জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১ তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছে চীন, ভারত ও পাকিস্তান। ঢাকায় অবস্থিত চীনা দূতাবাস, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্কর এবং পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার পৃথক বার্তার মাধ্যমে এই অভিনন্দন ও সমর্থন জ্ঞাপন করেন।
ঢাকায় নিযুক্ত গণপ্রজাতন্ত্রী চীন দূতাবাসের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ড. খলিলুর রহমানের এই নির্বাচন আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের প্রতি বিশ্ব সম্প্রদায়ের গভীর আস্থা এবং বহুপাক্ষিকতাবাদ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে দেশটির গঠনমূলক ভূমিকার প্রতিফলন।
বিবৃতিতে চীন আশা প্রকাশ করে, নবনির্বাচিত সভাপতি ড. খলিলুর রহমান জাতিসংঘের সকল সদস্য রাষ্ট্রকে ঐক্যবদ্ধ করবেন, সার্বভৌম সমতা বজায় রাখবেন, আন্তর্জাতিক আইনের শাসন রক্ষা করবেন এবং সংলাপ ও আলোচনার সংস্কৃতিকে উৎসাহিত করবেন। একই সঙ্গে বহুপাক্ষিকতার ভিত্তি মজবুত করতে ড. খলিলুর রহমান কার্যকর ভূমিকা রাখবেন বলে চীন বিশ্বাস করে। তাঁর দায়িত্ব পালনে বেইজিং সব ধরনের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত বলেও বিবৃতিতে জানানো হয়।
এদিকে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্কর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে ড. খলিলুর রহমানকে উষ্ণ অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি তাঁর বার্তায় উল্লেখ করেন, জাতিসংঘের ৮১ তম সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে অভিনন্দন। দুই দেশের পারস্পরিক অংশীদারত্ব ও অভিন্ন অগ্রাধিকারগুলো এগিয়ে নিতে এবং বৈশ্বিক বহুপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদার করতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
জাতিসংঘের এই গুরুত্বপূর্ণ পদে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্বাচিত হওয়া এবং দুই প্রধান প্রতিবেশীর এই তাৎক্ষণিক সমর্থন বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের কূটনীতির এক বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দার ড. খলিলুর রহমানকে তাঁর ‘প্রিয় ভাই’ হিসেবে সম্বোধন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি আন্তরিক অভিনন্দন বার্তা পাঠিয়েছেন।
ইসহাক দার তার বার্তায় বলেন, ‘জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১ তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় আমার প্রিয় ভাই, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে জানাই আন্তরিক মোবারকবাদ।’ ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কাজ করার অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে তিনি অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে উল্লেখ করেন, ড. খলিলুর রহমানের বিশাল কূটনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং বহুপাক্ষিকতাবাদের প্রতি দৃঢ় প্রতিশ্রুতি সাধারণ পরিষদকে অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে পরিচালনা করতে পথ দেখাবে।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, বহুপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদার করতে, বৈশ্বিক অংশীদারত্বের বিষয়গুলো এগিয়ে নিতে এবং বিশ্বজুড়ে সংলাপ, শান্তি ও টেকসই উন্নয়ন উৎসাহিত করতে তিনি জাতিসংঘের ফোরামে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। একই সঙ্গে তিনি ড. খলিলুর রহমানের এই নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বের পূর্ণ সাফল্য কামনা করেন।

