সিলেটে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি

 

facebook sharing button
twitter sharing button
skype sharing button

সুনামগঞ্জে নদ-নদীর পানি কিছুটা কমলেও হাওর এলাকায় বন্যার পানি হু হু করে বাড়ছে। বুধবার সুরমা নদীর পানি প্রবাহিত হচ্ছে ৪০ সে.মি উপর দিয়ে। মঙ্গলবার রাতে বৃষ্টি কম হলেও ভোর থেকে বৈরী আবহাওয়ায় মুষলধারে বৃষ্টিপাত হচ্ছে। বৃষ্টি এবং ধমকা বাতাসে হাওরে বড় বড় ঢেউয়ে হাওর এলাকা বাড়ি ঘর তছনছ করে দিচ্ছে। সুনামগঞ্জ পৌর শহরের নতুন পাড়া, শান্তিবাগ, ধোপাখালী, বাঁধনপাড়া, বলাকা, মোহাম্মদপুর, ষোলঘর, নবীনগর, কাজীর পয়েন্ট সহ বিভিন্ন এলাকায় পানি বেড়েছে। পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নীচু এলাকার মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে ছুটছেন। গতকাল থেকেই অনেকে আশ্রয় কেন্দ্রে উঠেছেন। সবার চোখে মুখে ২০২২ সালের ভয়াবহ বন্যার আতংক। সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। হাওর এলাকার বাড়ী ঘরের আঙ্গিনায় পানি ছুঁইছুঁই করছে।

পশু সহ পরিবার পরিজন নিয়ে বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে ছুটছেন তারা। এদিকে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড। এতে পরিস্থিতি আরও অবনতি হওয়ার আশংকা করছেন স্থানীয়রা। অব্যাহত পাহাড়ি ঢলে জেলার ছাতক, দোয়ারাবাজার, শান্তিগঞ্জ, জগন্নাথপুর, তাহিরপুর, বিশ্বম্ভরপুর, মধ্যনগর, দিরাই, শাল্লা, জামালগঞ্জ উপজেলার গ্রামের পর গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। তবে এ বন্যায় বেশী এফেক্টেড হয়েছে ছাতক দোয়ারাবাজার, সদর উপজেলা। 

সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসনের সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত জেলার দু’টি পৌরসভাসহ ৭৭ ইউনিয়নের ৭৮১ টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বন্যাকবলিত লোক সংখ্যা প্রায় ৭০ হাজার। বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় ৭ হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। এরমধ্যে ছাতক উপজেলায় ৫ হাজার।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার জানিয়েছেন, পানি সুনামগঞ্জ পৌর শহরের ষোলঘর পয়েন্টে বিপদসীমার ৪০ সে.মি. উপর দিয়ে সুরমা নদীর পানি প্রবাহিত হচ্ছে। ছাতক উপজেলায় বিপদসীমার ১৪৬ সে.মি উপর দিয়ে সুরমা নদীর পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়াও দিরাই উপজেলায় ১৬ সে.মি বা উপর দিয়ে সুরমা নদীর পানি প্রবাহিত হচ্ছে। গত ২৪ ঘন্টায় সুনামগঞ্জে ১০০ মি.মি, লাউড়ের গড়ে ৭৮ মি.মি, ছাতকে ৮৪ মি.মি এবং দিরাইয়ে ৭৭ মি.মি বৃষ্টিপাত হয়েছে। নদীর পানি কমলেও বর্ষণ অব্যাহত থাকায় হাওর এলাকায় পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে।

সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রাশেদ ইকবাল বলেন, ‘বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সুনামগঞ্জ জেলায় ৫৩১টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। বেশ কিছু আশ্রয়কেন্দ্রে লোকজন ইতোমধ্যে এসেছেন। যারা আশ্রয়কেন্দ্রে এসেছেন তাদের খাদ্য সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। ছাতক, দোয়ারাবাজার, বিশ্বম্ভরপুর ও জগন্নাথপুরে ৫ টন করে জি.আর চাল দেয়া হয়েছে। ৬০০ টন জি. আর চাল মজুদ রয়েছে। শুকনো খাবার, শিশু খাদ্য ও গো-খাদ্যের জন্য আমরা মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করেছি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন উপজেলায় নগদ ১০ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে।

messenger sharing button
viber sharing button
whatsapp sharing button

 

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.