতাংশ পয়েন্টস পড়েছে-যা অন্যান্য দেশের চেয়ে বড় ধরনের ছন্দপতন।
অন্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারতের অর্থনীতি দ্রুত বর্ধনশীল এটা যেমন সত্য-তেমনি এটাও বলা যায় মোদীর শাসনে বর্ধনশীল জনসংখ্যার সাথে সামঞ্জস্য রেখে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হয়নি। অথচ ২০১৪ সালে মোদী অঙ্গীকার করেছিলেন ক্ষমতাসীন হলে পাঁচ বছরের মধ্যে দশ লাখ নতুন কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবেন। বরং কর্মহীন মানুষের সংখ্যা প্রতিবছর বেড়েই চলছে। সম্প্রতি ভারতের রেলমন্ত্রী বলেছেন, রেলওয়ের জন্য এক লাখ লোক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছিলো-তার বিপরীতে আবেদন পড়েছে ২০ মিলিয়ন। এর থেকেই কর্মহীন মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়টা ওঠে এসেছে। অর্থাৎ মোদী প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারেননি। এই না পারাটা চলতি নির্বাচনে মোদীর বিপক্ষে যাবে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। কারণ, চলতি নির্বাচনে জয়-পরাজয় নির্ধারণে যে সকল বিষয় মুখ্য ভূমিকায় থাকবে তার মধ্যে অন্যতম হলো কর্মসংস্থান।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, চলতি নির্বাচন পরবর্তী সরকার গঠনে আঞ্চলিক ছোট ছোট দলগুলো মুখ্য ভূমিকায় অবতীর্ণ হবে। আর বিভিন্ন রাজ্যে এবার আঞ্চলিক দলসমূহ বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এক্ষেত্রে ২০১৪ সালের নির্বাচনে মোদীর জয়ের পক্ষে যে ছয় রাজ্য ভূমিকা রেখেছিলো-এবারের নির্বাচনে সে রকমটা হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। কমবেশি সকল রাজ্যেই এবার মোদী বিরোধী হাওয়া বইছে এবং পক্ষান্তরে রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে ইউপিএ জোটের জনপ্রিয়তা অনেকটাই বেড়ে চলেছে। আর রাহুল গান্ধীও অনেকটা পরিপক্ষ রাজনীতিক হিসেবে জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠছেন।
কোনো কোনো নির্বাচন পর্যবেক্ষক বলছেন, চলতি নির্বাচনের প্রধান নির্বাচনী যুদ্ধ হলো উত্তর প্রদেশ। এখানকার ৮০ (আশি) আসনের জয়-পরাজয় পুরো জাতীয় নির্বাচনকে প্রভাবিত করবে। এই উত্তর প্রদেশের দখল নিতে, ভোট যুদ্ধে বিজয়ী হতে এবার কংগ্রেসের পক্ষে মাঠে নেমেছেন রাহুল গান্ধীর বোন, নেহরু-ইন্দিরা গান্ধীর অন্যতম আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব ও উত্তরাধিকার প্রিয়াংকা গান্ধী। প্রিয়াংকা গান্ধীর নির্বাচনী প্রচারাভিযান কংগ্রেসের জন্য এক নবযাত্রার এবং নতুন আবহ তৈরি করেছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যম সংবাদ পরিবেশন করছে। কংগ্রেস ও রাহুল গান্ধীর পক্ষে ভোটাররা উজ্জীবিত হচ্ছেন-এমনটাই আভাস দিচ্ছে গণমাধ্যমগুলো।
অন্যদিকে, উত্তর প্রদেশ সহ সর্বভারতীয় পর্যায়ে কংগ্রেস এবার ভোটের মাঠে বেশ সাড়া জাগিয়েছে বলে বিভিন্ন পরিসংখ্যান থেকে দেখা যাচ্ছে। বুথ ফেরত বিভিন্ন জরিপও তেমন আভাসই দিচ্ছে,-যদিও জরিপগুলোর তথ্য পরিসংখ্যান শেষ পর্যন্ত সঠিক নাও হতে পারে। কারণ, এসব জরিপে অনেক সময় বাস্তবতা ফুটে ওঠে না।
তবে, বিজেপি ও নরেন্দ্র মোদীর জনপ্রিয়তা এবং ভোট সর্বভারতীয় পর্যায়ে পূর্বের পাঁচ বছরের চেয়ে অনেকটাই কমে গেছে বলে পর্যবেক্ষকদের অভিমত। হরিয়ানা স্টেটস অশোকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানী গিলস ভারনিয়ারের অভিমত, ‘বিজেপি লস্ট এ লট অব গ্রাউন্ড।’ অর্থাৎ বিজেপি নীচের পর্যায়ে হারছে বা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে প্রচুর পরিমাণে।” বিজেপির ভোট শহর ও গ্রামাঞ্চলে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমে যাচ্ছে, কমে গেছে,”-বলছেন মি: ভারনিয়ার।
বিজেপি এবং নরেন্দ্র মোদীকে চ্যালেঞ্জ জানাতে এখন শুধু রাহুল গান্ধী বা প্রিয়াংকা গান্ধীই মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন না,-তাঁর জন্য চ্যালেঞ্জ আঞ্চলিক কিছু দল ও জোট এবং উল্লেখযোগ্য জনপ্রিয় কিছু নেতৃবৃন্দ। এদের মধ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়াও আছেন বহুজন সমাজ পার্টির ক্যারিশমেটিক নেত্রী মায়াবতি, দ্রাবিড় মুনেত্রা কাজাগাম এর তামিলনাড়–র জনপ্রিয় নেতা এম.কে স্ট্যালিন প্রমুখ। এসব নেতৃবৃন্দ এবারের নির্বাচনে এবং সরকার গঠনে নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করবেন বলে মনে করছেন রাজনীতিক বিশ্লেষকরা। এসব কিছু বিবেচনায় নিলে এটা বলা যায় যে, চলতি নির্বাচনে বিজয় নিয়ে বের হয়ে আসা বা পুনরায় ভারতের রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসীন হওয়া বিজেপি ও নরেন্দ্র মোদীর পক্ষে প্রায় অসম্ভব।
তবে কথা থেকেই যায়, যেভাবে বিশ্বব্যাপী রক্ষণশীল জাতীয়তাবাদের জায়যাত্রা অব্যাহত আছে, যেমন শেতাঙ্গ জাতীয়তাবাদ, কনফুসিয়াস জাতীয়তাবাদ, খৃষ্টধর্মীয় জাতীয়তাবাদ মাথা ছাড়া দিয়ে ওঠেছে, সেদিক বিবেচনায় নিলে হিন্দুত্ববাধী জাতীয়তাবাদের বিকাশকেও অবহেলা করার নয়। আর হিন্দুত্ববাদী জাতীয়তাবাদের মূল নেতৃত্ব কিন্তু বিজেপি ও নরেন্দ্র মোদী। কাজেই ভারতীয় ভোটাররা যে মোদীর পেছনে দাঁড়াবেন না তা হলফ করে বলা যায় না।
অন্যদিকে, এটাও বলা যায় যে, মোদীর জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়লেও তিনি এখনো রাহুল গান্ধীর চেয়ে অনেক বেশি জনপ্রিয় ভারতীয়দের কাছে। কাজেই সবদিক থেকে বিবেচনা করলে-মোদী ভারতের প্রধানমন্ত্রী নয়, এটা ভাবাই যায় না। তবে নির্বাচনী ফলাফলের পূর্ব পর্যন্ত কিছুই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। অন্যদিকে, অসাম্প্রদায়িক রাজনীতির ধারক কংগ্রেস ও রাহুল গান্ধীকেও এবার অবহেলা করার কোন সুযোগ নেই।
লেখক: আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষক।

