অন্যের গল্প যখন নিজের ভাষায়

একটি শিশু আকাশের তারা নিয়ে ইংরেজি ছড়া পড়ে। পাশে বসে মা কিংবা শিক্ষক বাংলায় তার অর্থ বুঝিয়ে দেন। অপরিচিত শব্দের ভেতর থেকে পরিচিত আকাশটি বেরিয়ে আসে। অনুবাদ কাকে বলে, শিশু তখনো জানে না। কিন্তু অন্য ভাষায় বলা একটি কথা সে বুঝতে পারে, তার আনন্দটুকুও পায়।

বড় হয়ে সেই শিশুই হয়তো বাংলায় টম সয়্যারের দুষ্টুমি পড়ে হাসবে, রুমির কবিতায় ভালোবাসার নতুন অর্থ খুঁজবে। কিংবা নোবেলজয়ীর নাম শুনে বইয়ের দোকানে জানতে চাইবে, তাঁর কোনো লেখা বাংলায় পাওয়া যায়? বয়সের সঙ্গে বই বদলায়। অন্য মানুষের গল্প জানার কৌতূহলটি থেকে যায়।

২০২৬ সালের সাহিত্যে নোবেলজয়ী অ্যান কারসনকে ঘিরেও এমন কৌতূহল জেগেছে। কানাডীয় এই কবি ও প্রাবন্ধিক নিজেও একজন অনুবাদক। প্রাচীন গ্রিক সাহিত্যকে তিনি ইংরেজিভাষী পাঠকের কাছে নিয়ে এসেছেন। নিজের লেখাতেও পুরোনো কাহিনির সঙ্গে আধুনিক জীবনের কথোপকথন তৈরি করেছেন। তাঁর সাহিত্যজীবনে লেখা, পড়া ও অনুবাদ গভীরভাবে জড়িয়ে আছে।

কারসনের If Not, Winter: Fragments of Sappho বইটিতে প্রাচীন গ্রিক কবি সাফোর টিকে থাকা কবিতার খণ্ডাংশ গ্রিক ও ইংরেজিতে পাশাপাশি রয়েছে। সময়ের আঘাতে অনেক লেখা অসম্পূর্ণ হয়ে গেছে। সেই অসম্পূর্ণ কবিতাই অনুবাদে নতুন পাঠকের সামনে আসে। বহু শতাব্দী আগের এক নারীর কণ্ঠ আরেক সময়ের নারী অনুবাদকের হাতে পৌঁছে যায় আরও দূরের মানুষের কাছে।

সাফোর ভাষা না জেনেও তাঁর কবিতা পড়ার সুযোগ পাওয়া যায়। আবার কারসনের কাজ বাংলায় অনূদিত হলে এই যাত্রায় যুক্ত হতে পারেন বাংলাভাষী পাঠকও। ভাষা ও সময়ের এত দূরত্ব পেরিয়ে মানুষের অনুভূতি পৌঁছে দেওয়ার মধ্যে অনুবাদের সৌন্দর্য ধরা পড়ে।

আমাদের কারও পক্ষেই পৃথিবীর সব ভাষা শেখা সম্ভব নয়। তাই বলে অধিকাংশ মানুষের সাহিত্য আমাদের অজানা থেকে যাবে, সেটিও মেনে নেওয়া কঠিন। অনুবাদ এই সীমার মধ্যেও পড়ার জগৎ বড় করে। যে দেশে কখনো যাইনি, সেখানকার একটি পরিবারের জীবন জানতে পারি। যে যুদ্ধ দেখিনি, তার মধ্যে বেঁচে থাকা মানুষের কথা শুনতে পারি।

শৈশবে সেই পরিচয় শুরু হতে পারে খুব সহজভাবে। ইংরেজি ছড়ার বাংলা অর্থ শুনে শিশু বিষয়টি বোঝে। ছন্দ মিলিয়ে লেখা বাংলা রূপ পড়লে আনন্দটিও পায়। অর্থ বুঝিয়ে দেওয়া, অনুবাদ করা এবং ছড়া অবলম্বনে নতুন ছড়া লেখা অবশ্য এক কাজ নয়। তবু প্রতিটির মধ্যেই অন্য ভাষার লেখার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার চেষ্টা থাকে।

