নেপালের ভয়াবহ বন্যার পরই ভাইরাল বাবা ভাঙ্গার ‘ভবিষ্যদ্বাণী’, সত্যিই কি জানতেন তিনি ?

নেপালের ভয়াবহ বন্যার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় ফের ছড়িয়ে পড়েছে বাবা ভাঙ্গার কথিত ভবিষ্যদ্বাণী। ভাইরাল পোস্টগুলিতে দাবি করা হচ্ছে, ২০২৬ সালে ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়, তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ, ভিনগ্রহীদের সঙ্গে যোগাযোগ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নিয়ন্ত্রণ হারানো, বিশ্বজুড়ে আর্থিক সংকট এবং রাশিয়ার রাজনৈতিক পরিবর্তনের মতো ঘটনা ঘটবে। তবে এই দাবিগুলির সত্যতা নিয়ে বড় প্রশ্ন রয়েছে।

বুলগেরিয়ান মিস্টিক বাবা ভাঙ্গার আসল নাম ছিল ভ্যাঙ্গেলিয়া পানদেভা গুস্তেরোভা। ১৯৯৬ সালে তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর নামে বর্তমানে যে সমস্ত ভবিষ্যদ্বাণী সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ায়, তার অনেকগুলিই দ্বিতীয় হাতের বর্ণনা, পরবর্তী সময়ের ব্যাখ্যা অথবা তাঁর মৃত্যুর বহু বছর পর প্রকাশিত তালিকা থেকে এসেছে। নির্দিষ্ট ভবিষ্যদ্বাণীর কোনও প্রামাণ্য লিখিত নথি বা রেকর্ডিং না থাকায় সেগুলি তিনি আদৌ করেছিলেন কি না, তা যাচাই করা কঠিন।

 

নেপালের বিপর্যয় এবং ‘ভবিষ্যদ্বাণী’
নেপাল-তিব্বত সীমান্তের কাছে হিমবাহ ধসের জেরে ভয়াবহ বন্যা ও ধ্বংসের পরই বাবা ভাঙ্গার কথিত ভবিষ্যদ্বাণীর সঙ্গে ঘটনাটিকে জুড়ে দেওয়া হচ্ছে। দাবি করা হচ্ছে, ২০২৬ সালে ভূমিকম্প, বন্যা, ঝড় ও আগ্নেয়গিরির মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ পৃথিবীর বিভিন্ন অংশে আঘাত হানবে।

কিন্তু কোনও প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঘটলেই সেটিকে বহু বছর আগে করা কোনও ভবিষ্যদ্বাণীর প্রমাণ বলা যায় না। তার জন্য ঘটনার আগে তৈরি নির্দিষ্ট, তারিখযুক্ত এবং যাচাইযোগ্য নথি প্রয়োজন। নেপালের বন্যা বা নির্দিষ্ট সময়ের উল্লেখ করে বাবা ভাঙ্গা কোনও ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন—এমন প্রমাণ এখনও পাওয়া যায়নি।

তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ থেকে ভিনগ্রহী!
আরও একটি ভাইরাল দাবিতে বলা হচ্ছে, ২০২৬ সালে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হতে পারে। রাশিয়া-পশ্চিমের উত্তেজনা, তাইওয়ান নিয়ে চিন-আমেরিকা টানাপোড়েন এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের সঙ্গে এই দাবিকে জুড়ে দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু ২০২৬ সালে বিশ্বযুদ্ধ শুরু হওয়ার বিষয়ে বাবা ভাঙ্গার কোনও নির্ভরযোগ্য ও প্রামাণ্য ভবিষ্যদ্বাণী নেই।

এমনকি নভেম্বরে বিশাল মহাকাশযান পৃথিবীর কাছে এসে ভিনগ্রহীদের সঙ্গে যোগাযোগ হবে—এমন দাবিও ছড়িয়েছে। এর পক্ষে কোনও বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। একইভাবে ২০২৬ সালে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে—এমন দাবিরও কোনও যাচাইযোগ্য উৎস নেই।

রাশিয়ার ভবিষ্যৎ
বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক বিপর্যয়, ব্যাঙ্ক ধস কিংবা সোনা-রুপোর চাহিদা বৃদ্ধির কথাও বাবা ভাঙ্গার নামে প্রচার করা হচ্ছে। কিন্তু তাঁর কোনও প্রামাণ্য নথিতে ২০২৬ সালের এমন অর্থনৈতিক সংকটের উল্লেখ পাওয়া যায়নি। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ক্ষমতা হারানো বা রাশিয়ায় বড় রাজনৈতিক পরিবর্তনের দাবিও একইভাবে অপ্রমাণিত।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সোশ্যাল মিডিয়ায় এমন ভবিষ্যদ্বাণী ভাইরাল হওয়ার অন্যতম কারণ হল মানুষের অনিশ্চয়তার সময়ে বিভিন্ন ঘটনার মধ্যে যোগসূত্র খোঁজার প্রবণতা। তাই কোনও দাবি বিশ্বাস করার আগে তার মূল উৎস, প্রকাশের তারিখ এবং স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়েছে কি না, তা দেখা জরুরি।

বাবা ভাঙ্গার ২০২৬-এর কথিত ভবিষ্যদ্বাণীগুলির কোনও প্রামাণ্য ভিত্তি এখনও নেই। নেপালের ভয়াবহ বিপর্যয় একটি বাস্তব মানবিক সংকট—কোনও অপ্রমাণিত ভবিষ্যদ্বাণীর প্রমাণ নয়।

 

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Discover more from শুদ্ধস্বর ডটকম

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading