পশ্চিমবঙ্গে বেআইনিভাবে অবস্থানরত কথিত বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের আদালতে না পাঠিয়ে সরাসরি সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ‘বিএসএফ’ হাতে হস্তান্তরের নির্দেশ দিয়েছেন রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অনুপ্রবেশ ঠেকাতে এবং অবৈধভাবে অবস্থানকারীদের ফেরত পাঠাতে পশ্চিমবঙ্গের নতুন সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে বলে জানা গেছে।
মঙ্গলবার (২৬ মে) এক প্রশাসনিক বৈঠক শেষে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সাংবাদিকদের জানান, অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের আদালতে পাঠানোর কোনো প্রয়োজন নেই এবং আইনেই তা বলা আছে। পুলিশ সরাসরি তাদের আটক করে বিএসএফের হাতে তুলে দেবে এবং বিএসএফ ভারত ও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যকার চুক্তি অনুযায়ী পরিচয় নিশ্চিত করে তাদের হস্তান্তর করবে।
অনুপ্রবেশকারীদের আর এ রাজ্যে রাখা হবে না বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘জেলে রেখে ৩ মাস বা ২ বছর ধরে ভারতীয়দের চাল, ডাল, মাছ, ডিম ও ওষুধ কেন এদের দেওয়া হবে?’ ভোট ব্যাংকের স্বার্থে এতদিন এই আইন কার্যকর করা হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার ভোট ব্যাংকের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের ও রাজ্যের স্বার্থে এই কঠোর আইন কার্যকর করছে।
বাংলাদেশের একটি সরকারি বক্তব্যের সূত্র ধরে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘ওই দেশের মুখপাত্র বলেছিলেন যে বাংলাদেশিদের ফেরত নেবেন। জলদি জলদি ভাগো, না হলে এই সরকার যা করার করবে।’ বিধানসভা ভোটের প্রচারে বিজেপি এই অনুপ্রবেশ ইস্যুটিকে বড় করে তুলে ধরেছিল এবং সরকার গঠনের পরপরই তারা এটি বাস্তবায়নে তৎপর হয়েছে।
ইতোমধ্যে স্বরাষ্ট্র দপ্তরের নির্দেশ অনুযায়ী আটক বা ডিপোর্টেশনের অপেক্ষায় থাকা বিদেশি নাগরিকদের জন্য জেলায় জেলায় ‘হোল্ডিং সেন্টার’ তৈরি শুরু হয়েছে। মালদার ইংরেজবাজারে প্রথম হোল্ডিং সেন্টার খোলার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এবার বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী মুর্শিদাবাদ জেলাতেও নতুন সেন্টার খোলা হয়েছে।
স্থানীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন সরকারের এই কঠোর অবস্থানের কারণে অবৈধভাবে ভারতে ঢুকে পড়া ব্যক্তিদের মধ্যে এখন বাংলাদেশে ফেরার তাড়া দেখা দিয়েছে। সোমবার ও মঙ্গলবার উত্তর ২৪ পরগনার হাকিমপুর চেকপোস্টে বাংলাদেশে ফিরে আসার অপেক্ষায় থাকা বহু মানুষের ভিড় লক্ষ করা গেছে।
সূত্র: এবিপি