কিছুদিন পর ছড়ার জায়গায় আসে দীর্ঘ গল্প। মার্ক টোয়েনের টম সয়্যার তার একটি পরিচিত উদাহরণ। বইটির একাধিক বাংলা অনুবাদ প্রকাশিত হয়েছে। টমের সঙ্গে পরিচিত হতে বাংলা পড়তে শেখা শিশুকে ইংরেজিতে দক্ষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয় না।

টমের দেশ ও জীবন আলাদা, তবু তার দুষ্টুমি পড়ে কোনো কিশোরের মনে হতে পারে, এমন কিছু তো সেও করতে চেয়েছিল। আবার গল্পের অনেক কিছু তার কাছে নতুনও লাগবে। অনুবাদে পড়ার আনন্দ এই দুয়ের মধ্যেই আছে। অন্যের সঙ্গে মিল খুঁজে পাওয়া যায়, অন্য রকম জীবনও চেনা যায়।

পাঠক বড় হলে গল্পের কাছে তাঁর চাওয়াও বদলায়। সালমান রুশদির Midnight’s Children-এর মতো উপন্যাস তখন তাঁকে ইতিহাস, স্মৃতি ও কল্পনার জটিল সম্পর্কের সামনে দাঁড় করাতে পারে। ১৯৮১ সালে বুকারজয়ী বইটির বাংলা অনুবাদও রয়েছে। ইংরেজিতে স্বচ্ছন্দ নন, এমন পাঠকও রুশদির গল্প বলার ভঙ্গির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পান।

মার্ক টোয়েন বা রুশদিকে অনুবাদে পড়ার অর্থ শুধু দুটি বই বেশি পড়া নয়। একজন পাঠক ভিন্ন ধরনের হাস্যরস, চরিত্র ও আখ্যানের সঙ্গে পরিচিত হন। পরিচিত বিষয়ও অন্যভাবে বলা যায়, তা দেখতে পান। এভাবেই অনুবাদ বাংলাভাষী পাঠককে সমৃদ্ধ করে। তাঁর পড়ার তালিকার সঙ্গে ভাবার উপায়ও বাড়ে।

এই আদান-প্রদান শুধু ইউরোপ বা আমেরিকার সঙ্গে হয়নি। প্রাচ্যের নানা ভাষার কাহিনি, কবিতা ও দর্শন বহু আগে থেকেই বাংলা সাহিত্যের সঙ্গে মিশেছে। মধ্যযুগে সংস্কৃত থেকে রামায়ণ-মহাভারতের বাংলা রূপ এসেছে। আলাওল পদ্মাবতী রচনা করেছেন মালিক মুহম্মদ জায়সির পদ্মাবৎ অবলম্বনে। তাঁর অন্য রচনার উৎসের মধ্যে ফারসি সাহিত্যও ছিল।

সেসব রচনার অনেকটিতে অনুবাদের সঙ্গে পুনর্কথন ও রূপান্তর মিলেছে। অন্য ভাষার কাহিনি বাংলায় বলতে গিয়ে কবিদের বেছে নিতে হয়েছে উপযুক্ত শব্দ, ছন্দ ও বর্ণনাভঙ্গি। সেই চেষ্টায় বাংলা ভাষার প্রকাশের ক্ষমতাও প্রসারিত হয়েছে। বাইরের সাহিত্য গ্রহণ করতে গিয়ে বাংলা নতুনভাবে নিজেকে ব্যবহার করতে শিখেছে।

রুমির কবিতা এই যোগাযোগের আরেকটি পরিচিত দিক। তাঁর গজল ও মসনবিতে প্রেম, বিচ্ছেদ এবং আধ্যাত্মিক অনুসন্ধানের কথা আছে। অনুবাদ ও পুনর্কথনের মাধ্যমে সেই সাহিত্য বাংলাসহ নানা ভাষার পাঠকের কাছে পৌঁছেছে।

