জার্মানির ঐতিহ্যবাহী শহর ফ্রাঙ্কফুর্টে শুরু হয়েছে পাঁচ দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক বইমেলা, যেখানে এ বছরও প্রাণবন্ত উপস্থিতি নিয়ে অংশগ্রহণ করেছে বাংলাদেশ। উদ্বোধন করা হয় বাংলাদেশের নিজস্ব প্যাভিলিয়ন, যার ফিতা কেটে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করেন জার্মানিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ জুলকারনাইন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টার পরামর্শদাতা অধ্যাপক ফয়জুল লতিফ চৌধুরী এবং জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক মিসেস আফসানা বেগম। আন্তর্জাতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের উপস্থিতিতে প্যাভিলিয়ন মুহূর্তেই হয়ে ওঠে বৈশ্বিক সংস্কৃতির এক মিলনমেলা। উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের পুরস্কারপ্রাপ্ত বক্তা ও লেখক ড. রবিন গ্যাদারস, ইউক্রেনের উদীয়মান লেখক মারিয়া মানকো এবং যুক্তরাজ্য, চীন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের খ্যাতনামা প্রকাশকবৃন্দ।
বাংলা ভাষার প্রতি বিদেশি লেখক ও প্রকাশকদের আগ্রহ ছিল লক্ষণীয়। অনেকে নিজস্ব গ্রন্থ বাংলায় অনুবাদ করে বাংলাদেশে প্রকাশ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। উদ্বোধনের পরপরই বাংলাদেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে একাধিক ফলপ্রসূ বৈঠকে বসে মার্কিন প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান মেরিয়াম-ওয়েবস্টার এবং চীনের বেইজিং লেশাংহুয়াক্সিং ইন্টারন্যাশনাল কালচারাল ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড। আলোচনায় উঠে আসে তাদের প্রকাশনাগুলো বাংলায় অনুবাদের উদ্যোগ, বাংলাদেশে বই বিতরণ এবং ভবিষ্যতে বাংলাদেশের মাটিতে তাদের বই মুদ্রণের আশাব্যঞ্জক পরিকল্পনা।
প্যাভিলিয়নে আগত দেশি-বিদেশি অতিথিদের আপ্যায়নে পরিবেশন করা হয় বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী খাবার, যা স্বাদে-গন্ধে মুগ্ধ করে সকলকেই।
সংস্কৃতি ও সাহিত্য বিনিময়ের এই বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের এমন সক্রিয় ও সম্মানজনক উপস্থিতি নিঃসন্দেহে জাতির সৃজনশীল অগ্রযাত্রার এক অনুপ্রেরণাময় দৃষ্টান্ত।

