প্রকাশনায় অদৃশ্য নারী : ফ্রাঙ্কফুর্ট বইমেলায় নারীর অবদান দৃশ্যমান করার আহ্বান

প্রকাশনা জগতের অসংখ্য সাফল্যের আড়ালে থেকে যায় এমন এক শক্তিস্বর — নারী। তাঁরা অনুবাদক, সম্পাদক, গবেষক, বিপণনকর্মী কিংবা প্রকাশক—বিভিন্ন ভূমিকায় নিরলস শ্রম দিলেও প্রায়শই তাঁদের পরিচয় থাকে অদৃশ্য। সেই অদৃশ্যতাকে দৃশ্যমান করতেই ফ্রাঙ্কফুর্ট বইমেলার প্রথম দিনে আয়োজন করা হয় বিশেষ সেমিনার “Unseen Women in Publishing” বা ‘প্রকাশনায় অদৃশ্য নারী’ শীর্ষক আলোচনা।

আলোচনাটি সঞ্চালনা করেন আন্তর্জাতিক প্রকাশনা পরামর্শক ও ওরহ্যাম গ্রুপের এমা হাউস। প্যানেলে যোগ দেন বৈশ্বিক প্রকাশনা অঙ্গনের প্রভাবশালী চার নারী:

এলেনা পাসোলি — পরিচালক, কালচার বি.ইউ. ও বোলোনিয়া চিলড্রেনস বুক ফেয়ার; PublisHer পরামর্শক বোর্ড সদস্য

ট্রেসি আর্মস্ট্রং — সভাপতি ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, কপিরাইট ক্লিয়ারেন্স সেন্টার

মিতিয়া ওসমান — প্রধান নির্বাহী ও প্রকাশক,  শিশুতোষ প্রকাশনা সংস্থা ময়ূরপঙ্খি

সুজান কোলিয়ার — লেখক, প্রতিষ্ঠাতা ও ক্যারিয়ার পরামর্শক

আলোচকরা একমতবাক্যে বলেন—নারীদের সৃজনশীলতা ব্যবহৃত হয়, কিন্তু তাঁদের পরিচিতি অনেক সময় নিশ্চুপে আড়াল করে রাখা হয়। বিশেষত শিশুতোষ সাহিত্য, কপিরাইট ব্যবস্থাপনা কিংবা সম্পাদনার মতো ক্ষেত্রগুলোতে নারীরা সংখ্যায় এগিয়ে থাকলেও সিদ্ধান্ত গ্রহণের আসনে তাঁদের উপস্থিতি এখনও সীমিত।

বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত মিতিয়া ওসমান বলেন, “বাংলাদেশের প্রকাশনায় নারীরা এগিয়ে আসছেন ঠিকই, কিন্তু তাঁদের কাজকে স্বীকৃতি দেওয়ার মতো কাঠামো এখনও গড়ে ওঠেনি। আমাদের লড়াই কেবল অংশগ্রহণের নয়—দৃশ্যমানতা ও সম্মানের।”

প্যানেল থেকে বেশ কয়েকটি সুপারিশ উঠে আসে—

নারীদের কাজের স্বচ্ছ নথিভুক্তি ও ক্রেডিট নিশ্চিত করা,

প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানে নেতৃত্বের আসনে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করা,

এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে নারীকেন্দ্রিক প্রকাশনা উদ্যোগকে সংযুক্ত করা

সেমিনারের শেষাংশে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়—এই আলোচনা কেবল এক দিনের নয়; এটি ভবিষ্যৎ প্রকাশনা শিল্পের দিকনির্দেশক আন্দোলন। অদৃশ্য শ্রম নয়, দৃশ্যমান সম্মান—এটাই আগামী দিনের প্রতিশ্রুতি।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.