ড্রোন হামলা ঠেকানোর পর মক্কা ঘিরে নিরাপত্তা বৃদ্ধি করল সৌদি আরব

ইয়েমেন থেকে সৌদি আরবে উড়ে আসছে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র। শুধু তা-ই নয়, ড্রোন হামলাও চলছে। এমনই দাবি করেছে সৌদি আরব। রিয়াধ এ-ও জানিয়েছে, মক্কার কাছে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথির ছোড়া ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছে। তার পরেই আকাশপথে হামলার সতর্কতা জারি করা হয় মক্কায়। ইতিহাসে প্রথম বার এমন ঘটনা প্রত্যক্ষ করল মক্কা।

সাম্প্রতিক দিনগুলিতে বার বার হুথিদের নিশানা হয়েছে সৌদি আরব। ৮ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ সৌদির চারটি এলাকাকে নিশানা করে হুথি গোষ্ঠী। সেগুলি হল, আভা, খামিস মুশাইত, জ়াজান এবং নাজ়রান। হামলার সময় ইয়েমেনের বিদ্রোহীদের ছোড়া ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ‘ফিদায়েঁ’ ড্রোনে কেঁপে ওঠে ওই সমস্ত অঞ্চল। ক্ষতিগ্রস্ত হয় একাধিক বেসামরিক আর্থিক পরিকাঠামো। শুধু তা-ই নয়, তৈলক্ষেত্রেও ধরে যায় আগুন। ঘটনায় আহত হন নারী ও শিশু-সহ মোট ৭৩ জন আমনাগরিক। মঙ্গলবারও হুথিদের হামলায় ১৩ জন জখম হয়েছেন। তার পরেই মক্কায় বিমান হামলার সতর্কতা জারি করেছেন স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

সৌদির প্রতিরক্ষা দফতরের তরফে সতর্কতা জারি করে জানানো হয়েছে, ‘‘নিরাপত্তার জন্য নির্দেশিকা মেনে চলুন। জনসমাগম থেকে আপাতত দূরে থাকুন।’’ তবে একই সঙ্গে এ-ও বার্তা দেওয়া হয়েছে, মক্কায় ‘বিপদ কেটে’ গিয়েছে। তবে সতর্কতা হিসেবে নির্দেশিকা মেনে চলার বার্তা দিয়েছেন সৌদি কর্তৃপক্ষ।

সৌদি দাবি করে, মক্কার কাছে ড্রোন হামলা চালিয়েছে হুথি। যদিও ওই সশস্ত্র গোষ্ঠীর তরফে এই দাবি প্রত্যাখ্যান করা হয়। জানায়, তারা কখনওই মক্কাকে লক্ষ্যবস্তু করেনি। হুথি নেতা হাজ়েম আল-আসাদ জানান, মক্কা লক্ষ্য করে হামলা চালানোর অভিযোগ বার বার করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ অসত্য। এই সব বলে আর মানুষকে বোকা বানানো যাবে না। হুথি পাল্টা এ-ও দাবি করে, তারা সৌদির একটি যুদ্ধবিমান নামিয়েছে। যদিও হুথির এই দাবি প্রসঙ্গে সৌদি এখনও পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

সৌদির সেনাবাহিনীর সঙ্গে হুথিদের লড়াই চলছে। ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এই লড়াই তীব্রতর হয়েছে। সৌদির বিরুদ্ধে সমুদ্রপথে অবরোধ ঘোষণা করে হুথি, যার ফলে উত্তেজনার পারদ কয়েক গুণ চড়ে যায়।

হুথির হামলার নিন্দা করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ় শরিফ। এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘‘সার্বভৌমত্ব রক্ষায় পাকিস্তান সর্বদা সৌদি আরবের পাশে রয়েছে।’’ একই সঙ্গে সংযমের বার্তাও দেন শাহবাজ়। অন্য দিকে, পশ্চিম এশিয়ায় নতুন করে উত্তেজনা শুরু হওয়ায় সৌদি আরবে ভ্রমণের ক্ষেত্রে মার্কিন নাগরিকদের সতর্কতা অবলম্বনের কথা বলেছে আমেরিকা। সেই সঙ্গে ইয়েমেনে ভ্রমণ না-করার পরমার্শই দিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.