কিন্তু রুমিকে পড়া মানে কেবল কয়েকটি সুন্দর প্রেমের বাক্য পড়া নয়। তাঁর কবিতার সঙ্গে সুফি চিন্তা, ধর্মীয় অনুষঙ্গ ও বিশেষ ধরনের রূপক জড়িয়ে আছে। সেগুলো সরিয়ে দিলে ভাষা সহজ হতে পারে, অথচ কবির অনেকখানি হারিয়ে যেতে পারে। অনুবাদককে তাই পাঠকের কাছে পৌঁছানোর পাশাপাশি লেখকের জগৎটির দিকেও তাকাতে হয়।

ইকবালের শিকওয়া ও জবাব-ই-শিকওয়ার গোলাম মোস্তফাকৃত বাংলা অনুবাদেও অন্য ভাষার কবিতার সঙ্গে পরিচয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে। উর্দু না জেনেও বাংলা পাঠক সেই প্রশ্ন, আবেদন ও আবেগের কাছে যেতে পারেন। কবিতার ভাব বাংলায় আনার সঙ্গে তার কাব্যিক শক্তি ধরে রাখার চেষ্টাও এখানে গুরুত্বপূর্ণ।

গানের দিকে তাকালে কাজী নজরুল ইসলামের কথা আসে। তিনি হাফিজ ও ওমর খৈয়ামের রুবাই অনুবাদ করেছেন। আবার নিজের কথা ও সুরে বাংলা গজলকে সমৃদ্ধ করেছেন। তাঁর কাজে অনুবাদ এবং অন্য ভাষার শিল্পরীতি গ্রহণ করে নতুন সৃষ্টির দুটি আলাদা পথ দেখা যায়।

পার্থক্যটি জরুরি। প্রতিটি বাংলা গজল কোনো ফারসি বা উর্দু গানের অনুবাদ নয়। রুমি বা ইকবালের ভাবনার সঙ্গে কোনো বাংলা কবিতার মিল থাকলেই সরাসরি প্রভাবের সিদ্ধান্তও নেওয়া যায় না। তবে এসব উদাহরণ মনে করিয়ে দেয়, ভাষার মধ্যে যোগাযোগ শুধু বইয়ের পাতা বদলে ঘটে না। পাঠ, সুর, ছন্দ ও ভাবনার মধ্য দিয়েও চলে।

আমরা যেমন অন্যের সাহিত্য গ্রহণ করেছি, বাংলা সাহিত্যও অনুবাদে বাইরে গেছে। এই যাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নোবেলপ্রাপ্তি।

১৯১৩ সালে রবীন্দ্রনাথ সাহিত্যে নোবেল পান। তাঁর কবিতার নিজের করা ইংরেজি রূপ আন্তর্জাতিক পাঠকের কাছে পৌঁছাতে বড় ভূমিকা রেখেছিল। নোবেলের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যাতেও তাঁর নিজের ইংরেজি ভাষায় প্রকাশিত কাব্যভাবনার উল্লেখ আছে। ইংরেজি Gitanjali: Song Offerings কেবল বাংলা গীতাঞ্জলির হুবহু অনুবাদ ছিল না; এতে অন্য কাব্যগ্রন্থের কবিতাও স্থান পেয়েছিল।

রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যিক শক্তি ছিল তাঁর সৃষ্টিতে। অনুবাদ সেই সৃষ্টিকে বাংলার বাইরের পাঠকের কাছে পৌঁছানোর পথ করে দিয়েছিল। দুটি কথা একসঙ্গে রাখলেই ইতিহাসটি স্পষ্ট হয়। অনুবাদ কোনো লেখাকে আপনাআপনি মহৎ করে না। কিন্তু ভাষার কারণে অচেনা থেকে যাওয়া সাহিত্যকে পরিচিত হওয়ার সুযোগ দেয়।

রবীন্দ্রনাথের এই অর্জন বাংলাভাষার সাহিত্যিক উত্তরাধিকারের অংশ। বাংলাদেশ, ভারতের বাংলাভাষী অঞ্চল কিংবা পৃথিবীর অন্য কোথাও থাকা বাংলা পাঠক তার অংশীদার। অনুবাদ নিয়ে আমাদের আলোচনা তাই একটি রাষ্ট্রের সীমানার চেয়ে বড়, যদিও বাংলাদেশের প্রকাশনা ও পাঠচর্চার নিজস্ব প্রয়োজনও রয়েছে।

