‘লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখর আরাফাতের ময়দান

‘লাব্বাইকা আল্লাহুম্মা লাব্বাইক। লাব্বাইকা লা শারীকা লাকা লাব্বাইক। ইন্নাল হামদা ওয়াননি’মাতা লাকা ওয়াল মুলক, লা শারীকা লাক।’—এই পবিত্র তালবিয়াহ পাঠ করে মহান আল্লাহর একত্ববাদ ও সার্বভৌমত্বের ঘোষণা দিয়ে আজ পবিত্র হজ পালন করছেন বিশ্বের ২০ লক্ষাধিক ধর্মপ্রাণ মুসলমান। শ্বেতশুভ্র ইহরামের কাপড়ে আবৃত হাজিরা আজ সমবেত হয়েছেন ঐতিহাসিক আরাফাতের ময়দানে, যা হজের মূল রোকন হিসেবে পরিচিত।

ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী, ‘আল-হাজ্জু আরাফাহ’ অর্থাৎ আরাফাতের ময়দানে অবস্থানই হলো হজ। আজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত এই ময়দানে অবস্থান করা হাজিদের জন্য আবশ্যক। এই ময়দানটি মানবজাতির আদি পিতা আদম (আ.) ও মা হাওয়া (আ.)-এর পৃথিবীতে পুনর্মিলনের স্মৃতিবিজড়িত। হাজিরা এখানে জাবালে রহমতের পাদদেশ ও মসজিদে নামিরার আশপাশে অবস্থান নিয়ে কান্নাকাটি ও দোয়ার মাধ্যমে মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা ভিক্ষা করছেন।

এ বছর হজের খুতবা প্রদান করবেন মসজিদে নববীর ইমাম ও খতিব শায়খ আলী বিন আবদুর রহমান আল-হুজাইফি। বিশ্বজুড়ে ইসলামের শান্তির বাণী পৌঁছে দিতে এবারও বাংলাসহ বিভিন্ন ভাষায় খুতবার সরাসরি অনুবাদ সম্প্রচার করা হচ্ছে। টানা সপ্তমবারের মতো বাংলা অনুবাদের দায়িত্বে রয়েছেন ড. মুহাম্মদ খলীলুর রহমানসহ মক্কার উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া বাংলাদেশি চারজন আলেম।

এ বছর মোট হজযাত্রীর সংখ্যা ২০ লাখ ছাড়িয়েছে, যার মধ্যে ১৫ লাখের বেশি এসেছেন সৌদি আরবের বাইরে থেকে। বাংলাদেশ থেকে এবার মোট ৭৯ হাজার ১৬৪ জন হজ পালন করছেন। বাংলাদেশি হাজিদের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় মনিটরিং করছেন ধর্মমন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খান। মন্ত্রীর ব্যক্তিগত উদ্যোগে মিনায় বাংলাদেশি হাজিদের জন্য পাঁচ হাজার প্যাকেট উন্নতমানের খাবার সরবরাহ করা হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থির পরিস্থিতি ও তীব্র দাবদাহের মধ্যেই পালিত হচ্ছে এবারের হজ। সৌদি আবহাওয়া দফতর হাজিদের সরাসরি সূর্যের আলো থেকে দূরে থাকতে এবং পর্যাপ্ত পানি পানের পরামর্শ দিয়েছে। বিশেষ করে সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত হাজিদের তাঁবুর ভেতরে থাকতে অনুরোধ করা হয়েছে। এছাড়া, মোয়াল্লিম ও স্বেচ্ছাসেবীরা হাজিদের সহায়তায় ঠান্ডা পানির স্প্রে ও ছাতা ব্যবহারের ব্যবস্থা করছেন।

আরাফাতের ময়দানে সূর্যাস্ত পর্যন্ত অবস্থানের পর হাজিরা মাগরিব না পড়েই মুযদালিফার উদ্দেশ্যে রওনা হবেন। সেখানে গিয়ে মাগরিব ও এশা একত্রে আদায় করবেন এবং খোলা আকাশের নিচে রাত্রিযাপন করবেন। সেখান থেকেই তারা শয়তানকে নিক্ষেপের জন্য পাথর সংগ্রহ করবেন। পরদিন ১০ জিলহজ মিনায় ফিরে গিয়ে বড় শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ, পশু কোরবানি ও মাথা মুণ্ডনের মাধ্যমে ইহরাম ত্যাগ করবেন।

সৌদি সরকার এবার ‘নুসুক’ কার্ড বাধ্যতামূলক করেছে। অনুমতিপত্র ছাড়া কেউ যেন হজে অংশ নিতে না পারে, সেজন্য মক্কার প্রবেশপথগুলোতে কঠোর তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
হাজিদের একটাই প্রার্থনা—গুনাহমুক্ত হয়ে যেন তারা বেগুনাহ মাসুম হিসেবে নিজ নিজ দেশে ফিরে যেতে পারেন। আল্লাহ তাআলা সকলের হজ কবুল করুন।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Discover more from শুদ্ধস্বর ডটকম

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading