বুধবার (৩ জুন) ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে শুনানিকালে সোহেল রানা নিজের বক্তব্য উপস্থাপনের সুযোগ পান।
তখন তিনি আদালতের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে বলেন, তার একটি সন্তান রয়েছে এবং বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়ার অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, আমার একটা ছাওয়াল আছে, আমাকে ক্ষমা করে দেন স্যার।’
একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ঘটনার সঙ্গে ‘ডলার’ নামে আরেক ব্যক্তি জড়িত ছিলেন। আদালতে দেওয়া বক্তব্যে সোহেল বলেন, তিনি একা দায়ী নন এবং ওই ব্যক্তির ভূমিকাও তদন্তের আওতায় আনা উচিত। তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তিনি খালাস প্রার্থনা করেন।
মামলাটির বিচারিক প্রক্রিয়ায় এর আগে নিহত শিশু রামিসার পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী, প্রত্যক্ষদর্শী, চিকিৎসক এবং তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাসহ মোট ১৬ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন।
রাষ্ট্রপক্ষ সাক্ষ্য উপস্থাপন সম্পন্ন হওয়ার পর সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব শেষ করার আবেদন জানায়। আদালত সেই আবেদন গ্রহণ করে মামলাটিকে আত্মপক্ষ সমর্থনের ধাপে নিয়ে আসে।
গত ১৯ মে রাজধানীর পল্লবী এলাকার একটি বাসা থেকে আট বছর বয়সী রামিসার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর দেশব্যাপী ব্যাপক ক্ষোভ ও আলোড়নের সৃষ্টি হয়।
তদন্তের অংশ হিসেবে ওই বাসার বাসিন্দা সোহেল রানা ও তার স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তী সময়ে সোহেল আদালতে দেওয়া এক জবানবন্দিতে ধর্ষণ ও হত্যার দায় স্বীকার করেছিলেন বলে মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানি শেষ হওয়ার পর মামলায় উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হবে। এরপর আদালত রায় ঘোষণার জন্য দিন নির্ধারণ করবেন।
আলোচিত এ মামলার প্রতিটি ধাপ এখন জনমনে ব্যাপক আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে আদালতে সোহেল রানার সাম্প্রতিক বক্তব্য এবং নতুন করে আরেক ব্যক্তির নাম উল্লেখ করায় মামলাটিকে ঘিরে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত আদালতে উপস্থাপিত প্রমাণ, সাক্ষ্য এবং আইনগত প্রক্রিয়ার ভিত্তিতেই মামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ধারিত হবে।

