আসন্ন কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলার ৫০তম বছরে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ অনিশ্চিত। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) কলকাতার ইস্টার্ন জোনাল কালচারাল সেন্টারে আয়োজিত আন্তর্জাতিক বইমেলার উপদেষ্টা কমিটির সংবাদ সম্মেলনে এমন তথ্য জানানো হয়। বলা হয়, বইমেলায় বাংলাদেশের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে প্রয়োজন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন। বাংলাদেশের অংশগ্রহণের বিষয়ে আপত্তি রয়েছে কলকাতার একাধিক প্রকাশকেরও।
২০২৭ সালে আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলা পঞ্চাশ বছরে (সুবর্ণজয়ন্তী বর্ষে) পা দিতে যাচ্ছে। ২০২৭ সালের ২২ জানুয়ারি শুরু হয়ে ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে। তার আগে বইমেলার আয়োজক কারা হবে, তা ঘিরেই দেখা দিয়েছে তীব্র দ্বন্দ্ব। বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর প্রথমবারের মতো বইমেলার একক আয়োজক হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে পাবলিশার্স অ্যান্ড বুকসেলার্স গিল্ডকে।
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলা নিয়ে কমিটি গড়েছে রাজ্য সরকার। কমিটিতে মেলার যৌথ আয়োজক হিসেব পাবলিশার্স অ্যান্ড বুক সেলার্স গিল্ডের সঙ্গে ন্যাশনাল বুক ট্রাস্ট ও ইস্টার্ন জোনাল কালচারাল সেন্টারকে যুক্ত করে একটি কমিটি তৈরি করা হয়। একইসঙ্গে তৈরি করা হয় ২৪ জনের একটি উপদেষ্টা কমিটি। যেখানে রয়েছে রয়েছে বিভিন্ন প্রকাশনা সংস্থা, রামকৃষ্ণ মিশন, ভারত সেবাশ্রম সংঘ ও সাংবাদিক সমাজের প্রতিনিধি।
নতুন কমিটি গঠনের পর প্রথম সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন উপদেষ্টা কমিটির সদস্য তথা বিজেপি নেতা ও আইনজীবী দেবজিৎ সরকার, গ্রন্থ বিকাশ পরিষদের সদস্য অনির্বাণ দে এবং উপদেষ্টা কমিটির আহ্বায়ক প্রসেনজিৎ বক্সি । কিন্তু প্রথম সাংবাদিক বৈঠকে দেখা গেল না পাবলিশার্স অ্যান্ড বুক সেলার্স গিল্ডের কোনো প্রতিনিধিকে।
সংবাদ সম্মেলনে আহ্বায়ক প্রসেনজিৎ বক্সি জানান, “এবারের বইমেলার মূল থিম হিসেবে ভাবা হয়েছে ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছরকে। অর্থাৎ স্বাধীনতা আন্দোলন, জাতীয়তাবাদ এবং ভারতের ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত এই গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়কে এবারের ৫০তম বইমেলার কেন্দ্রীয় বিষয় হিসেবে তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে।এছাড়াও উত্তম কুমারের ১০০ বছর, রাজনারায়ণ বসুর ২০০ বছর, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১৫০তম বর্ষ, রক্তকরবীর ১০০ বর্ষ, আকাশবাণীর ১০০ বর্ষকে সামনে রেখে বইমেলার বিভিন্ন থিম সাজানো হবে।”
৫০তম বর্ষে বন্ধু রাষ্ট্র হিসেবে কলকাতা বইমেলার থিম কান্ট্রি হিসেবে ইসরায়েলের নাম প্রাথমিক পর্যায়ে আলোচনায় এসেছে। সবটাই নির্ভর করছে ইসরায়েলের সঙ্গে বইমেলা কমিটির যোগাযোগ ও অ্যাডভাইজারি কমিটির ওপর।চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে আরো জানানো হয়, চলতি বছর বইমেলার স্টল বন্টন নিয়েও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ এড়াতে ডিজিটাল পদ্ধতি আনছে কমিটি। চলতি সপ্তাহের অ্যাডভাইজারি কমিটির বৈঠকে নেওয়া হতে পারে আরো বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত।
তবে এসবের মধ্যেই বইমেলায় বাংলাদেশের অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে আবারো প্রশ্ন ওঠে। ২০২৪ সালের পর থেকে একটানা দুই বছর কলকাতা বইমেলায় অনুপস্থিত বাংলাদেশ। তবে এবার কি বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলায় অংশগ্রহণ করতে পারে? এ বিষয়ে আহ্বায়ক জানান, “বাংলাদেশের অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে শুধু বইমেলা কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তই যথেষ্ট নয়। কেন্দ্রীয় সরকারের স্বরাষ্ট্র দপ্তর এবং পররাষ্ট্র দপ্তরের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা কী সিদ্ধান্ত নেয়, কী নির্দেশ দেয়, তার ওপর অনেকটাই নির্ভর করবে বাংলাদেশের প্রকাশকরা এবার কলকাতা বইমেলায় আসতে পারবেন কি না।”
এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে আরো কিছু অভিযোগ। বিশেষ করে কলেজ স্ট্রিট চত্বরে বাংলাদেশের বিভিন্ন বইয়ের মধ্যে কোনো কোনো বইয়ে ভারতবিরোধী বিষয় রয়েছে কি না, কিংবা বাংলাদেশের বই অনুমতি ছাড়া এখানে ছাপিয়ে বিক্রি করার চেষ্টা হচ্ছে কি না- সেই প্রশ্নও রয়েছে। এমনকি বাংলাদেশি বই ছাপার আড়ালে বেআইনি অর্থ লেনদেনের মতো অভিযোগও রয়েছে বলে জানিয়েছেন কমিটির সদস্য। তবে এই ধরনের অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং তদন্ত করা সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী সংস্থার বিষয় বলেই মত আয়োজক কমিটির। ফলে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের প্রশ্নে শেষ কথা বলার জায়গায় এখনই পৌঁছানো যাচ্ছে না। কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্র দপ্তর এবং পররাষ্ট্র দপ্তর কী অবস্থান নেয়, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে ৷