বাংলাদেশের সাহিত্য থেকে সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর লালসালুর উদাহরণ দেওয়া যায়। লেখক নিজেই এর ইংরেজি রূপ তৈরি করেছিলেন Tree Without Roots নামে। সেটিকে সৃজনশীল পুনর্গঠন হিসেবেও আলোচনা করা হয়। নিজের রচনাই অন্য ভাষায় বলতে গিয়ে তাঁকে নতুন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।

সিদ্ধান্তগুলো কত সূক্ষ্ম, তা আমাদের দৈনন্দিন কথাতেই বোঝা যায়। বাংলা গল্পে ‘তুই’, ‘তুমি’ ও ‘আপনি’ সম্পর্কের ভিন্ন দূরত্ব প্রকাশ করে। ইংরেজির ‘you’-তে সেই পার্থক্য সরাসরি নেই। অনুবাদককে কথার ভঙ্গি বা অন্য ইঙ্গিত দিয়ে সম্পর্কটি বোঝাতে হয়।

একইভাবে ‘অভিমান’ সব বাক্যে শুধু রাগ কিংবা দুঃখ নয়। কে কার ওপর অভিমান করেছে, তাদের মধ্যে কী সম্পর্ক, সেটিও জানতে হয়। অভিধান অর্থ খুঁজতে সাহায্য করে। গল্পের মধ্যে কোন অর্থটি দরকার, সেই সিদ্ধান্ত নিতে হয় পুরো লেখা পড়ে।

বাংলা সাহিত্য ইংরেজিতে অনুবাদের অভিজ্ঞতা নিয়ে শবনম নাদিয়া চরিত্রের নাম, সামাজিক রীতি ও সম্পর্কের এমন সূক্ষ্ম ইঙ্গিতের কথা লিখেছেন। পাঠককে কতটা ব্যাখ্যা দেওয়া প্রয়োজন, আর কতটা দিলে গল্পের গতি থেমে যাবে, তা-ও অনুবাদককে ভাবতে হয়।

কারসনের সাফো-অনুবাদ এই মনোযোগের আরেকটি দিক সামনে আনে। সেখানে কবিতার অসম্পূর্ণতাও পাঠের অংশ। অনুবাদ সম্পর্কে এখান থেকে একটি কথা ভাবা যায়: মূল লেখার সব ফাঁক নিজের ব্যাখ্যা দিয়ে পূরণ করে দেওয়া অনুবাদকের কাজ নয়। লেখকের বিরতি, নীরবতা কিংবা অনিশ্চয়তাও কখনো বহন করতে হয়।

আজ এই কাজের সরঞ্জাম অনেক বদলেছে। ডিজিটাল অভিধান, অনলাইন গ্রন্থাগার ও একাধিক সংস্করণ পাশাপাশি দেখার সুযোগ অনুসন্ধান সহজ করেছে। দূরের লেখক বা গবেষকের সঙ্গে যোগাযোগও দ্রুত হয়েছে। কোনো শব্দের পুরোনো ব্যবহার কিংবা অপরিচিত সামাজিক রীতি সম্পর্কে জানার জন্য আগের মতো দীর্ঘ অপেক্ষা সব সময় প্রয়োজন হয় না।

যান্ত্রিক অনুবাদ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রাথমিক অর্থ বুঝতে বা খসড়া তৈরিতে সহায়তা করতে পারে। কিন্তু সাবলীল একটি বাক্য পাওয়া মানেই লেখকের স্বর পাওয়া নয়। ব্যঙ্গ, দ্ব্যর্থকতা, সাংস্কৃতিক ইঙ্গিত এবং দীর্ঘ রচনায় চরিত্রের ভাষা ঠিক থাকছে কি না, তা যাচাই করতে হয়।

