আজ তিনি বলিউডের ‘বাদশা’। নামের সঙ্গে জুড়ে আছে কোটি কোটি টাকার পারিশ্রমিক, বিলাসবহুল জীবন, মন্নতের মতো স্বপ্নের বাড়ি এবং পৃথিবীজোড়া খ্যাতি। কিন্তু শাহরুখ খানের জীবনের শুরুর দিনগুলো মোটেই এতটা ঝলমলে ছিল না। বরং তাঁর জীবনে এমন অনেক মুহূর্ত এসেছে, যখন ভবিষ্যৎটা ঠিক কোন দিকে যাবে, তা তিনিও জানতেন না। তেমনই এক পুরনো ঘটনা ফের সামনে এসেছে, আজমের শরিফে গিয়ে মাত্র ৫ হাজার টাকা হারিয়েছিলেন শাহরুখ। আর সেখানেই এক ফকির তাঁকে এমন একটি কথা বলেছিলেন, যা বহু বছর পরে গিয়ে অবিশ্বাস্যভাবে সত্যি বলে মনে হয়েছিল।
ঘটনাটি শাহরুখের অভিনয়জীবনের শুরুর দিকের। অসুস্থ মা লতিফ ফাতিমা খানকে নিয়ে আজমের শরিফে গিয়েছিলেন অভিনেতা। সেই সময় তিনি আজকের ‘কিং খান’ নন, বরং নিজের জায়গা তৈরি করার লড়াইয়ে থাকা এক তরুণ। আজমের শরিফে থাকাকালীন তাঁর ৫ হাজার টাকা হারিয়ে যায়। স্বাভাবিকভাবেই বিষয়টি তাঁকে বেশ বিচলিত করেছিল।
নেশার ঘোরে অন্য মেয়ের ঘনিষ্ঠ টলি নায়ক! তারপর?
সেই সময়ই এক ফকিরের সঙ্গে তাঁর দেখা হয়। শাহরুখকে সান্ত্বনা দিয়ে ওই ফকির নাকি বলেছিলেন, ভবিষ্যতে তিনি বিপুল অর্থ উপার্জন করবেন, এমনকি একদিন তাঁর আয় ৫০০ কোটি টাকায় পৌঁছবে। শুনে শাহরুখ খুব একটা বিশ্বাস করেননি। কারণ তখন তাঁর সামনে ছিল অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ, সংগ্রাম আর নিজের পরিচয় তৈরি করার কঠিন লড়াই।
বহু বছর পরে সেই ঘটনার কথা নিজেই স্মরণ করেছিলেন শাহরুখ। তাঁর বক্তব্য ছিল, তিনি এ ধরনের ভবিষ্যদ্বাণী বা অলৌকিক বিষয়ে বিশ্বাস করেন না। কিন্তু সেই সঙ্গে মেনে নিয়েছিলেন, সেই ফকিরের কথা শেষ পর্যন্ত সত্যি হয়েছিল। তাঁর নিজের ভাষায়, তিনি বিশ্বাস না করলেও ওই মানুষটি ‘ঠিক’ ছিলেন।
শাহরুখের জীবনের সঙ্গে এই ঘটনাটি তাই শুধুমাত্র কোনও অলৌকিক ভবিষ্যদ্বাণীর গল্প নয়। বরং এটি তাঁর দীর্ঘ পথচলারও একটি প্রতীক। দিল্লি থেকে মুম্বই এসে টেলিভিশন দিয়ে অভিনয়জীবন শুরু করা সেই তরুণই পরবর্তীতে বলিউডের অন্যতম প্রভাবশালী তারকা হয়ে ওঠেন। একের পর এক সফল ছবি, বিপুল ব্যবসা এবং বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তা তাঁকে এমন জায়গায় নিয়ে যায়, যা হয়তো তাঁর সংগ্রামের সময় কল্পনা করাও কঠিন ছিল।
আজ শাহরুখের নাম শুনলেই যে বিপুল সম্পদ ও সাফল্যের ছবি চোখে ভাসে, তার পিছনে রয়েছে দীর্ঘ কয়েক দশকের পরিশ্রম। আর তাই আজমের শরিফের সেই ৫ হাজার টাকা হারানোর ঘটনা যেন তাঁর জীবনের এক অদ্ভুত ‘ফ্ল্যাশব্যাক’ যেখানে একজন তরুণ অভিনেতার অনিশ্চিত ভবিষ্যৎকে ঘিরে করা একটি ভবিষ্যদ্বাণী বহু বছর পরে নতুন অর্থ পায়।
শাহরুখ নিজে ভবিষ্যদ্বাণীতে বিশ্বাস করেন না ঠিকই। কিন্তু তাঁর জীবনই যেন প্রমাণ করে দিয়েছে, কখনও কখনও বাস্তবের গল্প কল্পনার চেয়েও বেশি অবিশ্বাস্য হতে পারে।

