সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণ ইস্যুতে ব্যক্তি উদ্যোগে বিএনপির কোনো নেতা নির্বাচন কমিশনে আবেদন করতে পারবেন না। যদি কারও কোনো বক্তব্য থাকে দলকে আগে জানাতে বলা হয়েছে। এজন্য দলটির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। শুদ্ধস্বর ডটকমের প্রধান সম্পাদক হাবিব বাবুলকে জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ।
গত বৃহস্পতিবার রাতে গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে (ভার্চুয়ালি) এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
দ্বাদশ সংসদের আড়াই শতাধিক আসনের সীমানা বহাল রেখে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গত বুধবার সীমানা পুনর্নির্ধারণের খসড়া প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। খসড়ায় বাকি আসনগুলোতে ছোটখাটো পরিবর্তন আনার প্রস্তাব করে আগামী ১০ আগস্টের মধ্যে দাবি-আপত্তি জানানোর সুযোগ রাখা হয়েছে। এই ইস্যুতেই স্থায়ী কমিটি বৈঠক আহ্বান করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান।
বৈঠক সূত্রে জানা যায়, ইসি খসড়া প্রকাশের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে দলীয় নেতাকর্মীরা ক্ষোভ-বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। কোথাও কোথাও আবেদন করারও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
স্থায়ী কমিটির নেতারা মনে করেন, এভাবে চলতে থাকলে নিজেদের মধ্যে সংঘাতও হতে পারে। এই পরিস্থিতি এড়াতে দলের যার যে বক্তব্য তা কেন্দ্রীয়ভাবে শোনা হবে। এজন্য দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, সীমানা নির্ধারণ বিষয়ে দলের যার যে বক্তব্য নজরুল ইসলাম খানকে জানাবেন। তিনি সবার কথা শোনার পর দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলাপ করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবেন।
বৈঠক সূত্র জানায়, ইসির সীমানা পুনর্নির্ধারণের খসড়া নিয়ে দলীয় অবস্থান তুলে ধরে বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য বলেন, যেসব এলাকায় সংসদীয় সীমানা পুননির্ধারণের ব্যাপারটি ঠিকমতো হয়নি, বিভিন্ন অসঙ্গতি রয়ে গেছে- সেগুলোর ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনে দরখাস্ত দেওয়া হবে। নতুন সীমানায় কোনো এলাকার জনগণের অসুবিধা-সমস্যা হলে, সেই এলাকার জনগণই দরখাস্ত দেবে- যাকে বলে গণপিটিশন।
বিএনপির স্থানীয় নেতা কিংবা ধানের শীষের সম্ভাব্য প্রার্থীর তত্ত্বাবধানে এটা করা হবে। তবে তা কেন্দ্রীয়ভাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাকে আগে অবহিত করতে হবে। অর্থাৎ কেন্দ্রের সঙ্গে সমন্বয় করে করতে হবে।

