১০ বছরের সাজা বাতিল চেয়ে ইনুর আপিল

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় ১০ বছরের কারাদণ্ডের রায় বাতিল করে খালাস চেয়ে আপিল করেছেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনু।

 

বুধবার (১৪ অক্টোবর) সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ আপিল দাখিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী সিফাত মাহমুদ।

 

তিনি বলেন, মামলায় ইনুর বিরুদ্ধে আটটি অভিযোগ আনা হয়েছিল। এর মধ্যে তিনটি অভিযোগ প্রমাণিত হয়। তিনটি অভিযোগে তাকে সাজা দেওয়া হয়। অভিযোগগুলোর সপক্ষে পর্যাপ্ত সাক্ষ্যপ্রমাণ ও তথ্য–উপাত্ত হাজির করতে পারেনি প্রসিকিউশন (রাষ্ট্রপক্ষ)। অভিযোগগুলো ফৌজদারি আওতায় পড়ে না। এ সাজা বাতিল চেয়ে আপিল করা হয়েছে।

এর আগে, গত ৫ অক্টোবর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর দেওয়া ১০ বছরের কারাদণ্ডকে অপর্যাপ্ত উল্লেখ করে আপিল করে প্রসিকিউশন।

 

চিফ প্রসিকিউটর হাসানুল হক ইনুর দণ্ড বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ চেয়ে আপিল করেন।

 

গত ৩০ জুন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুকে তিনটি অভিযোগে ১০ বছর করে মোট ৩০ বছরের কারাদণ্ড দেন। তবে, সাজাগুলো একসঙ্গে কার্যকর হওয়ায় তাকে ১০ বছর কারাভোগ করতে হবে।

ট্রাইব্যুনালে তার বিরুদ্ধে আনা আটটি অভিযোগের মধ্যে তিনটি প্রমাণিত হলেও বাকি পাঁচটি অভিযোগ থেকে তিনি খালাস পান। গত ১৬ সেপ্টেম্বর রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ করা হয়।

 

মামলাটির তদন্ত শুরু হয় গত বছরের ২৫ মার্চ। একই বছরের ১১ সেপ্টেম্বর তদন্ত সংস্থা প্রসিকিউশনের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। ২৫ সেপ্টেম্বর প্রসিকিউশন ট্রাইব্যুনালে ইনুর বিরুদ্ধে আটটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দাখিল করলে শুনানি শেষে সেদিনই আদালত অভিযোগগুলো আমলে নেন। পরবর্তীতে ২ নভেম্বর ইনুর বিরুদ্ধে আটটি অভিযোগ গঠন করা হয়।

 

গত বছরের ১ ডিসেম্বর মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। তদন্ত কর্মকর্তাসহ প্রসিকিউশনের পক্ষে মোট ১০ জন সাক্ষ্য দেন। তাদের মধ্যে ছিলেন তিনজন প্রত্যক্ষদর্শী, দুজন বিশেষজ্ঞ সাক্ষী, একজন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য এবং জব্দ তালিকার দুজন সাক্ষী। অন্যদিকে, আসামিপক্ষের পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য দেন দুজন।

চলতি বছরের ১৪ মে প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের দীর্ঘ শুনানি শেষে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখেন।

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তথ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা হাসানুল হক ইনু দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী হিসেবে কুষ্টিয়া-২ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তবে, আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র (বিদ্রোহী) প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন তিনি।

 

 

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.