আকস্মিক এই ফ্লাইট বিপর্যয়ের কারণে অন্তত ১৩ হাজার ৪৯০ জন সৌদিগামী যাত্রী চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। মূলত সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে অভ্যন্তরীণ বা কৌশলগত কারণে কার্যক্রম সীমিত হয়ে পড়ায় এই বড় ধরনের অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে পাওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বাতিল হওয়া ৩৬টি সরাসরি ফ্লাইটের মধ্যে সবচেয়ে বড় বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। রাষ্ট্রীয় এই উড়োজাহাজ পরিবহন সংস্থার সর্বোচ্চ ১৪টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া দেশীয় বেসরকারি সংস্থা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ১০টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। বিদেশি এয়ারলাইনসগুলোর মধ্যে সৌদি আরবের রিয়াদ এয়ারের সাতটি এবং সৌদিয়া এয়ারলাইনসের পাঁচটি সরাসরি ফ্লাইট বাতিলের তালিকায় রয়েছে।
অন্যদিকে, বাতিল হওয়া ৫০টি ট্রানজিট ফ্লাইটের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বাতিল হয়েছে ভারতের উড়োজাহাজ পরিবহন সংস্থা ইন্ডিগোর ফ্লাইট। সংস্থাটির সর্বোচ্চ ২২টি ট্রানজিট ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক বড় এয়ারলাইনসগুলোরও ব্যাপক শিডিউল বিপর্যয় ঘটেছে। এর মধ্যে এমিরেটসের ১১টি, কাতার এয়ারওয়েজের ছয়টি, ফ্লাইদুবাইয়ের ছয়টি, সালাম এয়ারের চারটি এবং ইজিপ্টএয়ারের একটি ট্রানজিট ফ্লাইট বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।
সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে কার্যক্রম সীমিত থাকার সরাসরি প্রভাব পড়েছে সাধারণ যাত্রীদের ওপর। আকস্মিক ফ্লাইট বাতিলের কারণে যাত্রীদের পূর্বনির্ধারিত ভ্রমণসূচিতে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। যথাসময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো, ট্রানজিট হয়ে সংযোগ ফ্লাইট (কানেক্টিং ফ্লাইট) ধরা এবং হোটেল বুকিংসহ পরবর্তী ভ্রমণ পরিকল্পনার ক্ষেত্রে যাত্রীরা অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
এ বিষয়ে বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) জানিয়েছে, সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে কার্যক্রম স্বাভাবিক হওয়ার ওপরই ফ্লাইট চলাচলের বিষয়টি নির্ভর করছে। উদ্ভূত পরিস্থিতির উন্নতি হলে ফ্লাইট পরিচালনার সূচিতে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আসতে পারে বলে বেবিচক আশ্বস্ত করেছে।

