রাজনীতির মঞ্চে সহিংসতার পুনর্জাগরণ , মুক্তির পথ কি ?

বাংলাদেশের রাজনীতি আবারও অস্থির সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশে একের পর এক বাসে আগুন, ককটেল বিস্ফোরণ, ভাঙচুর ও নাশকতা—এইসব ঘটনাগুলো নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। সংবাদমাধ্যম ও পর্যবেক্ষকদের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের কর্মী ও সমর্থকদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাচ্ছে।

একসময় ক্ষমতায় থেকে এ ধরনের সহিংসতার দায় বিরোধী দলের ওপর চাপাতো আওয়ামী লীগ। কিন্তু ক্ষমতার পালাবদলের পর এখন তারাই অভিযুক্ত। এই চক্রাকার রাজনীতির দায় থেকে কোনো দলই মুক্ত নয়—এটাই আজকের বাংলাদেশ রাজনীতির কঠিন বাস্তবতা।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে সহিংসতার পুনরাবৃত্তি নতুন নয়। ক্ষমতা হারানো দল প্রায়ই রাজপথে নামতে গিয়ে অবস্থান, মিছিল, হরতাল—এর আড়ালে সহিংসতার আশ্রয় নিয়েছে। এতে রাজনীতি হারিয়েছে তার আদর্শিক ভিত্তি, আর জনগণ হারিয়েছে নিরাপত্তা ও আস্থা।

“যে দলই ক্ষমতায় থাকুক, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন করতে সহিংসতা ব্যবহার—এটি এখন এক ভয়ংকর রাজনৈতিক অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।”

এই অভ্যাসের মূল ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ। কর্মজীবী শ্রেণি, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী—প্রতিদিন ভয়ে থাকে, কখন কোথায় আগুন লাগবে বা রাস্তায় ঝুঁকি আসবে।

জনগণের প্রত্যাশা: শান্তি, স্থিতিশীলতা, ন্যায়

বাংলাদেশের মানুষ রাজনীতির সহিংস প্রতিযোগিতা নয়—চায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা। তারা চায় মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, তবে সেই স্বাধীনতা যেন বোমা বা ককটেলের শব্দে রূপ না নেয়। জনগণ চায়, রাজনৈতিক দলগুলো জনগণের স্বার্থে প্রতিযোগিতা করুক, কিন্তু সন্ত্রাসের মাধ্যমে নয় ।

সরকারকে রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে সন্ত্রাস ও সহিংসতার বিরুদ্ধে কঠোর হতে হবে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্তভাবে কাজের সুযোগ দিতে হবে।

রাজনৈতিক সংলাপ ও পুনর্মিলন

সংলাপই সংকট নিরসনের একমাত্র গণতান্ত্রিক উপায়। মতবিরোধ থাকবেই, কিন্তু তা যেন রক্তপাত বা ভাঙচুরে পরিণত না হয়

স্বাধীন গণমাধ্যম ও নাগরিক সংগঠনগুলোকে সাহসী ভূমিকা নিতে হবে, যাতে সত্য প্রকাশিত হয় এবং অপপ্রচার দমন হয়

অতীত ও বর্তমানের সকল সহিংসতার দায়ীদের দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে রেখে আইনের মুখোমুখি করতে হবে। প্রতিহিংসা নয়, ন্যায়বোধই হতে হবে পথনির্দেশক।

বাংলাদেশ আজ এক সংবেদনশীল সময়ের মধ্যে রয়েছে। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়—সহিংসতা কখনোই কারও বিজয় আনতে পারেনি, বরং রাষ্ট্র ও সমাজের ক্ষতই গভীর করেছে।

এখন সময় এসেছে নতুন অধ্যায় শুরু করার—সংলাপের, শ্রদ্ধার, ও শান্তির রাজনীতি গড়ে তোলার। জনগণ চায় নিরাপদ বাংলাদেশ, যেখানে ভয়ের বদলে থাকবে আস্থা, এবং আগুনের বদলে জ্বলবে আলোর প্রদীপ।

লেখক: হাবিব বাবুল
প্রধান সম্পাদক, শুদ্ধস্বর ডটকম  । 

 

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.