মক্কায় হুথিদের ড্রোন হামলা চেষ্টার দাবি সৌদি আরবের

ইসলামের পবিত্রতম নগরী মক্কার উপকণ্ঠে হুথি বিদ্রোহীরা ড্রোন হামলার চেষ্টা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে সৌদি আরব। তবে ড্রোনটি ভূপাতিত করা হয়েছে বলে জনিয়েছে তারা।

মঙ্গলবারের এ ঘটনায় ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আঞ্চলিকভাবে নিন্দার ঝড় উঠেছে। মার্কিন বার্তাসংস্থা সিএনএনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।

সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট বাহিনীর মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি জানিয়েছেন, প্রায় এক দশক পর হুথিরা মক্কাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর চেষ্টা করেছে। ২০১৭ সালে মক্কা অভিমুখে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছিল। তবে রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হুথি কর্মকর্তারা মক্কাকে লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছেন।

মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্মস্থান পবিত্র মক্কা নগরী। বিশ্বের মুসলমানদের জন্য এটি সবচেয়ে পবিত্র স্থানগুলোর একটি। সামর্থ্যবান মুসলমানদের জীবনে অন্তত একবার পবিত্র হজ পালন করা ফরজ এবং প্রতিবছর লাখ লাখ মানুষ মক্কায় সমবেত হন।

আল-মালিকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, মক্কার দিকে এ ধরনের ‘শত্রুতামূলক প্রচেষ্টা’ কোটি কোটি মুসলমানের ধর্মীয় অনুভূতিতে উসকানি দেওয়ার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।

৫৭ সদস্যের সংগঠন অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশন (ওআইসি) ঘটনাটির নিন্দা জানিয়েছে। সংগঠনটি বলেছে, পবিত্র স্থান ও মসজিদগুলোর মর্যাদা লঙ্ঘন এবং নিরীহ বেসামরিক মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে এমন যেকোনো হামলা গ্রহণযোগ্য নয়।

সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবের বিভিন্ন শহরে হুথিদের হামলা বেড়েছে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে খামিস মুশাইত, আবহা ও তাইফসহ কয়েকটি শহরে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়। এসব হামলায় ১৩ জন বেসামরিক নাগরিক আহত হন। রোববার সৌদি সামরিক ঘাঁটিতে হামলার দায়ও স্বীকার করে হুথিরা।

অন্যদিকে হুথিদের দাবি, গত শনিবার ও মঙ্গলবার সৌদি বাহিনী ইয়েমেনে হুথি-নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন এলাকায় বিমান হামলা চালিয়েছে।

ইয়েমেনে সৌদি-সমর্থিত সরকারের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক সময়ে সামরিক তৎপরতা আরও জোরদার করেছে হুথিরা। গত সপ্তাহে তারা লোহিত সাগরের একটি বন্দরনগরী এবং গুরুত্বপূর্ণ একটি নৌপথের কাছে অবস্থিত একটি দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দাবি করে। ওই নৌপথটি কয়েক মাস ধরে হরমুজ প্রণালির বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে এবং সৌদি আরবের তেল ও পরিশোধিত জ্বালানি রপ্তানিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলের ওপর হুথিদের নিয়ন্ত্রণ বাড়ায় মধ্যপ্রাচ্যের তেল সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগও বেড়েছে। একই সময়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংঘাত অব্যাহত রয়েছে।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.