ধরা যাক, অনেক অপমানের পর একটি চরিত্র বলল, ‘বেশ ভালোই হলো।’ বাক্যটি আলাদা করে পড়লে আনন্দের মনে হতে পারে। অথচ গল্পে তা চাপা ক্রোধ বা তিক্ততার প্রকাশ। অনুবাদে তার আগের ঘটনা ও সম্পর্কের টানাপোড়েনও বুঝতে হবে। প্রযুক্তি সাহায্য করুক, কিন্তু প্রকাশিত বাক্যের যথার্থতার দায় কাউকে নিতে হবে।

বাংলায় অনুবাদ প্রকাশের সময় পাঠকের কাছে বইটির পরিচয়ও পরিষ্কার থাকা প্রয়োজন। কোন ভাষা থেকে অনুবাদ হয়েছে, মধ্যবর্তী কোনো অনুবাদ ব্যবহার করা হয়েছে কি না, এটি পূর্ণাঙ্গ না সংক্ষিপ্ত সংস্করণ, এসব তথ্য কাজে আসে। সব ভাষার দক্ষ অনুবাদক পাওয়া সহজ নয় বলে মধ্যবর্তী ভাষার প্রয়োজন হতে পারে। সে ক্ষেত্রে উৎস জানানো ও যত্নশীল সম্পাদনা আরও গুরুত্বপূর্ণ।

অনুবাদককে যথেষ্ট সময়, ন্যায্য পারিশ্রমিক ও দৃশ্যমান স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টিও ভালো বই পাওয়ার সঙ্গে যুক্ত। কয়েকটি কঠিন পঙ্‌ক্তি নিয়ে যিনি দিনের পর দিন ভাবছেন, তাঁর শ্রমকে শুধু দ্রুত শব্দ বদলানোর কাজ মনে করলে পাঠক শেষ পর্যন্ত সেই অবহেলার ফল পান।

বাংলা সাহিত্যকে অন্য ভাষায় নেওয়ার ক্ষেত্রেও ধারাবাহিক যত্ন দরকার। পরিচিত কয়েকজন লেখকের পাশাপাশি কম আলোচিত লেখক ও ভিন্ন জীবনের অভিজ্ঞতা অনুবাদের সুযোগ পাক। শুধু পুরস্কার পাওয়ার প্রত্যাশায় নয়, আমাদের গল্প অন্যরা পড়বেন, সেই বিশ্বাস থেকেই কাজটি এগোনো প্রয়োজন।

অ্যান কারসনের নোবেল নতুন করে তাঁর দিকে পাঠকের চোখ ফিরিয়েছে। কিন্তু তাঁর অনুবাদকের পরিচয় আমাদের মনে করিয়ে দেয়, সাহিত্য অন্যের লেখা মন দিয়ে পড়া এবং সেই পাঠ ভাগ করে নেওয়ারও ইতিহাস। একজন লেখকের কাছে পৌঁছাতে আরেকজন মানুষের যত্ন লাগে।

শুরুর শিশুটির কাছে ফিরে গেলে সেই যত্নের প্রথম দৃশ্যটি দেখা যায়। কেউ তাকে অন্য ভাষার ছড়াটি বাংলায় বুঝিয়ে দিচ্ছেন। পরিচিত আকাশের দিকে তাকিয়ে সে এবার অপরিচিত কথাটিও ধরতে পারছে। বড় হয়ে এমন আরও কত কথার কাছে যাবে সে। এক মানুষের কথায় আরেক মানুষের সাড়া জাগবে।

তথ্যসূত্র: নোবেল পুরস্কারের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট; রয়টার্স; পোয়েট্রি ফাউন্ডেশন; পেঙ্গুইন র‍্যান্ডম হাউস; বুকার প্রাইজ; বাংলাপিডিয়া; গোলাম মোস্তফার অনূদিত শিকওয়া ও জবাব-ই-শিকওয়া; ওয়ার্ডস উইদাউট বর্ডার্স; ইউল্যাবের Crossings; CEATL; সংশ্লিষ্ট বাংলা অনুবাদগ্রন্থের প্রকাশনা-তথ্য।

আইরিন পারভিন খান
সহযোগী সম্পাদক, শুদ্ধস্বর ডটকম

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.