মৈত্রী এক্সপ্রেস চালুর তারিখ শিগগির ঘোষণা হতে পারে : দীনেশ ত্রিবেদী

ঢাকা-কলকাতা রুটের মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেন পুনরায় চালুর বিষয়ে খুব শিগগির সুখবর আসতে পারে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি বলেছেন, ট্রেনটি চালুর বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে এবং যেকোনো সময় নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করা হতে পারে।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ভারতীয় হাইকমিশনার। সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, বিমানযাত্রা ও সাধারণ মানুষের সড়ক-রেলপথে যাতায়াতের বাস্তবতা আলাদা। সাধারণ মানুষের যোগাযোগ সহজ করতে রেলপথের গুরুত্ব রয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি রেলে সাধারণ যাত্রীদের জন্য বিভিন্ন সেবার উদাহরণও তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, বিভিন্ন কারণে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকলেও দুই দেশের মধ্যে মালবাহী ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়নি।

বরং মালবাহী ট্রেনের কার্যক্রম প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে বলে তিনি জানতে পেরেছেন। এটিকে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক যোগাযোগের ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

মৈত্রী এক্সপ্রেস চালুর বিষয়ে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, এ নিয়ে আলোচনা চলছে এবং খুব শিগগির একটি ভালো খবর দেওয়া সম্ভব হবে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে নির্দিষ্ট তারিখ দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে বৈঠক অব্যাহত রয়েছে। মৈত্রী এক্সপ্রেস কবে থেকে চলবে, সে বিষয়ে খুব শিগগির একটি নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করা সম্ভব হবে।

যোগাযোগব্যবস্থা সহজ করার আলোচনা

দুই দেশের যোগাযোগ আরও সহজ করতে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান ভারতীয় হাইকমিশনার। তিনি বলেন, কোনো কোনো রুটে যাতায়াতে ছয় থেকে সাত ঘণ্টা সময় লাগছে। কীভাবে সেই সময় কমিয়ে আনা যায়, তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। পদ্মা সেতুসহ বিভিন্ন কারিগরি বিষয় এ আলোচনার আওতায় রয়েছে।

দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, মৈত্রী এক্সপ্রেস চালুর বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে এবং দ্রুতই একটি নির্ধারিত তারিখ জানানো সম্ভব হবে।

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ

এর আগে সকালে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি বলেন, বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে তার ভালো সময় কেটেছে এবং তার অভিজ্ঞতা থেকে শেখার অনেক কিছু রয়েছে।

শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানো এবং তার গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টিকে রাজনৈতিক প্রসঙ্গ হিসেবে উল্লেখ করে এ নিয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে চাননি। তিনি বলেন, ওই বৈঠকে সাধারণ মানুষের স্বার্থ ও দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ নিয়েই আলোচনা হয়েছে।

দুই দেশের স্বার্থে যোগাযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে তার দায়িত্বাধীন মন্ত্রণালয়গুলোর সঙ্গে ভারতের চলমান বিভিন্ন কাজ ও সেগুলোর অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

দুই দেশের স্বার্থ রক্ষা করে বাণিজ্য, যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম কীভাবে আরও সম্প্রসারিত করা যায়, তা নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, বিশেষ করে রেল, সড়ক ও স্থলবন্দর নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এসব খাতে বিভিন্ন কাজ চলমান রয়েছে। মালবাহী ট্রেন চালু থাকার পাশাপাশি এর সক্ষমতাও বাড়ছে বলে জানান তিনি।

যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল বর্তমানে বন্ধ থাকার বিষয়টি উল্লেখ করে শেখ রবিউল আলম বলেন, নিরাপত্তাজনিত কারণে ভারতের পক্ষ থেকে এটি বন্ধ করা হয়েছিল। তবে কীভাবে আবার যাত্রীবাহী ট্রেন চালু করা যায়, সে বিষয়ে দুই দেশই ইতিবাচকভাবে ভাবছে।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.