অভিনেত্রী হিসেবে একের পর এক সফল ছবি। ‘গুড্ডি’, ‘অভিমান’, ‘জঞ্জির’-এর মতো সিনেমার নিজের অভিনয় দিয়ে দর্শকের মনে জায়গা করে নিয়েছিলেন জয়া বচ্চন। কিন্তু বিয়ের পর জীবনের অগ্রাধিকার অনেকটাই বদলে যায় অভিনেত্রীর। সংসার এবং সন্তানদের বড় করে তোলার জন্য অভিনয়ের কেরিয়ারে বিরতি নেন তিনি। সম্প্রতি তাঁর জীবনের সেই সময়ের নানা অজানা দিক ফের আলোচনায় উঠে এসেছে।
অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে বিয়ের পর জয়ার জীবন যেন নতুন মোড় নেয়। তখন দু’জনেই বলিউডের ব্যস্ত তারকা। কিন্তু সন্তান জন্মের পর জয়া সিদ্ধান্ত নেন, পরিবারের পাশে থাকাটাই তাঁর কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ছেলে অভিষেক এবং মেয়ে শ্বেতাকে বড় করার দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন তিনি। তবে এর অর্থ এই নয় যে অভিনয়ের জগতের সঙ্গে তাঁর সম্পূর্ণ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। বরং পরিবারের পাশাপাশি স্বামী অমিতাভের কাজ নিয়েও যথেষ্ট আগ্রহী ছিলেন জয়া। অমিতাভ যখন শুটিংয়ে ব্যস্ত থাকতেন, তখন তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ রাখার জন্য জয়া নাকি ছোট ছোট নোট লিখে পাঠাতেন। সেই চিঠি বা নোটের মাধ্যমে কখনও প্রয়োজনীয় কথা, কখনও আবার ব্যক্তিগত অনুভূতি পৌঁছে দিতেন স্বামীর কাছে।
জয়া ও অমিতাভের দাম্পত্য জীবনের শুরুর সময়টাও ছিল বেশ ব্যস্ততায় ভরা। দু’জনেরই কেরিয়ার তখন তুঙ্গে। কিন্তু সংসারের দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়ার ক্ষেত্রে জয়ার সিদ্ধান্ত ছিল স্পষ্ট। সন্তানদের বেড়ে ওঠার গুরুত্বপূর্ণ সময়টা তিনি নিজের চোখের সামনে দেখতে চেয়েছিলেন।
পরবর্তী সময়ে অবশ্য অভিনয়ে ফেরেন জয়া। তবে তাঁর কেরিয়ারের গতিপথ আগের মতো ছিল না। বরং বেছে বেছে কাজ করেছেন তিনি। দীর্ঘ বিরতির পরও তাঁর অভিনয়ের গ্রহণযোগ্যতা কমেনি। ‘কভি খুশি কভি গম’, ‘কাল হো না হো’, ‘রকি অউর রানি কি প্রেম কাহানি’-সহ একাধিক ছবিতে তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা গিয়েছে।
জয়ার জীবনের এই অধ্যায় তাই যেন শুধু একজন তারকার কেরিয়ার ছেড়ে দেওয়ার গল্প নয়। বরং নিজের পছন্দ, পরিবার এবং মাতৃত্বকে কীভাবে তিনি জীবনের একটি বড় অংশ করে তুলেছিলেন, সেই গল্পও। সন্তানদের বড় করার জন্য কেরিয়ারে বিরতি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে তাঁর জীবনে যে সিদ্ধান্ত ছিল, আজও তা বলিউডের অন্যতম আলোচিত তারকা-দম্পতির গল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

