বন্ধুত্বের টানে চীনা নাগরিক নাটোরের বড়াইগ্রামে

মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে গড়ে ওঠা বন্ধুত্বের টানে নাটোরের বড়াইগ্রামে এসেছেন চীনের এক নাগরিক। বর্তমানে তিনি উপজেলার জোয়াড়ী ইউনিয়নের চর ভবানীপুর ভাটোপাড়া গ্রামে তাঁর বন্ধু সাদিয়া খাতুনের (১৭) বাড়িতে অবস্থান করছেন। সাদিয়া ওই গ্রামের কৃষক সাদ্দাম হোসেনের মেয়ে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেলে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান ওই চীনা নাগরিক। পরে সাদিয়ার স্বজনেরা তাঁকে সেখান থেকে বড়াইগ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসেন।

শুক্রবার সকালে তাঁর আগমনের খবর পেয়ে স্থানীয় সাংবাদিকেরা সাদিয়ার বাড়িতে গেলে তিনি ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি। এমনকি পরিচয় যাচাইয়ের জন্য পাসপোর্ট দেখানোর অনুরোধও প্রত্যাখ্যান করেন। এদিকে বিদেশি নাগরিকের আগমনের খবর ছড়িয়ে পড়লে সকাল থেকেই শত শত উৎসুক নারী-পুরুষ ও শিশু বাড়িটিতে ভিড় করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাদিয়া স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। কয়েক মাস আগে একটি মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে ওই চীনা নাগরিকের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে নিয়মিত কথোপকথনের মাধ্যমে তাদের মধ্যে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে।

সাদিয়া খাতুন বলেন, ‘আমাদের মধ্যে শুধুই বন্ধুত্ব, অন্য কিছু নয়। একপর্যায়ে তিনিই বাংলাদেশে এসে আমাদের বাড়িতে দেখতে চাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। প্রথমে আমি বিশ্বাস করিনি। পরে তিনি ভিসা ও পাসপোর্টের কাগজপত্র দেখালে বিষয়টি বাবা-মাকে জানাই। তাঁদের সম্মতি পাওয়ার পরই তিনি বাংলাদেশে আসেন।’

সাদিয়া আরও বলে, ‘তিনি আসার সময় একটি স্মার্টফোন, চকলেটসহ বিভিন্ন উপহার এনেছেন। গ্রামের মানুষ, বিশেষ করে শিশুদের সঙ্গে তাঁর ইতিমধ্যে ভালো সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশে এসে স্থানীয় খাবার, বিশেষ করে মুরগির মাংস ও চা তাঁর খুব পছন্দ হয়েছে।’

চীনা নাগরিক সুবেজ সংক্ষেপে বলেন, ‘বন্ধুত্বের টানেই বাংলাদেশে এসেছি। তবে আমার বন্ধুর মা-বাবা যদি চান, তাহলে আমি চলে যাব। আমি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে চাই না।’

সাদিয়ার বাবা সাদ্দাম বলেন, ‘বন্ধুত্বের টানে দূর দেশ থেকে একজন চীনা নাগরিক আমাদের এলাকায় এসেছেন। মেয়ে বিষয়টি জানালে আমি তাঁকে আসতে বলি। তিনি আমার মেয়ের বন্ধু হিসেবে আমাদের বাড়িতে এসেছেন। একজন অতিথি হিসেবে কিছুদিন থাকবেন, ঘুরে দেখবেন, এরপর চলে যাবেন। এর বাইরে অন্য কোনো বিষয় নেই।’

জোয়াড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলী আকবর বলেন, ‘বন্ধুত্বের টানে আমাদের ভবানীপুর গ্রামের সাদ্দাম হোসেনের বাড়িতে একজন চীনা নাগরিক এসেছেন। আমাদের এলাকা ঘুরে দেখছেন। একজন মানুষের প্রতি আরেকজনের ভালোবাসা ও বন্ধুত্ব সৃষ্টি হলে দূরদেশ থেকেও যে দেখা করতে আসতে পারে—এই চীনা নাগরিক তার উদাহরণ।’

বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বন্ধুর আমন্ত্রণে একজন চীনা নাগরিক বড়াইগ্রামে এসেছেন বলে আমরা জানতে পেরেছি। বিষয়টি আমাদের নজরে রয়েছে। বর্তমানে তাঁর নিরাপত্তা নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই। তবে প্রয়োজন হলে পুলিশ প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নেবে।’

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.